আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখার মন্ত্রটা যখন পেয়েছি, তত দিনে রুদ্র ঘর বেঁধে ফেলেছে আকাশেরই ঠিকানায়। আর আমি মাত্র রাঙা কৈশোরের দিকে হাঁটছি, পথ পুরোটা ফুরোয়নি। কেবল ‘খোলসের আবরণে মুক্তোর সুখ’ লুকানো শিখে ফেলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেই তখন থেকেই ‘ভালো আছি বা ভালো থেকো’ বলার জন্য আকাশকেই বেছে নিয়েছিলাম একমাত্র ঠিকানা হিসেবে। আর এখন এই চটজলদি বার্তার যুগে তো সবার সঙ্গে সম্পর্কগুলোই হয় খুব পানসে; নয় অকারণে জটিল। সম্পর্কগুলোই যেখানে অস্থির, চিঠি লেখা সেখানে পুরোটাই এক বাহুল্য অথবা সংকোচ। ঠিকানাই–বা জানি কজনের? আর ডাকপিয়নই–বা কই যে পরম মমতায় এই চিঠি পৌঁছে দেবে কারও গন্তব্যে? তারপরেও একটা চিঠি লিখতে মন চাইল। কী আশ্চর্য চিঠি লেখার মতো কেউ কোথাও নেই। কারও আর সময় নেই, একটা চিঠির অপেক্ষায় থাকবে। যত্ন করে হলুদ খামটা ছিঁড়ে আস্তে আস্তে ভাঁজ খুলে মেলে ধরবে কারও কথার মালায় সাজানো এক টুকরো কাগুজে বায়োস্কোপ।
যে একটি নগরে দুজন থাকাটাই ছিল একটিমাত্র সুখ। সেই সুখের খঞ্জনা ছেড়ে এত দূরে এসে দেখি, বহু কিছুর ভিড়ে সুখ এখানে কেবলই শূন্য। এ এক শূন্য সুখের শহর।সে বাস্তবে কেউ থাকুক বা না থাকুক, আমার কল্পনার রুদ্রকে লিখতে বাধা কই? সে পড়ুক বা না পড়ুক, এই উদয়পদ্মের শহর থেকে না হয় একদিন এই চিঠি পৌঁছে যাবে তার আকাশের ঠিকানায়। যে শহরে এত দিন কাছাকাছি থেকেও ‘কত দিন দেখা হয়নি’ আমাদের প্রধানতম আক্ষেপ। সে শহর ছেড়ে হাজার মাইল দূরে আসার পর মনে হলো, চাক্ষুস না হোক, কাগজে–কলমে অন্তত দেখাটা হোক। ফুল, পাখি আর মিষ্টি বকুলের জন্য ‘ভিতরে বাহিরে অন্তরে অন্তরে’ রাখা শুভকামনা পৌঁছে যাক আমাদের অঞ্জনা নদীতীরের খঞ্জনা গ্রামের মতো নগরে। যে একটি নগরে দুজন থাকাটাই ছিল একটিমাত্র সুখ। সেই সুখের খঞ্জনা ছেড়ে এত দূরে এসে দেখি, বহু কিছুর ভিড়ে সুখ এখানে কেবলই শূন্য। এ এক শূন্য সুখের শহর।
নিউইয়র্ক শহরে প্রথমবার এসেছিলাম ঠিক বছর দশেক আগে। সারা দিনের জন্য। সেদিন একঝলক দেখে মনে হয়েছিল একে উদয়পদ্মের শহর। সেদিন যে এসেছিলাম, আসার কথা ছিল তারও বছর দুয়েক আগে একটু লম্বা সময়ের জন্য, একটা ফেলোশিপ নিয়ে। কিন্তু ওই যে, মায়া, খঞ্জনার সুখ। শেষ মুহূর্তে মায়ায় পড়ে আর আগানো হলো না। তবে মনে রয়ে গিয়েছিল। সে সময় এলে কোথায় আবাস হতো, কোথায় অফিস হতো, সে ছবিগুলো মনের ভেতর রয়ে গিয়েছিল বলেই সেবার দিন ভ্রমণে আসা।
নিউইয়র্ক শহরে প্রথমবার এসেছিলাম ঠিক বছর দশেক আগে। সারা দিনের জন্য। সেদিন একঝলক দেখে মনে হয়েছিল একে উদয়পদ্মের শহর। সে সময় এলে কোথায় আবাস হতো, কোথায় অফিস হতো, ভেবে দিন ভ্রমণে আসা।