সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে গোহালা নদী। প্রায় ২৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই নদীটির  আড়াই কিলোমিটার এলাকা ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা শতাধিক জেলে জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উধুনিয়া বাজারে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। নদীটির একটি শাখা থেকে শতাধিক মৎস্যজীবী মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। সেই নদীতে স্থানীয় একটি মসজিদ কমিটি ১ লাখ ৬২ হাজার টাকায় ইজারা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার উধুনিয়া বাজার জামে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে নদী ইজারার দরপত্রে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দরপত্রে ৩৫ হাজার টাকা থেকে দর উঠতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত উধুনিয়া গ্রামের ইউসুফ আলী মোল্লা ১ লাখ ৬২ হাজার টাকায় নদীটি ইজারা নেন। 

মসজিদ কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, বাংলা আশ্বিন থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত ইজারা দেওয়া আড়াই কিলোমিটার অংশে ইজারাদার ছাড়া কেউ মাছ ধরতে পারবেন না। ফলে স্থানীয় জেলেদের জীবিকার তাগিদে ইজারাদারের কাছে টাকা দিয়ে মাছ ধরতে হবে।

উধুনিয়া গ্রামের জেলে শংকর, আলিফ, আব্দুল মান্নান ফকিরসহ একাধিক মৎস্যজীবীরা জানান, এই নদীতে কেউ ১০ বছর ধরে, কেউ ১৫ বছর আবার কেউ বা গত ৪০ বছর ধরে বিনা খরচে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু এ বছর ইজারাদারকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা জমা দিয়েই মাছ ধরতে হবে। এত টাকা দিয়ে মাছ ধরা আমাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে যাবে। এলাকায় শতাধিক পেশাদার ও অপেশাদার মৎস্যজীবী রয়েছেন, সকলের অবস্থাই একই রকম।

স্থানীয় দোকানদার সোহেল রানা বলেন, “মসজিদ কমিটি ইজারার জন্য মাইকিং করেছিল। পরে উধুনিয়া বাজার এলাকায় সবার উপস্থিতিতে দরপত্র অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম।”

ইজারা গ্রহীতা ইউসুফ আলী মোল্লা বলেন, “অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আমি সর্বোচ্চ দর ১ লাখ ৬২ হাজার টাকায় আড়াই কিলোমিটার গোহালা নদীর ইজারা পেয়েছি। মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতেই এটি সম্পন্ন হয়েছে।”

উধুনিয়া জামে মসজিদের সহ-সভাপতি হাজি আব্দুল হামিদ বলেন, “মসজিদের উন্নয়নের তহবিলের জন্য নদীটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারা নেওয়ার পর অন্য কেউ মাছ ধরতে পারবে না। নদীতে মাছ ধরতে হলে ইজারাদারকে টাকা দিতে হবে মৎস্যজীবীদের।”

উল্লাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, “নদীতে মাছ ধরার জন্য কোনো মসজিদ কমিটির ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। এধরনে কাজ যারা করেছে তারা ঠিক করেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা রিমা বলেন, “সরকারি জলমহাল নিয়ম অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসে ইজারা দেওয়া হয়। কেউ চাইলেই নদী ইজারা দিতে পারে না।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, “গোহালা নদী সরকারি সম্পদ। কোনো ব্যক্তি বা কমিটি নদী ইজারা দিতে পারে না। যদি কেউ দিয়ে থাকেন, খোঁজ খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.

মোখলেসুর রহমান বলেন, “গোহালা নদী ইজারা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই। যদি কেউ এধরনের কাজ করে থাকে, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/অদিত্য/এস

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ইজ র দ র উপস থ ত ম ছ ধরত দরপত র উপজ ল মৎস য

এছাড়াও পড়ুন:

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে মামলা

দরপত্রে অনিয়ম ও প্রতারণা করে ২ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার ঠিকাদারি কাজ একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার অভিযোগে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামীম আহমেদসহ চারজনের নামে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুদক পিরোজপুর কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল বাদী হয়ে মামলাটি করেন। অভিযুক্ত ডা. শামীম আহমেদ বর্তমানে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে কর্মরত।

আরো পড়ুন:

কুমিল্লায় ব্যবসায়ী আনোয়ার হত্যা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

শেখ হাসিনা, রেহানা, টিউলিপসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে রায় ১ ডিসেম্বর

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বরিশাল কাটপট্রি রোডের ঠিকাদার শিপ্রা রানী পিপলাই, স্বামী সত্য কৃষ্ণ পিপলাই ও তাদের ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ের জন্য পাঁচ কোটি টাকার এপিপি অনুমোদন করা হয়। এপিপি অনুমোদনের পর গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, অসুধ, কেমিক্যাল, আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামীম আহমেদ ২ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করেন। ছয়টি গ্রুপের দরপত্রে প্রতিগ্রুপে পাঁচটি করে দরপত্র বিক্রি দেখানো হয়।

মেসার্স আহসান ব্রাদার্স, পিপলাই এন্টারপ্রাইজ, বাপ্পী ইন্টারন্যাশনাল ও শহিদুল ইসলাম এই চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। ডা. শামীমের নেতৃত্বে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি তিনটি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আহসান ব্রাদার্স, পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও বাপ্পী ইন্টারন্যাশনালকে উপযুক্ত বিবেচনা করে কার্যাদেশ প্রদান করে। অথচ এই তিনটি প্রতিষ্ঠান আসামি সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই একাই পরিচালনা করেন।

মেসার্স আহসান ব্রাদার্স এর প্রোপাইটর দেখানো হয় সোহাগের বাবা সত্য কৃষ্ণ পিপলাইকে, বাপ্পী ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর সোহাগের মা শিপ্রা রানী পিপলাইকে এবং পিপলাই এন্টারপ্রাইজের মালিক সোহাগ পিপলাই নিজে। প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ৮৩৭/৮৩৮ উত্তর কাটপট্রি বরিশাল সদর।

অভিযুক্ত ডা. শামীম আহমেদ বলেন, “সাজানো এবং বানানো অভিযোগে আমার নামে মামলা করা হয়েছে। আমি যড়যন্ত্রের শিকার।” 

মামলার বাদী দুদক পিরোজপুরের উপ-সহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল বলেন, ‍“আসামি ডা. শামীম আহমেদ নিজে এবং অপর আসামিদের লাভবান করার জন্য পরস্পর যোগসাজসে দাখিলি দরপত্রে আইটেম ভিত্তিক প্রায় কাছাকাছি সাজানো প্রতিযোগিতা দেখিয়েছেন, যা পিপিআর বিধিমালা ২০০৮ এর ১২৭(৩)(খ) অনুযায়ী চক্রান্তমূলক কার্য এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।” 

বাদী আরো জানান, মামলা রেকর্ডের পর কাগজপত্র ঢাকায় কমিশনে পাঠানো হয়েছে। কমিশন থেকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেবেন।

ঢাকা/অলোক/মাসুদ

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে মামলা