জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানের মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্তের বিষয়ে একমত নয় বিএনপি
Published: 10th, July 2025 GMT
জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্তের বিষয়ে একমত নয় বিএনপি। এ বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঘোষণাপত্রের পুরোটা না নিয়ে জুলাই-আগস্ট ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানের চেতনাটুকু ধারণ করে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য চতুর্থ তফসিলে শুধু ‘জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪’ আনা যেতে পারে। অন্যদিকে সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে জুলাই ঘোষণাপত্রের স্বীকৃতি ও কার্যকারিতা চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১১তম দিনের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। তখন কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের কার্যকারিতা শেষ। সে ঘোষণাপত্র চতুর্থ তফসিলে এসে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, প্রতিটি আইন কিন্তু সংবিধানে উল্লেখিত নয়। বলা হলো, এটা তফসিলে থাকবে, এটাই লেজিটিমেসি (বৈধতা), স্বীকৃতি। তিনি আরও বলেন, ঘোষণাপত্র লিটারেচার হিসেবে, ডকুমেন্টারি হিসেবে আর্কাইভে থাকে, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকে না। ’৭২–এর সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে সংযুক্ত না করা এটা প্রমাণ করে, কোনো ঘোষণাপত্র সংবিধানের অংশ হয় না। ঘোষণাপত্র হলো ঘোষণাপত্র, এটার রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকে, এটা আর্কাইভে থাকে। এটাকে জাতি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে উল্লেখ করে, স্মরণ করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘আমরা গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এর গুরুত্ব, মর্যাদা, মহিমা ধারণ করি। আমরা এটাকে স্বীকৃতি দিই, সারা জাতি এটাকে স্বীকৃতি দেয়। এটাকে আমরা যথাযথ মর্যাদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র সম্পর্কে একটি রাজনৈতিক দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের ওপর দায়িত্ব বর্তেছে, সরকার এখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে এ ঘোষণাপত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা ইতিপূর্বে সে রকম একটা প্রস্তাব পাওয়ার পরে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দুজন উপদেষ্টার কাছে আমি নিজেই আমাদের দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত অনুসারে ঘোষণাপত্রের বিষয়ে আমাদের মতামতসংবলিত একটা ড্রাফট (লিখিত বক্তব্য) হস্তান্তর করেছিলাম। কিন্তু আমরা তার কোনো ফিডব্যাক পাইনি।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সরকারের একজন উপদেষ্টা আমাদের মহাসচিবের (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) সঙ্গে যোগাযোগ করে জুলাই ঘোষণাপত্রসংক্রান্ত তাদের একটা প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা আগে যে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তার কিছু কিছু বিষয় এটার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করে এক দিনের মধ্যে আমাদের দলের মতামত একটি ডাফ্রট করে সরকারের সেই উপদেষ্টার কাছে প্রেরণ করেছি। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হয়, আলাপ-আলোচনা কী হয়, সেটার জন্য অপেক্ষা করছি।’
বিএনপি জুলাই ঘোষণাপত্রকে চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর্টিকেল ১০৬ অনুসারে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ এবং কর্মকাণ্ডের বৈধতা চতুর্থ তফসিলে যুক্ত করে বৈধতা দেওয়া যেতে পারে।’
বিএনপি বিচার বিভাগকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বাইরে রাখার পক্ষে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিএনপি দুই-তিনটি বিকল্প নিয়ে ভাবছে। যেখানে বিচারপতিদের কেবল শেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এসব প্রস্তাব এখনো দলের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় রয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আগামী বৈঠকে তা উপস্থাপিত হতে পারে।
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত করে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতির মধ্য থেকে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবে প্রায় ঐকমত্য হয়েছে—যদি না সংশ্লিষ্ট বিচারপতির বিরুদ্ধে ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তদন্ত চলমান থাকে। বিএনপি এই প্রস্তাবকে সমর্থন করছে। কারণ, এটি নির্বিচার নিয়োগের ঝুঁকি কমাবে।
জরুরি অবস্থাসংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, সংবিধানের ১৪১(খ) ও ১৪১(গ) অনুচ্ছেদ সংস্কারের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্য হয়েছে যেন এই ক্ষমতা রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করা না যায়। ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’ শব্দটি যুক্তিসংগত ভিত্তি হিসেবে সরিয়ে দেওয়া এবং তার বদলে সাংবিধানিক সংকট, মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো কারণ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। আরও একটি প্রস্তাব হলো প্রধানমন্ত্রীর এককভাবে নয়, বরং পূর্ণ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে জরুরি অবস্থা জারির বিধান নিশ্চিত করা।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: স ল হউদ দ ন আহমদ ব প রস ত ব র জন ত ক ব চ রপত সরক র র আম দ র ব এনপ
এছাড়াও পড়ুন:
ঢাবি আইবিএর বিবিএ প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) বিবিএ প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০টি আসনের বিপরীতে ৯ হাজার ৫২৬ জন ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।
পরীক্ষা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শাকিল হুদা উপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘‘সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কঠোর প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় ১টি আসনের বিপরীতে ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশ নিচ্ছে। ফলে ৭৯ জনই ভর্তির সুযোগ পাবে না। তাদের মনে রাখতে হবে, ভর্তির সুযোগ পাওয়া মানেই জীবনের শেষ কথা নয়।’’
২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘চারুকলা ইউনিট’-এর আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামীকাল শনিবার (২৯ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে।
‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর, ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা ১৩ ডিসেম্বর ও ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০ ডিসেম্বর। সকল ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা/সৌরভ/রাজীব