সিলেটে মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে গণ-অবস্থান ও মানববন্ধন
Published: 13th, October 2025 GMT
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার ও যাতায়াতের দুর্ভোগ দূর করার দাবিতে সিলেটে গণ-অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বর এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর আহ্বানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে বিএনপির নেতা–কর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি সিলেটবাসীর প্রাণরেখা। কিন্তু সরকারের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতায় এটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে, মানুষ দুর্বিষহ ভোগান্তিতে পড়ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহালের বিষয় উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বছরের পর বছর সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। যানজট, দুর্ঘটনা আর ভাঙা রাস্তায় অতিষ্ঠ সিলেটবাসী। এতে পর্যটন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। তবু সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সিলেটবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, শুধু চট্টগ্রামে তিন ঘণ্টায় যাওয়া নিশ্চিত করলেই হবে না, সিলেটকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সিলেটকে আর বঞ্চিত করা যাবে না। সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তিন দফা ভয়াবহ বন্যার পরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সিলেটবাসীর দুর্ভোগের বিষয়ে অভিযোগ করে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেটে গ্যাস উৎপাদন হলেও এখানকার মানুষ গ্যাসসংকটে ভোগেন। রেলপথে ট্রেন সময়মতো আসে না, বিমানের ভাড়াও বেশি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কারিগরি, সড়ক-রেলযোগাযোগ কিংবা বিমানবন্দর—সব ক্ষেত্রেই সিলেটকে বৈষম্যের মধ্যে রাখা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা মহাসড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করা, অতীত প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনায় নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও বিকল্প ট্রাফিক ব্যবস্থার দাবি জানান। কর্মসূচি শেষে ২০ অক্টোবর জেলা বিএনপি জেলা প্রশাসকের কাছে এবং উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তাজরুল ইসলাম তাজুল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল, যুগ্ম সম্পাদক হাসান পাটোয়ারী রিপন, উপদেষ্টা ফালাকুজ্জামান চৌধুরী জগলু, উপদেষ্টা বদরুল ইসলাম জয়দু, দক্ষিণ সুরমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক, গোয়াইনঘাট উপজেলার এম সাইফুর রহমান টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান সুয়েব, সিলেট বিভাগ শিক্ষক–কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি নিজাম উদ্দিন তরফদার প্রমুখ।
তিন সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণা
সিলেট-ঢাকা রেলপথকে ডাবল করা, নতুন ট্রেন চালু ও রেলের মানোন্নয়নের দাবিতে আগামী বুধবার রেললাইনে শোয়া কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে তিনটি সংগঠন—সিলেট কল্যাণ সংস্থা, সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থা ও সিলেট প্রবাসীকল্যাণ সংস্থা। সংগঠনগুলোর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার বেলা তিনটায় দক্ষিণ সুরমা রেলগেটে নাগরিক সমাবেশ এবং ৩টা ৪০ মিনিটে ১০ মিনিটের জন্য রেললাইনে শোয়া কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে বিরতিহীন নতুন ট্রেন চালু, ডাবল লাইন নির্মাণ, ট্রেনের মানোন্নয়ন, সিলেট-ছাতক রুটে ট্রেন চালু, অতিরিক্ত বগি সংযোজন ও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধে ত্রুটিমুক্ত ইঞ্জিন যুক্ত করা।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ব এনপ র স ল টক ব যবস
এছাড়াও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার দাবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলন চলাকালে ছাত্র–জনতার ওপর হামলায় মদদ ও পরীক্ষার অনিয়মে জড়িত শিক্ষকদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক কাজী মেহরাব। এতে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনে হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার না করে গাদ্দারি করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একাডেমিক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আক্রোশের শিকার হয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘রেজাল্ট টেম্পারিংয়ের’ শিকার হচ্ছেন। এই প্রশাসন ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের বলির পাঁঠা বানিয়ে তারা শিক্ষক সিন্ডিকেট জিইয়ে রেখেছে। অবিলম্বে এসব শিক্ষকের বিচারকাজ শেষ করার দাবি জানান তাঁরা।
ইংরেজি বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক খন্দকার আল ফাহাদ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারের দাবি করে আসছি। কিন্তু আমাদের প্রশাসন একটা কথা বলে যে, তারা শিক্ষকদের প্রতি কোনো অবিচার করতে পারবে না। ঠিক কথা, তারা শিক্ষকদের প্রতি কোনো অবিচার করতে পারবে না। কিন্তু তারা ঠিকই প্রতিবার শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার করতে পারে; এমনটি আগেও করেছে, বর্তমানেও করছে। যে প্রশাসনকে আমরা একটি গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বসিয়েছি, তারা আজ এটিকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করছে।’
ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক নাদিয়া রহমান বলেন, হামলাকারী শিক্ষার্থীদের বিচার যদি এই দেড় বছরে করা সম্ভব হয়, তাহলে মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার কেন এই দেড় বছরে করা সম্ভব নয়? তারা জাকসুর আগে মিটিংগুলোয় বলেছিল, জাকসু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব শিক্ষকের বিচার সম্ভব। কোথায় সেই বিচার? জাকসু হওয়ার পর আজ প্রায় দুই মাস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকদের কোনো ধরনের বিচারের তৎপরতা প্রশাসনের ভেতরে দেখা যাচ্ছে না।
অবিলম্বে শিক্ষকদের বিচার না হলে এই প্রশাসনকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, এই শিক্ষকদের বিচার না হওয়ার পেছনে আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট জড়িত আছে। যে শিক্ষকেরা রেজাল্ট টেম্পারিং করছেন, তাঁদের অধিকাংশই আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট। যদি প্রশাসন এসব শিক্ষকের বিচার না করে, তাহলে সাবেক ভিসি নুরুল আলমের প্রশাসন যেভাবে বিদায় নিয়েছিল, এই প্রশাসনকেও সেভাবে নামানো হবে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ ইমন প্রমুখ।