জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ নম্বর ছাত্র হলে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৫৩তম ব্যাচ) ১৬ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন ২১ নম্বর হলের তানভীর রহমান (মুন), আবদুল্লাহ আল ফাহাদ ও আবদুল্লাহ আল সাঈদ। শহীদ রফিক–জব্বার হলের আবু তালহা রনি, রাজীব শেখ ও তাসনিমুল হাসান জুবায়ের। মওলানা ভাসানী হলের এস এম মাহামুদুন্নবী, মো.

আবু সাইদ, জান্নাতুল আদন ও আহম্মেদ আরেফিন রাতুল। আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের মাহামুদুল হাসান ফুয়াদ, আল হাসিব, আবদুল্লাহ আল নোমান ও উশান্ত ত্রিপুরা এবং মীর মশাররফ হোসেন হলের রাকিবুল হাসান (নিবির) ও জাহিদুল ইসলাম। তাঁরা প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৫৩তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ নম্বর হলের ৪০৩ নম্বর কক্ষে র‍্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট ১৬ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রোববার রাতে বিভাগটির দ্বিতীয় বর্ষের ওই শিক্ষার্থীরা নবীন শিক্ষার্থীদের প্রথমে রফিক–জব্বার চত্বরে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাঁদের ২১ নম্বর হলের ৪০৩ নম্বর কক্ষে যেতে বলা হয়। কক্ষে প্রবেশের পর নবীনদের শার্টের হাতা গুটিয়ে দুই সারিতে দাঁড় করিয়ে মুঠোফোন বন্ধ রাখতে বলা হয়।

দরজা–জানালা বন্ধ করে আলো নিভিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট তাঁদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এ সময় হলের নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলা মেনে চলার বিষয়ে নানা প্রশ্ন করা হয়। খবর পেয়ে হল সংসদের নেতা, নিরাপত্তাকর্মী ও সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতেই জুনিয়রদের ডাকা হয়েছিল। গরমের কারণে আলো নেভানো ছিল এবং পাশের কক্ষে পরীক্ষার্থী থাকায় যেন শব্দ না হয়, তাই দরজা–জানালা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

২১ নম্বর হলের প্রাধ্যক্ষ বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমরা হল সংসদের প্রতিনিধি, কিছু শিক্ষার্থী ও হলের কয়েকজন স্টাফসহ তাদের হাতেনাতে ধরেছি। এটা অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থী একটি কাজ।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৬ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। মওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামানকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর মো. আল–আমিন খান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি) লুৎফর রহমান আরিফ। কমিটিকে আগামী ২১ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ১৬ শ ক ষ র থ ক র হল র

এছাড়াও পড়ুন:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলন চলাকালে ছাত্র–জনতার ওপর হামলায় মদদ ও পরীক্ষার অনিয়মে জড়িত শিক্ষকদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক কাজী মেহরাব। এতে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনে হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার না করে গাদ্দারি করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একাডেমিক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আক্রোশের শিকার হয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘রেজাল্ট টেম্পারিংয়ের’ শিকার হচ্ছেন। এই প্রশাসন ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের বলির পাঁঠা বানিয়ে তারা শিক্ষক সিন্ডিকেট জিইয়ে রেখেছে। অবিলম্বে এসব শিক্ষকের বিচারকাজ শেষ করার দাবি জানান তাঁরা।

ইংরেজি বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক খন্দকার আল ফাহাদ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারের দাবি করে আসছি। কিন্তু আমাদের প্রশাসন একটা কথা বলে যে, তারা শিক্ষকদের প্রতি কোনো অবিচার করতে পারবে না। ঠিক কথা, তারা শিক্ষকদের প্রতি কোনো অবিচার করতে পারবে না। কিন্তু তারা ঠিকই প্রতিবার শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার করতে পারে; এমনটি আগেও করেছে, বর্তমানেও করছে। যে প্রশাসনকে আমরা একটি গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বসিয়েছি, তারা আজ এটিকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করছে।’

ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক নাদিয়া রহমান বলেন, হামলাকারী শিক্ষার্থীদের বিচার যদি এই দেড় বছরে করা সম্ভব হয়, তাহলে মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার কেন এই দেড় বছরে করা সম্ভব নয়? তারা জাকসুর আগে মিটিংগুলোয় বলেছিল, জাকসু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব শিক্ষকের বিচার সম্ভব। কোথায় সেই বিচার? জাকসু হওয়ার পর আজ প্রায় দুই মাস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকদের কোনো ধরনের বিচারের তৎপরতা প্রশাসনের ভেতরে দেখা যাচ্ছে না।

অবিলম্বে শিক্ষকদের বিচার না হলে এই প্রশাসনকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, এই শিক্ষকদের বিচার না হওয়ার পেছনে আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট জড়িত আছে। যে শিক্ষকেরা রেজাল্ট টেম্পারিং করছেন, তাঁদের অধিকাংশই আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট। যদি প্রশাসন এসব শিক্ষকের বিচার না করে, তাহলে সাবেক ভিসি নুরুল আলমের প্রশাসন যেভাবে বিদায় নিয়েছিল, এই প্রশাসনকেও সেভাবে নামানো হবে।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ ইমন প্রমুখ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার দাবি