এক দেয়ালে চার লিটার রঙ দিতে ২৩৩ জন শ্রমিক!
Published: 5th, July 2025 GMT
ভারতের মধ্যপ্রদেশের শাহদোল জেলায় গণিত এবং জনশক্তির এক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। জেলার সাকান্দি গ্রামের একটি সরকারি স্কুলের একটি দেয়ালে চার লিটার রঙ করার জন্য ১৬৮ জন রঙমিস্ত্রি এবং ৬৫ জন রাজমিস্ত্রিকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। স্রেফ চার লিটার রঙ একটি দেয়ালে কীভাবে এই দুই শতাধিক লোক প্রয়োগ করলেন তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
রঙ-এর ই বিল প্রকাশের পর দেখা গেছে, সাকান্দির একটি স্কুলে মাত্র চার লিটার রঙ লাগানোর জন্য ১ লাখ সাত হাজার রুপি এবং নিপানিয়া গ্রামের আরেকটি স্কুলে ২০ লিটার রঙ লাগানোর জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার রুপি তুলে নেওয়া হয়েছে।
সাকান্দিতে একটি দেয়ালের জন্য ১৬৮ জন শ্রমিক এবং ৬৫ জন রাজমিস্ত্রি কাজ করেছেন। আর নিপানিয়ায় ১০টি জানালা ও চারটি দরজা রঙ করার জন্য ২৭৫ জন শ্রমিক এবং ১৫০ জন রাজমিস্ত্রি নিযুক্ত করা হয়েছিল।
রঙের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুধাকর কনস্ট্রাকশন ৫ মে এই বিল তৈরি করেছিল। আর ৪ এপ্রিল নিপানিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক এই বিল যাচাই করে স্বাক্ষর করেছিলেন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফুল সিং মারপাচি বলেছেন, “এই দুটি স্কুলের বিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, উদ্ভূত তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা/শাহেদ
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর চ র ল ট র রঙ র জন য
এছাড়াও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হলে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে: ফজলে এলাহী
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আজ শনিবার তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর এ কথা জানিয়েছেন।
আজ বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘আগের থেকে একটু ভালো’ জানিয়ে ফজলে এলাহী আকবর বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) স্ট্যাবল (শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল) হলে অবশ্যই (বিদেশে) নেওয়ার একটা ব্যবস্থা করা হবে। নেওয়ার মতো অবস্থা এখনো হয়নি।’
এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে পরিবারের। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কাতার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া। এর সঙ্গে রয়েছে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরোনো সমস্যা। ফলে পরিস্থিতি এমন—একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গত রোববার। সেদিন তাঁর অনেক শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। দ্রুত তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুই দিন আগে তাঁকে হাসপাতালের কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
গতকাল জুমার নামাজ শেষে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটময় বলে উল্লেখ করেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে তাঁর সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়। এরপর ছয় মাস পরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছিল সরকার। যদিও চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি।
গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পান। গত ৮ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান। চার মাস পর ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।
আরও পড়ুনখালেদা জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ ১৫ ঘণ্টা আগে