দাউদকান্দিতে এক দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ৬৩ জন
Published: 7th, July 2025 GMT
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ১০টা থেকে আজ সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত) উপজেলায় নতুন করে আরও ৬৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে ৩৪১ রোগী বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের। এর মধ্যে ১৩ জন দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুন থেকে আজ ৭ জুলাই সকাল ১০টা পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৯ হাজার ৪৪১ জন নারী, পুরুষ ও শিশুর রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৭০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ ৩০ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, দাউদকান্দি পৌরসভার দোনারচর গ্রাম থেকে উপজেলায় ডেঙ্গুর সূচনা হয়। ওই গ্রামের একজন বাসিন্দা প্রথম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর পর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তবে এলাকাবাসীর মধ্যে এখনো পর্যাপ্ত সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: দ উদক ন দ সরক র উপজ ল
এছাড়াও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হলে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে: ফজলে এলাহী
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আজ শনিবার তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর এ কথা জানিয়েছেন।
আজ বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘আগের থেকে একটু ভালো’ জানিয়ে ফজলে এলাহী আকবর বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) স্ট্যাবল (শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল) হলে অবশ্যই (বিদেশে) নেওয়ার একটা ব্যবস্থা করা হবে। নেওয়ার মতো অবস্থা এখনো হয়নি।’
এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে পরিবারের। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কাতার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া। এর সঙ্গে রয়েছে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরোনো সমস্যা। ফলে পরিস্থিতি এমন—একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গত রোববার। সেদিন তাঁর অনেক শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। দ্রুত তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুই দিন আগে তাঁকে হাসপাতালের কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
গতকাল জুমার নামাজ শেষে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটময় বলে উল্লেখ করেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে তাঁর সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়। এরপর ছয় মাস পরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছিল সরকার। যদিও চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি।
গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পান। গত ৮ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান। চার মাস পর ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।
আরও পড়ুনখালেদা জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ ১৫ ঘণ্টা আগে