আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকার শ্বশুরবাড়িতে বন্দুকধারীদের হামলা
Published: 11th, July 2025 GMT
২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপাজয়ী নায়কদের একজন নাহুয়েল মলিনা। সম্প্রতি আর্জেন্টিনাতে এই খেলোয়াড়ের শ্বশুরবাড়িতে নেমে এসেছিল ভয়াবহ এক বিপর্যয়। যে বিপর্যয়ে রীতিমতো জীবন নিয়ে সংশয়ে পড়েছিলেন মলিনার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স এইরেসের লানুসে মলিনার শ্বশুর ক্লাউদিও অকিউজ্জির বাড়িতে হামলা করে আটজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী।
হামলাকারীরা ঘরের ভেতর প্রবেশ করে ক্লাউদিওর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মারধর করে। পরবর্তী সময় স্থানীয় পুলিশের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়ায় সন্ত্রাসীরা। ঘটনার পর বিস্তারিত বিবরণ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আতলেতিকো মাদ্রিদ রাইটব্যাক মলিনার শ্বশুর ক্লাউদিও।
আরও পড়ুনদুর্বৃত্তদের হুমকির এক বছর পর শৈশবের ক্লাবে ফিরলেন দি মারিয়া৩০ মে ২০২৫ক্লাউদিওর ভাষায়, ‘আমরা বসার ঘরে বসে টিভি দেখছিলাম, হঠাৎ খাবারঘরের জানালার বাইরে শব্দ শুনতে পাই। এরপর আমি এগিয়ে যাই। কালো পোশাক পরা এক অপরাধী ঘরে ঢুকে আমার মাথায় বন্দুক ঠেকায়। এরপর আরও তিনজন আমার সঙ্গে ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা আমাকে শোবার ঘরে নিয়ে যায়, নির্যাতন শুরু করে। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তারা আমাকে মারধর করে এবং টাকা কোথায় রেখেছি, সেটা বলার জন্য জোর করতে থাকে।’
এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়ায় সন্ত্রাসীরা। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে ক্লাউদিও বলেন, ‘যখন তারা খাবারঘরের দরজা পার হলো, তখনই পুলিশের দিকে গুলি ছোড়া শুরু করল। ১০ থেকে ১৫টির বেশি গুলির শব্দ শুনেছি। একজন বাইরে পালায়, বাকি তিনজন আবার ঘরে ফিরে আসে। সেটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ের মুহূর্ত। আমি সত্যিই ভেবেছিলাম ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। হয়তো ওরা ভেবেছিল আমি পুলিশকে খবর দিয়েছি।’
ক্লাউদিও আরও বলেন, ‘ওরা পেছনের দরজা দিয়ে পালাতে চাচ্ছিল, তাই আমি তাদের সঙ্গে গিয়ে গেট খোলার চেষ্টা করি, যেটাতে তালা লাগানো ছিল। আমি এতটাই ঘাবড়ে গিয়েছিলাম যে তালাটা খুলতেই পারছিলাম না। ওরা বারবার আমার মাথায় রিভলবার ঠেকাচ্ছিল এবং ট্রিগার টানছিল।’
আরও পড়ুনপ্রতি গোলে ১০০টি করে গাছ লাগায় ব্রাজিলের এই ক্লাব৩ ঘণ্টা আগেএই ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারীদের ধাওয়া করে বুয়েনস এইরেসের পুলিশ। আটজন হামলাকারীর মধ্যে তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বাকি পাঁচজন পালিয়ে যায়। উদ্ধার করা হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ও চুরির সরঞ্জাম। পুলিশ ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে বলে জানিয়েছে মার্কা।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: আর জ ন ট ন বন দ ক
এছাড়াও পড়ুন:
ফ্রিল্যান্সিং করে ২২ বছরের তানিয়ার মাসে আয় লাখ টাকা
অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল তানিয়া খলিলের (২২)। বিয়ের বছরখানেক পরই মা হন তিনি। এরই মধ্যে সংসার আর শিশুসন্তান সামলিয়েই তিনি হয়ে ওঠেন ফ্রিল্যান্সার। নিজে ফ্রিল্যান্সিং শিখে অন্যদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এখন তাঁর মাসে আয় প্রায় এক লাখ টাকা।
তানিয়ার বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার বাজারপাড়া এলাকায়। ২০২১ সালে মাটিরাঙ্গা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তাঁর বিয়ে হয়। স্বামী ইব্রাহিম খলিল পেশায় ফ্রিল্যান্সার। সেই সুবাদে তানিয়ারও এ জগতে চলা শুরু। ২০২৩ সালের শুরুতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খাগড়াছড়ি সদরে চলে আসেন। সেখানেই এখন দুজন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালান।
তানিয়া জানান, বিয়ের পর পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এর মধ্যেও ঘরে বসে কিছু করতে চাইতেন। এরপর স্বামী ইব্রাহিম খলিল তাঁকে ফ্রিলান্সিং শেখার জন্য উৎসাহ দিতে থাকেন। তিনিও সে সুযোগ হাতছাড়া করেননি।
প্রথম আয় আমাকে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মনে হয়েছিল, সত্যিই কিছু করার সামর্থ্য আছে আমার।—তানিয়া খলিল, ফ্রিল্যান্সারতানিয়া খলিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি প্রথমে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শেখা শুরু করি। রং, লে আউট, টাইপোগ্রাফি—সবই আমার কাছে নতুন ছিল। নিজের আগ্রহ থাকায় দ্রুত শিখে ফেলি। কয়েক মাসের মধ্যেই নিজেকে ফ্রিল্যান্সিং বাজারের জন্য তৈরি করে ফেলতে সক্ষম হয়েছি।’
ফ্রিল্যান্সিং শেখার মধ্যেই ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম কাজ পেয়েছেন তানিয়া। লোগো ডিজাইন করে সে মাসে তিনি ১৩ ডলার আয় করেছিলেন। এর পর থেকে আর থেমে থাকতে হয়নি তাঁকে। সেই স্মৃতি মনে করে তানিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম আয় আমাকে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মনে হয়েছিল সত্যিই কিছু করার সামর্থ্য আছে আমার।’
তানিয়া বলেন, লোগো ডিজাইনের পর ব্র্যান্ড আইডেনটিটি, বিজনেস কার্ড, লেটারহেড তৈরিসহ নানান ধরনের কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। গ্রাহকদের খুশি করতে পারায় দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম বাড়ে তাঁর। এরপর একের পর এক কাজ আসতে থাকে। আয়ও সমানতালেই বাড়তে থাকে। বর্তমানে তিনি ফাইভারের পাশাপাশি আপ ওয়ার্কে ফ্রিল্যান্সের কাজ করেন।
সম্প্রতি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের দোতলায় প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের বিশাল কক্ষে সারিবদ্ধভাবে ল্যাপটপ নিয়ে বসে রয়েছেন কয়েকজন তরুণী। তানিয়া তাঁদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। একটু শুনতেই বোঝা গেল তানিয়া তরুণীদের গ্রাফিক ডিজাইন কীভাবে করতে হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।তানিয়ার জন্য এসব কাজ অবশ্য খুব একটা সহজ ছিল না। সময়মতো কাজ জমা দেওয়া, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, সন্তানকে দেখাশোনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই ছিল চ্যালেঞ্জের। তানিয়া বলেন, ‘পরিবারের সাপোর্ট না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। আমার স্বামী এখনো আমার সবচেয়ে বড় সহযোগী।’
খাগড়াছড়ি শহরে নারীদের ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তানিয়া খলিল। সম্প্রতি তোলা