গণভোটে বিভাজনের ঝুঁকি এড়ানোর উপায় কী
Published: 14th, October 2025 GMT
রাজনৈতিক দলগুলো যখন নিজেদের ভেতর একধরনের টানাপোড়েন ও আস্থাহীনতার সংকটে ভুগছে, তখন জুলাই সনদের মধ্য দিয়ে একটি ঐকমত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য আশার আলো দেখায়। প্রস্তাবিত বিভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহি এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নপ্রক্রিয়ার জন্য জুলাই সনদ একটি কার্যকর দলিল হিসেবে রাজনৈতিক দল ও জনগণের সামনে থেকে যাবে।
জুলাই সনদ তৈরির অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো দলীয় প্রভাবমুক্ত মানবিক রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়ে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের মধ্য দিয়ে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা। তাই জুলাই সনদের গুরুত্ব বিবেচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একে কেন্দ্র করে জনগণের ম্যান্ডেট বা সমর্থন পাওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে গণভোটের প্রস্তাব সামনে আসে।
গণভোটের মধ্য দিয়ে যদি জুলাই সনদের বৈধতা নিয়ে আসা যায়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর এই সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা ভবিষ্যতের জন্য অনেক সহজ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুনযাঁরা গণভোট দেবেন তাঁরা গণভোট নিয়ে কতটা জানেন১০ অক্টোবর ২০২৫সবচেয়ে বড় বিষয় হলো রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রতি একভাবে দায়বদ্ধ থাকবে, যেখানে জনগণ বলতে পারবে যে জুলাই সনদকে সরাসরি তারাই বৈধতা দিয়েছে। এতে করে জনগণের অংশগ্রহণ রাষ্ট্রীয় পরিসরে বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থাশীল হতে শুরু করবে যে রাজনৈতিক আস্থা বিগত সময়ে আমাদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুপস্থিত ছিল।
রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে আস্থা এবং জবাবদিহিমূলক সম্পর্ক তৈরির জন্য গণভোট কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। গণভোট হচ্ছে জনগণের বৈধতা পাওয়া ও আস্থা অর্জন করার একটি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, সেটি আমরা বিগত সময়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত কয়েকটি গণভোটে দেখেছি; যদিও এর মধ্যে বিতর্কিত গণভোটের উদাহরণও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, যদি এটিকে সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। যদিও কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করছেন যে গণভোটের মাধ্যমে জনমনে আরও বিভাজনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এসব কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের প্রস্তাব সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও আইনগত সীমাবদ্ধতার কথা যেমন আসছে, তেমনি গণভোট আয়োজন করার প্রক্রিয়া নিয়েও ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো যেমন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছে, তেমনি জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি প্রস্তাব করছে নির্বাচনের আগেই গণভোট করার। যদিও এনসিপি আগে বলেছিল যে তারাও জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে।
গণভোটে বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন দেশে ‘হ্যাঁ ‘বা ‘না’ বিকল্পের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়ে থাকে। তবে অনেক সময় এখানে একটি প্রশ্নের মাধ্যমে দুইয়ের অধিক বিকল্প থেকেও জনগণকে একটি বেছে নিতে হয়। গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে সব সময় মাথায় রাখতে হয়, এটি যেন জনগণের জন্য সহজ ও বোধগম্য হয়। তাই সাধারণত গণভোটের সময় একাধিক প্রশ্নের অবতারণা করা হয় না। কেননা, এটি সব শ্রেণি ও ধরনের ভোটারদের সুবিধা ও অসুবিধার কথা বিবেচনা নিয়ে করা হয়।তবে এমন তাড়াহুড়া করে গণভোট আয়োজন করা কতটা যুক্তিযুক্ত হবে, সেটি আমাদের সতর্কভাবে ভেবে দেখতে হবে। কেননা, এখানে বেশ কয়েকটি সীমাবদ্ধতার বিষয় আমরা উল্লেখ করতে পারি। প্রথমত, জুলাই সনদ নিয়ে জনগণের মধ্যে যথাযথ জ্ঞান রয়েছে কি না, সেটি মূল্যায়ন করা। জনগণের মধ্যে যদি জুলাই সনদ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকে, তাহলে গণভোট আয়োজনের প্রধান যৌক্তিকতা বিফলে যাবে, যদি জনগণ এই গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করে। এতে করে জুলাই সনদে স্থান পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষিত থেকে যেতে পারে।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করার জন্য আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই। আবার গণভোটের জন্য নির্বাচন পেছানোর যুক্তি নিয়ে এলে দেশ আরও সংকটের মধ্যে পড়বে। তৃতীয়ত, জনগণকে প্রস্তুত না করে ও যথাযথ প্রচার না চালিয়ে গণভোট আয়োজিত হলে ভোটারদের উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে আশঙ্কা থেকে যেতে পারে, যেমনটি এ বছর জুনে ইতালিতে অনুষ্ঠিত শ্রম ও নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তনের গণভোটের সময় দেখা যায় যা গণভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আরও পড়ুনগণভোট অপ্রয়োজনীয়, তবে এরপরও যদি হয়...০৮ অক্টোবর ২০২৫