এবার যখন এলাম, শরীরটা এল বটে, মনটা রয়ে গেল আমার সেই মায়া জড়ানো, স্মৃতি মাখানো ছোট্ট বসতঘরেই। যে ঘরের পরতে পরতে জমা ধূলিও আমার চেনা, আপন। যে ঘরের জানালার পর্দাটা, দরজার চৌকাঠটা, বেসিনের আয়নাটাতেও গল্প লেগে আছে। আমাদের নিজস্ব গল্প। সেই সব অজস্র গল্পকে তালাবন্ধ করে যখন এ শহরে পৌঁছালাম, তখন শহরজুড়ে ফুটে আছে রংবেরঙের টিউলিপ। আর টিউলিপ থেকে চোখ তুলে তাকালেই সাদা গোলাপি চেরিতে তখন মোহনীয় বসন্ত। যেন ফুলের শহর। চেরি ঝরার সময় দ্রুতই চলে এল, চেরি যখন যাই যাই করছে, তখন দেখি লাল ইটের বাড়িগুলোর ফ্রন্ট ইয়ার্ডে মানুষসমান উঁচু ঝোপে ঢেলে ফুটে আছে বাগানবিলাসের মতো একটা লাল গোলাপি ফুল। কোথাও–বা লম্বা গাছে ফুটেছে সাদা ঝিরঝিরে ফুল, যার গন্ধে মনে পড়ে হাস্নাহেনার কথা। অথচ এদের কারও নাম জানি না। এদের সঙ্গে দেখাই যে হলো প্রথমবার। ঘরের কাছে পার্কে হাঁটতে গেলে দেখি বকুল ফুলের মতো ফুল ফুটেছে। সে-ও আমার অচেনা। তবে চেনা ফুলও পেয়েছি, যার নাম গোলাপ। চেরি আর টিউলিপ যেই না উধাও হলো, সেই একেবারে উজাড় করে ফুটে উঠল গোলাপ। এখানে, সেখানে, যেখানে যেভাবে পারল। এখন গোলাপও বলছে যাই। আর সপ্তাহখানেক ধরে মাথা উঁচু করে জাগছে উদয়পদ্মরা।
প্রথম অস্থায়ী ঠিকানা এ দেশের যিনি প্রধান ব্যক্তি, তাঁর বিশাল সাদা বাড়ির কাছাকাছি এলাকায়.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ছ ল এক র জন য র শহর
এছাড়াও পড়ুন:
‘প্রথমবার চুম্বনের দৃশ্য, স্বভাবতই নার্ভাস ছিলাম’
মুক্তি পেয়েছে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর পঞ্চম ও শেষ মৌসুমের প্রথম কিস্তি। ২০১৭ সালে নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজটিতে যুক্ত হয়ে সারা দুনিয়ার তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন স্যাডি সিঙ্ক। সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন ২৩ বছর বয়সী মার্কিন অভিনেত্রী।
রাতারাতি তারকা
নেটফ্লিক্সে মুক্তির পরই ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ হয়ে ওঠে বহুল চর্চিত এক নাম। ২০১৭ সালে সিরিজটির দ্বিতীয় কিস্তিতে যুক্ত হওয়ার পর স্যাডির খ্যাতি পাওয়াটা স্রেফ সময়ের ব্যাপারমাত্র। তবে দেখার বিষয় ছিল, অন্য প্রকল্পগুলোতে তিনি কেমন করেন। ‘দ্য হোয়েল’ ছবিতে অস্কারজয়ী অভিনেতা ব্রেন্ডন ফ্রেজারের বিপরীতে অভিনয় করে সে পরীক্ষায়ও ভালোভাবেই উতরে যান এই মার্কিন অভিনেত্রী। পাশাপাশি নেটফ্লিক্সের আরেক জনপ্রিয় হরর ট্রিলজি ‘ফিয়ার স্ট্রিট’-এও তাঁকে দেখা গেছে।
২০২১ সালে টেইলর সুইফটের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘অল টু ওয়েল: দ্য শর্টফিল্ম’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় ছিল স্যাডির ক্যারিয়ারের আরেক বড় মাইলফলক। ছবিটিতে তিনি মানসিক টানাপোড়েন ও যন্ত্রণা পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন। ‘এই ছবিতে যখন অভিনয় করি, তখনো আমি কারও প্রেমে পড়িনি, তাই সম্পর্ক ভাঙার তীব্রতা সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না। সে কারণেই এ ছবিতে অভিনয় ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, পরে সমালোচকদের পাওয়া প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়েছে, সেটা ভালোভাবেই সামলাতে পেরেছি,’ ভ্যারাইটিকে বলেন স্যাডি।
‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এ স্যান্ডি। নেটফ্লিক্স