শিশু শিক্ষার্থীর লাশ: জিজ্ঞাসাবাদে এখনও কোনো ক্লু পায়নি পুলিশ
Published: 7th, July 2025 GMT
নিখোঁজের এক দিন পর পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী মরদেহ উদ্ধার হলেও ঘটনার কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের হাবলিপাড়া মসজিদ থেকে রোববার সকালে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার হয়। এর আগে শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি মেয়েটি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মাইকিংয়ের পর রাতে সরাইল থানায় জিডি করা হয়।
লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রোববার রাতেই তার মা বাদী হয়ে সরাইল থানায় ধর্ষণ শেষে হত্যার অভিযোগ এনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় হামিদুর রহমান (৩০) ও সাইদুল ইসলামকে (২১) মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। লাশ উদ্ধারের পর থেকেই পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই, সিআইডিও বিষয়টি তদন্ত করছে।
এদিকে পরিবারের সদস্যদের দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে নয়, পাশবিকতার মনোবৃত্তি থেকেই ধর্ষণ শেষে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তার প্রবাসী বাবা দেশে ফিরছেন। লাশবাহী অ্যাম্বুল্যান্স বাড়ির আঙিনায় রাখা হলে শাহবাজপুর গ্রামসহ আশপাশ এলাকার শত শত নারী-পুরুষ ময়নাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমান।
মেয়েটির মা জানান, হামিদুর মেয়ের লাশ মসজিদের দোতলায় পড়ে থাকার খবর দেন তাকে। তিনি তার ভাশুরকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের বিবস্ত্র লাশ উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার গলায় সালোয়ার প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি সেখানেই জ্ঞান হারান।
তিনি আরও বলেন, ‘দুপর আড়াইটার দিকে মেয়ে মাদ্রাসারা অনুষ্ঠানে যায়। বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে এসে আমাকে দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে বাইরে যায়। আমাদের কোনো শত্রু নেই। যে বা যারা তাকে এভাবে ধর্ষণ শেষে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি মেয়েটি আত্বাকুয়া নুরানি তাহাফ্ফুজে কোরআন মাদ্রাসার নুরানি বিভাগে পড়ত। সেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শাহ মো.
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের দক্ষিণ পাশ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আশফাকুল মতিন খসরু স্মৃতি পাঠাগার। সেখানে কয়েক মাস আগ পর্যন্ত ঢাকা থেকে একজন চিকিৎসক এসে বিন্যামূল্যে চিকিৎসা দিতেন। এখন সেখানে কিছু লোক আড্ডা বসায়।
সরাইল থানার ওসি মোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, আটক দু’জনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থেই মামলার অগ্রগতির বিষয়ে কিছু জানাতে চাননি তিনি।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ব র হ মণব ড় য় র বব র মসজ দ
এছাড়াও পড়ুন:
শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১২৩
শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া-এর প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আরো ১৩০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) আজ শনিবার এই তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
ডিএমসি জানিয়েছে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে রাষ্ট্রীয় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আরো পড়ুন:
ম্যাচ চলাকালেই মারা গেলেন ভেল্লালাগের বাবা
পরাজয়ের মিছিল পেরিয়ে জয়ের অমৃত স্বাদ
যদিও ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া শনিবার উত্তরে প্রতিবেশী ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবুও রাজধানী কলম্বো থেকে ১১৫ কিলোমিটার (৭০ মাইল) পূর্বে ক্যান্ডির কেন্দ্রীয় জেলায় আরো ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এখানকার বেশ কয়েকটি এলাকার প্রধান সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে রয়েছে।
ডিএমসির মহাপরিচালক সম্পথ কোতুওয়েগোদা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
কোতুওয়েগোদা কলোম্বোতে সাংবাদিকদের বলেন, “সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।”
শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মহেশ গুণাসেকারা বলেছেন, বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় অনেক মানুষ আটকা পড়েছে। উদ্ধারকারী দল তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, “যদিও ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে দেশ থেকে সরে যাচ্ছে, তবুও আমাদের জন্য এখনও এটি শেষ হয়নি।”
বন্যার কারণে কর্তৃপক্ষ কলম্বো থেকে ভারত মহাসাগরে প্রবাহিত কেলানি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের জন্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। ডিএমসি জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কেলানি নদীর পানি বেড়ে গেছে। ফলে শত শত মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছে।
শ্রীলঙ্কান সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করার জন্য প্রবাসী শ্রীলঙ্কানদেরকে নগদ অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসেকারা কলম্বোভিত্তিক কূটনীতিকদেরকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং তাদের সরকারের সাহায্য চেয়েছেন।
ভারত ইতিমধ্যে দুটি বিমান ভর্তি ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। এছাড়াও কলম্বোতে শুভেচ্ছা সফরে থাকা ভারতীয় একটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য তাদের রেশন দান করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীলঙ্কায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি আরও সাহায্য পাঠাতে প্রস্তুত।
শনিবার শ্রীলঙ্কার রাজধানীসহ বেশিরভাগ অংশে বৃষ্টিপাত কমে গেছে। তবে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার প্রভাবের কারণে দ্বীপের উত্তরের কিছু অংশে এখনও বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার দেশটির সরকারি অফিস ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল দুর্যোগের কারণে দেশের কিছু অঞ্চলে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ভারি বৃষ্টিতে সার্বিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিপাতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক পানিতে ডুবে যায়। নদী ও জলাধার থেকে পানি উপচে পড়ায় আন্তঃজেলার বেশ কিছু সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।
ঢাকা/ফিরোজ