সে ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচনের সময় গণভোট আয়োজন করাই অধিক যুক্তিযুক্ত হবে। কেননা, এতে আলাদা করে গণভোট আয়োজনের খরচ করতে হবে না এবং শ্রম দিতে হবে না। ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগের এই সময়ে জুলাই সনদ নিয়ে জনগণকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য কিছুটা হলেও সুযোগ থাকবে, যার প্রভাব তাঁদের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজন করার বড় সুবিধাটা হলো, যেহেতু সারা দেশের মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ–উদ্দীপনা কাজ করে, ফলে সেখানে ভোটারের উপস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে ধরে নেওয়া যায়। ফলে গণভোটের জন্যও অধিকসংখ্যক জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়াটা সহজ ও যুক্তিসংগত হবে।
জুলাই সনদের মতো সংস্কারমূলক নীতি সাধারণ নাগরিকদের কাছে জটিল বিষয় মনে হতে পারে। কেননা, জুলাই সনদ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চললেও সাধারণের মধ্যে জুলাই সনদবিষয়ক বিস্তারিত ধ্যানধারণা কতটুকু তৈরি হয়েছে, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। তাই গণভোটের আগে জণগণকে প্রস্তুত করতে হবে এবং তার জন্য সময় প্রয়োজন। তাই জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত হলেই তড়িঘড়ি করে গণভোট করা উচিত হবে না।
আরও পড়ুনসংসদ, পরিষদ না গণভোট— কোন পথে যাবে দেশ২০ আগস্ট ২০২৫যদি ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট করতে হয়, তাহলে গণভোটের আগে এই সনদের বিষয়গুলো নিয়ে জনপরিসরে বিস্তর আলোচনা ও সচেতনতা গড়ে তোলার কিছুটা সময় পাওয়া যাবে, যা খুব জরুরি। তাই গণভোট আয়োজনের আগেই এ বিষয়ে জনগণকে যথাযথভাবে সজাগ করতে হবে। সেটি না করা হলে গণভোটের ন্যায্যতা নিয়ে পরবর্তীকালে প্রশ্ন উঠতে পারে।
গণভোটে বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন দেশে ‘হ্যাঁ ‘বা ‘না’ বিকল্পের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়ে থাকে। তবে অনেক সময় এখানে একটি প্রশ্নের মাধ্যমে দুইয়ের অধিক বিকল্প থেকেও জনগণকে একটি বেছে নিতে হয়।
গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে সব সময় মাথায় রাখতে হয়, এটি যেন জনগণের জন্য সহজ ও বোধগম্য হয়। তাই সাধারণত গণভোটের সময় একাধিক প্রশ্নের অবতারণা করা হয় না। কেননা, এটি সব শ্রেণি ও ধরনের ভোটারদের সুবিধা ও অসুবিধার কথা বিবেচনা নিয়ে করা হয়।
যেহেতু আমাদের দেশের ভোটারদের গণসচেতনতা এবং জুলাই সনদ সম্পর্কে জানাশোনার পরিধি এখনো কম, তাই গণভোট কেবল জুলাই সনদের সঙ্গে একমত হওয়া বিষয়াবলির বাস্তবায়নে তাঁদের একটি ম্যান্ডেট নেওয়ার প্রক্রিয়া যা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না ‘ভোটের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। তবে এখানে জটিলতা হলো, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হতে পারেনি, সেসব বিষয়কে কীভাবে দেখা হবে, তার রূপরেখা গণভোটের মাধ্যমে তুলে আনা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা যায় একটি অসম্ভব বিষয়।
তাই জুলাই সনদের বাস্তবায়নের বিস্তারিত রূপরেখা প্রণয়নের বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়াই সমীচীন হবে। নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে সংসদে বিশদ আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা গড়ে তোলার জন্য সর্বদলীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা হবে বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়া। এটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় হওয়ার কারণে জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে। আর সেটি করা গেলে ভবিষ্যতে জনগণের মধ্যে এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বিভাজনের ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হবে।
বুলবুল সিদ্দিকী অধ্যাপক, রাজনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: জ ল ই সনদ ন য় জ ল ই সনদ র জনগণ র ম প রক র য় প রস ত ব ই গণভ ট গণভ ট র গণভ ট ক ও জনগণ র জন য আম দ র র র জন ব কল প র সময়
এছাড়াও পড়ুন:
চার আসনই পুনরুদ্ধার চায় বিএনপি, নতুন মুখ নিয়ে মাঠে জামায়াত
লক্ষ্মীপুর বিএনপি–প্রভাবিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। দলটি ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই জিতেছিল। ২০১৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। একতরফা ওই নির্বাচনে সব আসন আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। এবার সেটা ফিরে পেতে তৎপর বিএনপি।
চারটি আসনের মধ্যে দুটিতে ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। একটিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, অন্যটিতে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া। বাকি দুই আসন জোটসঙ্গীদের জন্য রাখা হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। এই ব্যাপারে শিগগির সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সূত্র থেকে জানা গেছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী আগেই সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এ জেলা থেকে সংসদ নির্বাচনে আগে কখনো জামায়াত জেতেনি। জামায়াতের প্রার্থীরা সবাই নতুন মুখ। তাঁরা কয়েক মাস ধরেই এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন।
তবে এ জেলা থেকে জামায়াতের কেউ কখনো সংসদ সদস্য হননি। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাস্টার শফিক উল্লাহ ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন নোয়াখালী-১২ আসন (বর্তমান লক্ষ্মীপুর-৩) থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তিনি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও জিততে পারেননি।
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ)
