ফলের রস নাকি স্মুদি- সকালের নাশতায় কোনটি খাবেন
Published: 7th, July 2025 GMT
ব্যস্ত জীবনে ঝামেলা এড়াতে অনেকেই সকালের নাশতা এড়িয়ে যান। শরীরের জন্য এই অভ্যাস মোটেও ভালো নয়। কেউ কেউ সহজ খাবার হিসেবে সকালে খেয়ে নেন ফলের রস কিংবা স্মুদি। কিন্তু ফলের রস ও স্মুদির মধ্যে কোনটা আসলে স্বাস্থ্যকর?
সকালের নাশতায় ফলের রস খাওয়া কি ঠিক?
আমেরিকা, কানাডা ও ইরানের বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কমলালেবু বা আপেলের রস দেহের প্রদাহ কমায় এবং হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা ঠিক রাখে। তা ছাড়া ফলের রস ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। কিন্তু তারপর ফলের রস না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা। ভারতীয় পুষ্টিবিদ শ্রেয়সী ভৌমিক বলেন, সকালের নাশতায় কোনও মতেই ফলের রস খাওয়া ঠিক নয়। তা ছাড়া ফলের রস স্বাস্থ্যকরও নয়।’সাধারণত ফল বা সবজি থেকে রস বের করলে তার মধ্যে থাকা ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। এতে তখন থাকে কিছু মিনারেল এবং ফ্রুক্টোজ়। একে ‘ফ্রি সুগার’ও বলা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দৈনিক ক্যালোরির ১০%-এর কম ‘ফ্রি সুগার’ খাওয়া উচিত। অন্যদিকে, ১৫০ মিলি ফলের রসে প্রায় ১৪ গ্রাম চিনি থাকে। দিনের পর দিন এ ভাবে ফলের রস খেলে টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ভারতীয় পুষ্টিবিদ ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, অনেকেই কেনা ফলের রস খায়। এতে ফলের গুণ কম, চিনি বেশি থাকে। প্যাকেটজাত ফলের রস আরও বিপজ্জনক।
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের নাশত, মিড স্ন্যাকস হিসেবে ফলের রস কখনওই ভালো খাবার নয়। এতে শরীরে কোনও পুষ্টি পৌঁছয় না। উল্টে রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। পুষ্টিবিদ শ্রেয়সীর মতে,গোটা ফল খেলে অনেক বেশি উপকারিতা মেলে। পুষ্টিবিদ ঈশানী জানান, যাদের চিবিয়ে খাবার খেতে বা খাবার গিলতে কষ্ট হয়, তারা ফলের রস খেতে পারেন। তবে প্রতিদিন খাওয়াও ঠিক নয়।
ফলের রসের চেয়ে কতটা উপকারী স্মুদি?
স্মুদি তৈরিতে দই, দুধ, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, বীজ, ফল, এমনকী ওটসের মতো গোটা শস্যও ব্যবহার করা হয়। আবার শাকসবজি দিয়েও স্মুদি থেরি করা হয়। পুষ্টিবিদ শ্রেয়সীর মতে, ‘ফলের তুলনায় অনেক গুণ বেশি স্বাস্থ্যকর স্মুদি। এতে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ সব পাওয়া যায়।’ দিনের শুরুতে অনায়াসে একগ্লাস স্মুদি খাওয়া যায়। আর স্মুদিতে যদি ফল দেওয়া হয় তা আরও বেশি পুষ্টিকর হবে।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
ঝিনাইদহে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহে মুরাদ হোসেন (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুরাদ একই গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি মুরাদ হোসেনের বাবা আফজাল হোসেন মারা যান। শুক্রবার রাতে বাবার কুলখানি আয়োজনের বিষয়ে চাচাতো ভাই আলমের সঙ্গে পরামর্শ করতে যান মুরাদ হোসেন। এ সময় আলম মুরাদকে ভিক্ষা করে কুলখানি আয়োজন করতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এর জেরে, শনিবার আলমের ছেলে সৌরভ তিনটি মোটরসাইকেলে আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুরাদের ওপর হামলা চালায়। মুরাদকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় তারা। স্থানীয়রা মুরাদকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সৌরভ পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। মামলা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’’
ঢাকা/শাহরিয়ার/রাজীব