শেখ হাসিনাকে জিয়াউর রহমানের অর্ধাঙ্গিনী বলা সেই বিএনপি নেতাকে শোকজ
Published: 10th, November 2025 GMT
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিয়াউর রহমানের অর্ধাঙ্গিনী (স্ত্রী) সম্বোধন করা কুমিল্লার তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান সরকার এবং সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে নোটিশটি দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন:
টাঙ্গাইলে নির্বাচন অফিসে হামলা-ভাঙচুর, কর্মকর্তাসহ আহত ৩
পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোগীরা দেশের স্বাধীনতাকে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৭ নভেম্বর ২০২৫ তিতাস উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আপনি বক্তৃতার মাঝে ‘৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্থলে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা’ বলেছেন। যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আপনার এ বক্তব্যে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আপনার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করবেন। ব্যর্থতায় আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী বলেন, ‘‘মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার বক্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব যথাযথ না হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
এর আগে, রবিবার বিকেলে বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়। গত শুক্রবার কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় এই বক্তব্য দেওয়া হয়।
১৪ সেকেন্ডের ওই বক্তব্যে বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অর্ধাঙ্গিনী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’ এ সময় পাশে থাকা অন্যরা তার ভুল শুধরে দেন। তিনি নতুন করে বক্তব্য শুরু করা মাত্রই ভিডিওটা রেকর্ড শেষ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
ঢাকা/রুবেল/রাজীব
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ব এনপ ত ত স উপজ ল ব এনপ র
এছাড়াও পড়ুন:
ভারতের কারাগার থেকে ফিরলেন ৩২ জেলে, ভারতে গেলেন ৪৭ জন
তিন মাস ধরে ভারতের কারাগারে থাকা বাংলাদেশি ৩২ জেলেকে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কারাগারে থাকা ভারতের ৪৭ জেলেকে দেশটির উপকূল রক্ষা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমঝোতার পর ৩২ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ভারতীয় ৪৭ জেলেকে ফেরত পাঠানো হয়।
কোস্টগার্ড জানায়, বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমারেখা-সংলগ্ন বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে অবৈধভাবে মৎস্য আহরণরত অবস্থায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১২ জুলাই ও ২ আগস্ট এফবি মা মঙ্গলচণ্ডী-৩৮, এফবি ঝড়, এফবি পারমিতা-৪ নামের তিনটি ভারতীয় মাছ ধরার নৌকাসহ ৪৭ জেলেকে আটক করে। অন্যদিকে গত ১২ ও ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতীয় জলসীমায় মৎস্য আহরণের অভিযোগে দুটি বাংলাদেশি মাছ ধরার নৌকাসহ ৩২ জন জেলেকে আটক করে ভারতীয় কোস্টগার্ড।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে আটক থাকা জেলেদের বন্দিবিনিময়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যার অংশ হিসেবে ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক মেরিটাইম বাউন্ডারি লাইনে বাংলাদেশে আটক ৪৭ জন ভারতীয় জেলেকে তিনটি মাছ ধরার নৌকাসহ ভারতীয় কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে ভারতে আটক থাকা ৩২ বাংলাদেশি জেলেসহ এফবি মায়ের দোয়া নামের মাছ ধরার নৌকাকে ভারতীয় কোস্টগার্ড বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করে। এ ছাড়া আরও একটি মাছ ধরার নৌকা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
কোস্টগার্ডের যুদ্ধজাহাজ বিসিজিএস কামরুজ্জামানের অধিনায়ক কমান্ডার শুয়াইব বখতিয়ার রানা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমঝোতায় দুই দেশে বন্দী থাকা জেলেদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশে ফেরা ৩২ জেলের বাড়ি ভোলা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তাঁরা বলছেন, ভারতের কারাগারে শতাধিক মৎস্যজীবীসহ বিভিন্ন অপরাধে আরও অনেকে আটক আছেন। সেখানে তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ভারতের কারাগারে থাকতে তাঁদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। ভারত থেকে ফিরিয়ে আনায় কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ফিরে আসা জেলে মো. ইউনুস বলেন, ‘তিন মাস ভারতের জেলে ছিলাম। ভারতের জেলে থাকা অবস্থায় আমাদের অমানুষিক নির্যাতন করেছে। সেখানে আমার মতো আরও অনেক বাংলাদেশি আটক আছেন। সরকারের কাছে অনুরোধ, তাঁদেরও যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’
আরেক জেলে মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতের জেলে প্রতিদিন আতঙ্কে ছিলাম। পরিবার কী অবস্থায় আছে, জানতাম না। দেশে ফিরে যেন নতুন জীবন পেলাম। কিন্তু সেখানে এখনো বহু বাংলাদেশি আছেন।’
এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক মাওলানা ফখরুল ইসলাম বলেন, তিন মাস সাত দিন আগে ১৯ জেলে নিয়ে ভোলা থেকে সাগরে মাছ ধরতে যায় ট্রলারটি। ঝড়ে পথ হারিয়ে ভারতীয় বিএসএফের কাছে আটক হয়। এরপর তাঁদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে জানতে পারেন, জেলখানায় আছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোস্টগার্ড তাঁদের উদ্ধার করেছে।