এ আসনে বিএনপি এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ২০১৮ সালে এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির জোটসঙ্গী বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি এবারও এ আসন থেকে মনোনয়ন চান। তিনি আরও আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন বিএনপি ও জোটের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মাঠে আছি। রামগঞ্জের মানুষ আমাকে চেনে, জানে, আমি তাদের জন্য কাজ করেছি। তাই এবারও আশা করছি, বিএনপি জোট আমাকে মনোনয়ন দেবে।’
তবে এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ, রামগঞ্জ উপজেলার বর্তমান সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন, সাবেক সভাপতি শাহাব উদ্দিন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হকের ছেলে মাশফিকুল হক ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি মো. ইমাম হোসেন।
তবে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর–১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। এটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাকে নিশ্চিত করেছেন।’
এ আসন থেকে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন দলের রামগঞ্জ উপজেলা আমির নাজমুল হাসান পাটওয়ারী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রামগঞ্জের মানুষ পরিবর্তন চায়, শান্তি ও সুশাসন চায়। আমি তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।’
আবার এ আসনে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রার্থী হতে পারেন, এমন আলোচনা অনেক দিন ধরে রয়েছে। তাঁর ভাই ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলমও এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন।
মাহবুব আলম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাই মাহফুজ আলম যদি সরকার থেকে পদত্যাগ করেন, তাহলে তাঁর নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। তা না হলে মাহবুব আলম নিজে এনসিপি থেকে নির্বাচন করতে চান। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের আংশিক)
লক্ষ্মীপুর-২ আসনে দলীয় কোন্দল এড়াতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচন করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এবার এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই আসন বিএনপির ঘাঁটি। তৃণমূলের ঐক্য ও জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা অবশ্যই জয়ী হব।’
এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির জেলা আমির এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া। নির্বাচন সামনে রেখে তিনি ও দলের নেতা-কর্মীরা সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়েছেন।
রুহুল আমিন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ আসনে এবার বিএনপির জন্য বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী।’
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদরের একাংশ)
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এই আসনে দলীয় প্রার্থী। চারটি আসনের মধ্যে এটিতেই বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এর আগেও দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রথম আলোকে বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর আমার জন্মভূমি, আমার রাজনীতির মাটি। জনগণের ভোটেই আমি দুবার সংসদ সদস্য হয়েছি, এবারও বিশ্বাস করি, মানুষ আবার বিএনপিকে বিজয়ী করবে।’
এখানে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।
রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরের জনগণ পরিবর্তন চায়। একটি সৎ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ চায়। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নেমেছি।’
এ আসনে গণ অধিকার পরিষদের লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির সভাপতি নুর মোহাম্মদ সক্রিয় রয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর)
বিএনপি এ আসনে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। আসনটি বিএনপির জোটসঙ্গী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জেএসডি) ছাড়া হতে পারে, এমন গুঞ্জন রয়েছে।
দলটির প্রধান আ স ম আবদুর রব এই আসন থেকে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য হন। এরপর ২০০১ ও ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন বিএনপির সহশিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি এবারও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী।
অপর দিকে আ স ম রবের স্ত্রী তানিয়া রব এবার জেএসডি থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হতে চান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আ স ম আবদুর রব অসুস্থ, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও লড়াই এখানকার মানুষ বুকে ধারণ করে রেখেছেন। আমি সেই আদর্শের উত্তরাধিকার হিসেবে জনগণের পাশে থাকতে চাই।’
তবে জোটের জন্য আসন ছাড়তে নারাজ বিএনপির নেতা এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দুবার এই এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। ভালোমন্দ সময়ে মানুষের পাশে ছিলাম, উন্নয়ন করেছি আন্তরিকভাবে। এখন যদি জোটগত কারণে অন্য কাউকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, আমি জনগণের সেবা থেকে সরে দাঁড়াব না।’
আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যা। তিনি দলের জেলা সেক্রেটারি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রামগতি ও কমলনগরের মানুষ অনেক অবহেলিত। জনগণের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে এই অবহেলার রাজনীতি থেকে মুক্তি দিতে চাই।’
এ ছাড়া এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের উপদেষ্টা খালেদ সাইফুল্লাহ, গণ অধিকার পরিষদের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান উল্যা খান, এবি পার্টির প্রার্থী মিয়া আরিফ সুলতান সক্রিয় রয়েছেন।