আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংলাপে কোন কোন দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে তা পর্যায়ক্রমে জানানো হবে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি আরও বলেন, বাগেরহাটের আসন পুনর্বহাল নিয়ে আদালতের আদেশের কপি এখনো হাতে পায়নি ইসি। এটি পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। তা সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি। এর অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক হবে।

সাধারণত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেই সংলাপ করে ইসি। বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দল আছে ৫৪টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। এর বাইরে জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলীয় জোটের শরিক নিবন্ধিত দলগুলোকে সংলাপে ডাকা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি ইসি।

কাদের কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, তা পর্যায়ক্রমে জানানো হবে। ইসি কিছু গোপন করছে নাআখতার আহমেদ, সচিব, নির্বাচন কমিশন

জাতীয় পার্টিকে ডাকা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে সরাসরি জবাব দেননি ইসি সচিব। আখতার আহমেদ বলেন, কাদের কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে তা পর্যায়ক্রমে জানানো হবে। ইসি কিছু গোপন করছে না।

আদেশের অপেক্ষা

বাগেরহাটে সংসদীয় আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিন আসন করা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আগের মতো বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহাল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ইসি এখন পর্যন্ত আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি পায়নি। এটি পাওয়ার পর কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে নাকি এটা মেনে নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এখন সংসদীয় আসনের সীমানা সম্পর্কিত কতটি রিট আবেদন হয়েছে, তা তাৎক্ষণিক সুনির্দিষ্টভাবে তিনি বলতে পারছেন না। ৩০টি বা এর বেশি হতে পারে।

সীমানা নিয়ে জটিলতার কারণে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, প্রভাব পড়তে পারে। নির্বাচন কমিশন আদালতের আদেশ কীভাবে পর্যালোচনা করবেন বা তার পরবর্তী পদক্ষেপ কীভাবে নেবেন, এটা তার ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ ‘না’ দুটোই।

সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসি সচিব বলেন, আদালতের পর্যবেক্ষণ না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা তো জানি যে আইনগতভাবে এটা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। তারপরেও তো রিট হয়েছে। এখন দেখা যাক আমরা অবজারভেশনটা কী পাই। সে অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থাটা নেব।’

আরও পড়ুনজাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির শেষ ধাপে, গণভোট নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ইসি ০৯ নভেম্বর ২০২৫.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ন বন ধ ত

এছাড়াও পড়ুন:

শনিবার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় আবার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয় ও এর সংলগ্ন এলাকাকেও এই ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে।

আজ বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী শনিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সচিবালয় (সংলগ্ন এলাকাসহ) এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং ও মিন্টো রোড ক্রসিংয়ের মধ্যবর্তী এলাকা) সব ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হলো।

এর আগেও কয়েক দফায় ডিএমপি কমিশনার স্বাক্ষরিত পৃথক গণবিজ্ঞপ্তিতে একই এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করার পরও কেন আবারও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো—জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গণবিজ্ঞপ্তির মেয়াদ থাকে ৩০ দিন পর্যন্ত। ৩০ দিন পর নতুন করে আবার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • শনিবার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় আবার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
  • ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের জটিল সমস্যা চারকোট আর্থ্রোপ্যাথি কেন হয়, চিকিৎসা কী
  • ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন প্রভা
  • জকসুর নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ স্থগিত
  • রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকট ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