Prothomalo:
2025-12-10@14:25:15 GMT

আধুনিক মোটরসাইকেলের জন্ম আজ

Published: 10th, November 2025 GMT

একটু আগে রাজধানী ঢাকার বনানী থেকে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো অফিসে মাত্র ২০ মিনিটে চলে আসি। রাস্তায় যানজট থাকার পরেও রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করে রাস্তায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেল পাই। রাস্তায় এখন নানা ধরনের মোটরসাইকেল দেখা যায়। এই মোটরসাইকেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৮৫ সালের ১০ নভেম্বর। প্রায়ই প্রথম আধুনিক মোটরসাইকেল হিসেবে বিবেচিত ডেমলার রাইটওয়াগেনের প্রথম পরীক্ষামূলক চালনাকে মোটরসাইকেলের জন্মদিন ধরা হয়।

রাইটওয়াগেন উদ্ভাবন করেছিলেন গটলিব ডেমলার ও উইলহেম মেব্যাখ। প্রথম দ্বিচক্রযান হিসেবে এতে গ্যাসোলিনকে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হয়। এর আগে ১৮৬৭ সালের পেরো ও রোপার বা ১৮৮৪ সালের কোপল্যান্ডের মতো মোটরসাইকেলে বাষ্প শক্তি ব্যবহার করতে দেখা যায়। ডেমলারের রাইটওয়াগেনের ইঞ্জিন ব্যবহারকারী স্থল, সমুদ্র বা আকাশযানের পথপ্রদর্শক হিসেবে ধরা হয়। রাইটওয়াগেনে রাবারের ব্লকের ওপর একটি ২৬৪ কিউবিক সেন্টিমিটারের একক সিলিন্ডার ফোর–স্ট্রোক ইঞ্জিন বসানো হয়। এতে দুটি লোহার তারযুক্ত কাঠের চাকা ও ভারসাম্যের জন্য স্প্রিংসহ এক জোড়া চাকা ছিল।

ঐতিহাসিক প্রথম পরীক্ষামূলক চালনায় চালকের আসনে ছিলেন ১৭ বছর বয়সী পল ডেমলার। পল উদ্ভাবক গটলিব ডেমলারের ছেলে। জার্মানির ক্যানস্ট্যাট থেকে উন্টারটুর্কহেইম পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালান তিনি। সেই যাত্রাকে কার্যকরভাবে বিশ্বের প্রথম বাইক রাইড বলা হয়। পৃথিবীর প্রথম বাইকার পল সেই সময়ে ৩ দশমিক ১ থেকে ৭ দশমিক ৫ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে ভ্রমণ করেছিলেন। যাত্রাপথে ইঞ্জিনের ঠিক নিচে থাকা হট টিউব ইগনিশনের কারণে তাঁর আসনে একবার আগুন ধরে গিয়েছিল।

যদিও রাইটওয়াগেন নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। এটিকে প্রথম মোটরসাইকেল বলতে অনেক ইতিহাসবিদ দ্বিধা করেন। বড় চাকার সঙ্গে সেই যানে এক জোড়া ছোট চাকা ছিল। আবার অনেকে এনরিকো বার্নার্দির ১৮৮২ সালের এক সিলিন্ডার পেট্রলচালিত ট্রাইসাইকেল মোট্রিস পিয়াকে প্রথম অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনযুক্ত যান হিসেবে গণ্য করেন।

সূত্র: অটোমোটিভ হিস্টোরি

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ব যবহ র প রথম

এছাড়াও পড়ুন:

সাইনাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ থাকলে কী করবেন

ক্রনিক সাইনুসাইটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা প্রদাহ। নাকের চারপাশে অস্থিগুলোতে বাতাসপূর্ণ কুঠুরি থাকে, যেগুলোকে বলা হয় সাইনাস। সাইনুসাইটিস হলো এসব সাইনাসের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ বা ইনফেকশন।

সাইনাসের প্রদাহের কারণ

সাইনাসগুলোর প্রদাহের মধ্যে ম্যাক্সিলারি সাইনাসের প্রদাহ হয় সবচেয়ে বেশি। ম্যাক্সিলারি সাইনাস হলো মুখমণ্ডলের দুই পাশে গালের হাড়ের ভেতরে থাকা বায়ুভর্তি একটি বড় সাইনাস বা গহ্বর। এটি প্যারানাজাল সাইনাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়।

অ্যাকিউট সাইনুসাইটিস ও শ্বাসনালির ওপরের অংশের ইনফেকশন থেকে, অ্যালার্জি, অপুষ্টি, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থেকে, দীর্ঘদিন ধরে দাঁতের রোগ থাকলে এটি হতে পারে। বেশির ভাগ সাইনাসের প্রদাহ নাকের ইনফেকশন থেকে হয়।

লক্ষণ ও চিকিৎসা

নাকের পাশে অনবরত ব্যথা, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা হতে পারে। সব সময় নাক বন্ধ থাকে। এ ছাড়া কোনো স্বাদ ও ঘ্রাণ বুঝতে না পারা। সাধারণত বিমর্ষতা, অস্থিরতা ও অনীহা তৈরি হয়। মাঝেমধ্যে জ্বর আসতে পারে। মিউকোসার আবরণ পাতলা হয়ে যায়।

সাইনাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ বা ইনফেকশনের জন্য প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। এ ছাড়া ধুলাবালু থেকে দূরে, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। দাঁতের ক্ষয় ও অন্যান্য পচনশীল পদার্থ থেকে দাঁতকে রক্ষা করতে হবে। ব্যথার জন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। যেহেতু ক্রনিক সাইনুসাইটিস একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত অসুখ, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়।

আরও পড়ুনশীতে ত্বকের ৭টি কমন সমস্যা ও সমাধান০৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ওষুধের মাধ্যমে ভালো না হলে সাইনাস ওয়াশ করতে হবে। অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে যে একবার সাইনাস ওয়াশ করলে বারবার করতে হয়। ধারণাটা সঠিক নয়। ব্যাকটেরিয়াজনিত সাইনুসাইটিস ওয়াশ করে উপযুক্ত মাত্রা ও নিয়মে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে রোগী সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে।

বর্তমানে সাইনাস রোগের চিকিৎসায় এন্ডোসকোপিক সাইনাস সার্জারি করা হয়। এর মাধ্যমে এন্ডোসকোপ ও মনিটরে দেখে সাইনাসের সব ধরনের সার্জারি করা যায়। এটি সাইনাসের সব রোগের আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা। এ ধরনের অপারেশনে বেশি কাটাছেঁড়া করতে হয় না। এর ফল খুব ভালো। বাংলাদেশের বড় বড় হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়মিত এন্ডোসকোপিক সাইনাস সার্জারি হচ্ছে।

ডা. এম আলমগীর চৌধুরী, অধ্যাপক, নাক-কান-গলা বিভাগ, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা

আরও পড়ুনমলত্যাগের সময় ব্যথা করছে, কী করব?২২ অক্টোবর ২০২৫

সম্পর্কিত নিবন্ধ