ক্যালিফোর্নিয়ায় টেলিভিশনে উচ্চ শব্দে বিজ্ঞাপন আর নয়
Published: 13th, October 2025 GMT
টেলিভিশনের সামনে বসে কোনো অনুষ্ঠান দেখছেন, হঠাৎ উচ্চ শব্দে শুরু হয়ে যায় বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের প্রচার। বিজ্ঞাপনের আওয়াজ এতটাই বেশি যে কান ঝালাপালা হওয়ার অবস্থা, দ্রুত রিমোট হাতে টেলিভিশনের শব্দ কমাতে হয়।
টেলিভিশন দেখতে গিয়ে এমন অবস্থায় প্রায় সবাইকেই পড়তে হয়েছে। এটা শুধু কানের ওপর চাপ নয় বরং একধরনের মানসিক চাপও, যা ভীষণ বিরক্তিকর। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা। তাঁদের টেলিভিশন দেখতে গিয়ে এখন এমন যন্ত্রণায় পড়তে হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন দর্শকেরা অনেক দিন ধরেই বিজ্ঞাপন প্রচারের সময় উচ্চ শব্দ নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁরা শব্দের যে মাত্রায় টেলিভিশনে অনুষ্ঠান দেখেন, বিজ্ঞাপন প্রচারের সময় তা বেড়ে যায়।
নতুন এক আইন করে বাসিন্দাদের সে অত্যাচার থেকে মুক্তির ব্যবস্থা নিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য।
নতুন আইনে স্বাক্ষর করার পর ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেন, ‘আমরা ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের দাবি খুবই স্পষ্টভাবে শুনতে পেয়েছি। আমরা স্পষ্টভাবে যা শুনতে পেয়েছি তা হলো, তাঁরা বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনগুলো বেশি শব্দে শুনতে চাইছেন না। তাঁরা যে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন, সেটির চেয়ে উচ্চ শব্দে তাঁরা বিজ্ঞাপন শুনতে চান না।’
নতুন আইনটি শুধু রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবং কেব্ল টিভি সরবরাহকারীদের বেলায় প্রযোজ্য নয়, বরং বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, ডিজনি প্লাসের মতো স্ট্রিমিং সেবার জন্যও প্রযোজ্য।
ইন্টারনেট ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে স্ট্রিমিং সেবা উপভোগ করা যায়। ক্যালিফোর্নিয়ায় গত সোমবার থেকে নতুন আইনটি কার্যকর হয়েছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে টেলিভিশন ও রেডিওতে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে শব্দের মাত্রা নিয়ে আইন কার্যকর আছে।
কমার্শিয়াল অ্যাডভার্টাইজমেন্ট লাউডনেস মিটিগেশন (সিএএলএম) নামে ওই আইনটি ২০১০ সালে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হয়। সোমবার থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় যে আইন কার্যকর হয়েছে তাতে অঙ্গরাজ্যটিতে স্ট্রিমিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বারাক ওবামা আমলের আইনের অধীন বিজ্ঞাপন প্রচারের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
খালেদা জিয়া স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ রেখেছিলেন: জাতীয় পার্টির আনিসুল-হাওলাদার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।
আজ শনিবার সকালে এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির একাংশের নেতারা খালেদা জিয়ার সংকটময় শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘একসময় আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে আমাদের স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন। তাঁর অসুস্থতার খবরে আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও মর্মাহত। একসময় আমরা খালেদা জিয়া ও এরশাদের নেতৃত্বে যৌথভাবে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। আজ সেসব স্মৃতি আমাদের মনে পড়ছে।’
আরও পড়ুনখালেদা জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ ১১ ঘণ্টা আগেজাতীয় পার্টির একাংশের নেতারা বলেন, ‘রাজনীতিতে জিঘাংসা ও প্রতিহিংসা কোনোভাবেই কাম্য নয়। রাজনীতি হলো মানবিকতা, ঐক্য, উদারতা ও ভালোবাসার প্রতীক। খালেদা জিয়া আজীবন সেই ধরনের রাজনীতির চর্চা করেছেন। জাতীয় পার্টিও সেই রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের বিশ্বাস, অগণিত মানুষের প্রার্থনায় সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ খালেদা জিয়াকে পরিপূর্ণ সুস্থতা প্রদান করে দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার সুযোগ দেবেন।’
খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া। এর সঙ্গে রয়েছে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরোনো সমস্যা। পরিস্থিতি এমন—একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
আরও পড়ুনদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়: তারেক রহমান৪ ঘণ্টা আগেএমন পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির নেতারা বলছেন, গত দুই দিনে খালেদা জিয়ার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্ভব হলে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা করছেন।
আরও পড়ুনখালেদা জিয়ার প্রতি দোয়া ও ভালোবাসার জন্য তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা৪ ঘণ্টা আগেআরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে গেলেন এনসিপি ও হেফাজত নেতারা ২ ঘণ্টা আগে