Prothomalo:
2025-12-12@15:16:28 GMT

তারুণ্যের জয় মানে দেশের জয়

Published: 10th, November 2025 GMT

দেশের রাজপথে গত বছর তরুণেরা ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত তৈরি করেছিলেন, গণ-অভ্যুত্থান। চাকরিতে কোটা-বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনটা শুরু করেছিলেন জেন-জিরা, তা ক্রমে এক সামাজিক জাগরণে রূপ নিয়েছিল।

লাখো মানুষ সেদিন রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁদের অনেকেই ছিলেন ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে। কেউ যদি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি উদ্যোগ শুরু করেন, তার মধ্যে অন্তত ১০ হাজার টাকা চলে যায় ঘুষ আর অনিয়মে। অথচ এই টাকাটা একজন তরুণের তিন মাসের খরচ। ওই সময় তিনি কোডিং করে পৃথিবীর সেরা অ্যাপগুলোর একটি বানাতে পারতেন। এই অর্থ আধুনিক প্রজন্মের কাছে ‘ব্লাড মানি’। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সেদিন তরুণদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে এসেছিল সাধারণ মানুষ।

এমন বৈষম্য কেবল আর্থিক নয়-বৈষম্য আছে শিক্ষায়, সরকারি নীতিমালায়, এমনকি স্বপ্ন দেখায়ও। আর এই বৈষম্যের আমি ও আমার প্রজন্ম প্রতিদিন লড়াই করে যাচ্ছি।

রাস্তায় স্বপ্নের শুরু

২০০৯ সাল। তখন আমি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। ক্লাসে ইলেকট্রিক মোটর শেখানো হচ্ছিল। আমি মুগ্ধ হয়ে শিখি। প্রতিদিন উত্তরার বাসা থেকে মহাখালীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হতো। পথে মোটর মেরামতের দোকানগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে দেখতাম, কীভাবে গাড়ির যন্ত্রপাতি খুলে আবার জোড়া লাগানো হয়। তখন থেকেই নিজের হাতে গাড়ি বানানোর স্বপ্ন জাগে মনে।

পুলিশ স্টেশনের সামনে যেসব পরিত্যক্ত গাড়ি পড়ে থাকে, সেখান থেকে একটি নিখরচায় পাওয়া গেলে তাতে হাইটর্ক মোটর লাগিয়ে একটি ইলেকট্রিক গাড়ি বানানো যেতে পারে—মাথার ভেতর এমন ভাবনাই ছিল। তখন টেসলা সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না।

পরে এমন একটি গাড়ির ডিজাইন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোসাদ্দেক স্যারের হাতে দিই। তিনি উৎসাহ দিয়েছিলেন। পরে ওই ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে একটি গাড়ি বানানো হয়। এরপর ক্রেডিট ট্রান্সফার করে পড়তে যাই যুক্তরাষ্ট্রে, মন্টানা ইউনিভার্সিটিতে। অর্ধেক স্কলারশিপ পেলেও বাকি খরচ জোগাতাম পুরোনো গাড়ি কিনে মেরামতের পর তা বিক্রি করে। পাশাপাশি দু-তিনটি ছোট চাকরিও করেছি।

তবে সব সময় একটাই চিন্তা ঘুরত মাথায়—আমি কবে দেশে ফিরব! কারণ, বাংলাদেশের বৃষ্টি, সবুজ প্রকৃতি, মাটির গন্ধ আর নিজের ভাষায় কথা বলার আনন্দ ও শান্তি পৃথিবীর আর কোথাও নেই।

‘পালকি’র গল্প

শেষমেশ পাঁচ বছর পর ২০১৬ সালে দেশে ফিরলাম। স্বপ্ন ছিল নিজের একটি গাড়ি কোম্পানি গড়ব। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করব কিছুই জানা নেই। তাই সময় লেগে গেল। বহু বাধা পেরিয়ে ২০২২ সালের মার্চে ‘পালকি মোটরস’ যাত্রা শুরু করল। আমাদের কারখানা ঢাকার উত্তর বাড্ডায় সাতারকুল সড়কে।

