জাতীয় নির্বাচনের তফসিলের আগেই গণভোটের দাবি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের
Published: 14th, October 2025 GMT
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ‘জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতির জন্য যে গণভোট, সেটা আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই হতে হবে।’
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত মানববন্ধনে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান একথা বলেন।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, পিআর পদ্ধতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ রাজধানীর গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত মানববন্ধন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ছিলেন।
এ সময় মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি নির্ধারণ না হলে জুলাই সনদ গুরুত্বহীন হয়ে যাবে। জাতীয় নির্বাচনটাও সংকটাপন্ন হওয়ার একটা আশঙ্কা তৈরি হবে।
নির্বাচন কমিশন একটি দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি অতীতের নির্বাচন কমিশনগুলোর মত এ নির্বাচন কমিশনও একটি দলকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য মেকানিজম করছে।’
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে যেন–তেন নির্বাচনের দিকে যাওয়া যাবে না, মৌলিক সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে হত্যা করা যাবে না।’
আরও পড়ুনইসলামি শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন জরুরি: চরমোনাই পীর১০ অক্টোবর ২০২৫পিআর পদ্ধতির আলোকে নির্বাচন হতে হবে উল্লেখ করে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘এটা জনগণের দাবি। ইসলামী আন্দোলনের দাবি।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচ দফা দাবিহলো—জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, পিআর পদ্ধতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফ্লিড নিশ্চিত করা, গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার, বিশেষ ট্রাইবুনালে জাতীয় পার্টিরসহ ১৪ দলের বিচার এবং নিষিদ্ধ করা।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাউয়ুম প্রমুখ।
আরও পড়ুনকোনো অবস্থাতেই দেশকে আগের পরিস্থিতিতে যেতে দেওয়া হবে না: চরমোনাই পীর০৮ অক্টোবর ২০২৫আরও পড়ুন’৭২–এর সংবিধান টিকিয়ে রাখতে ভারতের ইশারায় মরিয়া বিএনপি: গাজী আতাউর রহমান০৪ অক্টোবর ২০২৫.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: জ ল ই সনদ র আইন ইসল ম
এছাড়াও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার দাবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলন চলাকালে ছাত্র–জনতার ওপর হামলায় মদদ ও পরীক্ষার অনিয়মে জড়িত শিক্ষকদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক কাজী মেহরাব। এতে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনে হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার না করে গাদ্দারি করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একাডেমিক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আক্রোশের শিকার হয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘রেজাল্ট টেম্পারিংয়ের’ শিকার হচ্ছেন। এই প্রশাসন ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের বলির পাঁঠা বানিয়ে তারা শিক্ষক সিন্ডিকেট জিইয়ে রেখেছে। অবিলম্বে এসব শিক্ষকের বিচারকাজ শেষ করার দাবি জানান তাঁরা।
ইংরেজি বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক খন্দকার আল ফাহাদ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারের দাবি করে আসছি। কিন্তু আমাদের প্রশাসন একটা কথা বলে যে, তারা শিক্ষকদের প্রতি কোনো অবিচার করতে পারবে না। ঠিক কথা, তারা শিক্ষকদের প্রতি কোনো অবিচার করতে পারবে না। কিন্তু তারা ঠিকই প্রতিবার শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার করতে পারে; এমনটি আগেও করেছে, বর্তমানেও করছে। যে প্রশাসনকে আমরা একটি গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বসিয়েছি, তারা আজ এটিকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করছে।’
ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক নাদিয়া রহমান বলেন, হামলাকারী শিক্ষার্থীদের বিচার যদি এই দেড় বছরে করা সম্ভব হয়, তাহলে মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার কেন এই দেড় বছরে করা সম্ভব নয়? তারা জাকসুর আগে মিটিংগুলোয় বলেছিল, জাকসু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব শিক্ষকের বিচার সম্ভব। কোথায় সেই বিচার? জাকসু হওয়ার পর আজ প্রায় দুই মাস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকদের কোনো ধরনের বিচারের তৎপরতা প্রশাসনের ভেতরে দেখা যাচ্ছে না।
অবিলম্বে শিক্ষকদের বিচার না হলে এই প্রশাসনকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, এই শিক্ষকদের বিচার না হওয়ার পেছনে আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট জড়িত আছে। যে শিক্ষকেরা রেজাল্ট টেম্পারিং করছেন, তাঁদের অধিকাংশই আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট। যদি প্রশাসন এসব শিক্ষকের বিচার না করে, তাহলে সাবেক ভিসি নুরুল আলমের প্রশাসন যেভাবে বিদায় নিয়েছিল, এই প্রশাসনকেও সেভাবে নামানো হবে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ ইমন প্রমুখ।