লালন মেলায় মাদক কারবারিদের মারধরে সাংবাদিক আহত
Published: 14th, October 2025 GMT
কুষ্টিয়ায় লালন মেলায় এক সাংবাদিককে মারধর করেছে মাদক কারবারিরা। আহত রাজু আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টায় কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন মেলার মাঠে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাকে মারধর করা হয়। আহত রাজু অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ঢাকা পোস্ট ও বাংলা এডিশনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
আরো পড়ুন:
গাজীপুরে মেলায় হেলে পড়লো নাগরদোলা, আহত ৫
সাতক্ষীরায় গুড়পুকুর মেলা হচ্ছে না
আহত রাজু আহমেদ বলেন, ‘‘লালন মেলায় ৩০০টি গাঁজার দোকান বসেছে। সেখানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও মাদক সেবন করা হয়। লালন মেলার মাঠে সংবাদ সংগ্রহকালে সেখানকার মাদক সিন্ডিকেটের লোকজন আমার ওপর হামলা করে এবং মারধর করে আহত করেছে।’’ এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা বলেন, ‘‘রাজু লালন মেলার সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় মাদক সিন্ডিকেটের লোকজন তার ওপর হামলা করে এবং মারধর করে আহত করেছে।’’ তারাও এর প্রতিবাদ জানান।
কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, ‘‘যারা রাজুকে মারধর করেছে, তাদের দ্রুত আইনের এনে শাস্তি দিতে হবে।’’
রাজুকে উদ্ধার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা.
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, ‘‘সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
ঢাকা/কাঞ্চন/বকুল
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ম ল র খবর
এছাড়াও পড়ুন:
নায়িকা পপিকে আইনি নোটিশ
মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তার চাচাতো বোনজামাই মো. তারেক আহমেদ চৌধুরী। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডলের মাধ্যমে পপির খুলনা ও ঢাকার ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়।
এসব তথ্য গণমাধ্যমে নিশ্চিত করে তারেক আহমেদ চৌধুরী বলেন, “আমার স্ত্রী সম্পর্কের আত্মীয় সাদিকা পারভীন পপি বিভিন্ন সময় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে পারিবারিকভাবে কথা বলতে পারেন কিংবা আইনিভাবে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু তিনি সেটা না করে বিভিন্ন মাধ্যমে আমার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছেন। যেজন্য আইনিভাবে তাকে এই বিষয়গুলো আমি জানিয়েছি।”
আরো পড়ুন:
শাকিবের নায়িকা রহস্য
শীতের সকালে একটু নদীতে নামলাম: ভাবনা
পূর্বের ঘটনা উল্লেখ করে তারেক আহমেদ চৌধুরী বলেন, “এর আগেও তিনি (পপি) আমাকে দোষারোপ করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছিল। ফলে আমি তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছি।”
পপিকে আইনি নোটিশ পাঠানো প্রসঙ্গে আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডল গণমাধ্যমকে জানান, তার মক্কেল ঢাকায় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পদে আছেন। সাদিকা পারভীন পপির প্রয়াত চাচা প্রয়াত মিয়া কবির হোসেনের জামাতা হলেন তার মক্কেল তারেক আহমেদ চৌধুরী। বৈবাহিক সূত্রে তার সঙ্গে পপির আত্মীয়তার সম্পর্ক।
আইনি নোটিশে বলা হয়, “একটি সম্পত্তি নিয়ে তাদের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। ওই সম্পত্তিটি সাদিকা পারভীন পপির প্রয়াত চাচার মালিকানাধীন ছিল, যা একটি বৈধ হেবা দলিলের মাধ্যমে তারেক আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী এবং তার মাকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয় এবং তারা আইনগতভাবে উক্ত সম্পত্তির মালিক হন। আমার মক্কেল উক্ত সম্পত্তির কোনো আইনগত উত্তরাধিকারী নন এবং উক্ত সম্পত্তির ওপর তার কোনো দখল, মালিকানা বা আইনি স্বার্থ নেই; সম্পত্তিটির হস্তান্তর ও বণ্টন সম্পূর্ণরূপে উক্ত হেবা দলিল ও প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইনের অধীন পরিচালিত হয়। আমার মক্কেলের সঙ্গে উক্ত সম্পত্তিগত বিরোধের কোনো আইনগত বা বাস্তবিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও, নোটিশ গ্রহীতা গত ২১ নভেম্বর প্রচারিত একটি টিভি অনুষ্ঠানে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ করেছেন এবং তা প্রকাশ করেছেন।
ইলিয়াছ আলী বলেন, “টিভি অনুষ্ঠানে পপি বলেছেন, আমার মক্কেল তাকে তার নিজ এলাকায় চলাফেরায় বাধা দিচ্ছেন এবং তাকে উক্ত সম্পত্তিতে তার অংশ থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে এমনটি করছেন।”
পপির ধারাবাহিক, বিদ্বেষমূলক ও ভিত্তিহীন জনসমক্ষে প্রদত্ত অভিযোগসমূহ তারেক আহমেদ চৌধুরীর পেশাগত অবস্থান ও নৈতিক সুনামকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে নোটিশো অভিযোগ করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, আপনি অবিলম্বে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে টিভি বা অন্য কোনো জনসমক্ষে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকবেন এবং যে টিভি চ্যানেলে অভিযোগ প্রচারিত হয়েছিল সেই একই সময় টিভি চ্যানেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। স্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন যে, আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন ছিল। এছাড়া, আপনি উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে আমার মক্কেলকে আর সম্পৃক্ত করবেন না, কারণ উক্ত বিষয়ে তার কোনো আইনগত অবস্থান বা সম্পৃক্ততা নেই।
এছাড়া এই আইনি নোটিশ দেওয়ার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে উপরোক্ত নির্দেশসমূহ পালন করতে ব্যর্থ হলে পপির বিরুদ্ধে যথাযথ ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন; যার মধ্যে মানহানি মামলা দায়ের ও তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করাসহ সকল আইনানুগ প্রতিকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডল।
ঢাকা/রাহাত/শান্ত