পালকি মোটরসের আইডিয়াটা এসেছিল মেডিটেশনের সময়, সঙ্গে ছিল নেপোলিয়ন হিলের থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ বইটি। বইয়ের পরামর্শমতো প্রথমে নিজের স্বপ্নগুলো লিখে ফেলি। কী করতে চাই, জীবনে কী অর্জন করতে চাই—সব। যেমন বাংলার এন্ডেমিক গাছপালা ও প্রাণী সংরক্ষণে বন তৈরি করব, যা মহাকাশ থেকেও দেখা যাবে।

ওয়েটেড ম্যাট্রিক্স ব্যবহার করে কোন আইডিয়ার বাজার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তার বিশ্লেষণ করি। এতে পালকি সবার ওপরে থাকে। তারপর শুরু হয় মনের প্রোগ্রামিং। প্রতিদিন আমার স্বপ্নকে কল্পনায় দেখি। অনুভব করি আমার ফ্যাক্টরি, কর্মচারী, গাড়ি—সবকিছু।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। গাড়ির যন্ত্রপাতি আনতে লাগবে সাড়ে সাত লাখ টাকা, অথচ আমার তিনটা ক্রেডিট কার্ডেরই সীমা শেষ। এই পরিস্থিতিতে একটা ফ্ল্যাট বিক্রি করে ঋণ শোধ করার পর হাতে থাকল মাত্র ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মামার কাছ থেকে ধার করলাম ৫০ হাজার। সেই টাকা দিয়েই যন্ত্রপাতি অর্ডার করে এনে কাজ শুরু করা হলো।

অবশেষে আমরা বানালাম নিজেদের ডিজাইনে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক গাড়ি। যার প্রতিটি ইঞ্চি তৈরি হয়েছে এই দেশের তরুণদের হাতে।

২০২২ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করে দেশীয় গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ‘পালকি মোটরস’.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

অন্তরঙ্গ দৃশ্যের কারণেই সামান্থার বিবাহবিচ্ছেদ হয়

কিছুদিন আগেই নির্মাতা রাজ নিধুমুরুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন সামান্থা রুথ প্রভু। এর আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন তেলেগু তারকা নাগা চৈতন্যকে; কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তাঁরা। নির্মাতা রাজ ও ডিকের সিরিজ ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২’–এ অভিনয় করেন সামান্থা। সেই সিরিজের একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়েই নাকি নাগার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।

বিবাহবিচ্ছেদের পেছনের গুঞ্জন
সামান্থা ও নাগা চৈতন্যকে টলিউডের ‘পারফেক্ট কাপল’ হিসেবে ধরা হতো। তবে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘোষণা হওয়ার পরই সবাই ভেবেছিলেন, কী কারণে এই সম্পর্ক শেষ হলো। অনেকের মতে, সামান্থার সাহসী চরিত্রের কারণেই সম্পর্কের অবসান ঘটেছে।
একটি সূত্রে জানা যায়, সামান্থার ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২’ সিরিজের দৃশ্যটি নাগা ও তাঁর পরিবারের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। যদিও সিরিজটির জন্য আরেকটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং করেন সামান্থা, কিন্তু পরে সেটা সম্পাদনায় বাদ পড়ে। কিন্তু যে দৃশ্যটি প্রচারিত হয়, সেটা নিয়েও আপত্তি ছিল। নাগা তো বটেই, তাঁর সাবেক শ্বশুর নাগার্জুনারও আপত্তি ছিল। তবে সামান্থা এই ‘পিতৃতান্ত্রিক’ মানসিকতা মানতে অস্বীকার করেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিয়ের দিন নাগা চৈতন্য ও সামান্থা

সম্পর্কিত নিবন্ধ