চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে সম্প্রতি ফাঁস হওয়া নিয়োগ কেলেঙ্কারি প্রমাণ করে, কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়াদকালে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, এমন অনেককেই নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন বড় পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতেই হবে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সাবেক মেয়রের শেষ দুই বছরে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ১৮৮ জনের মধ্যে অন্তত ৬৪ জনকে একলাফে উচ্চ গ্রেডে পদায়ন করা হয়েছে। এর বাইরে আরও থাকতে পারেন, তাঁদের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হোক। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জনবলকাঠামো অনুযায়ী, শ্রমিক পদ ২০তম গ্রেডের। এই শ্রমিকদের মধ্য থেকেই উপসহকারী প্রকৌশলী, কর আদায়কারী, সড়ক তদারককারী, অনুমতিপত্র পরিদর্শক এবং হিসাব সহকারীর মতো উচ্চ গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যেসব পদ ১০ম থেকে ১৬তম গ্রেডের মধ্যে। অথচ এসব পদে পদোন্নতির জন্য ১২ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, যা এ ক্ষেত্রে মানা হয়নি।

এ নিয়োগ ও পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি, এমনকি লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। বলতেই হয়, এ নিয়োগ ভয়াবহ অনিয়মের চূড়ান্ত উদাহরণ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তৎকালীন মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, কিছু কর্মকর্তা ও শ্রমিকনেতাদের সুপারিশেই এসব নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে নিজেদের ঘনিষ্ঠ লোকদের নিয়োগ দিতে ও বড় পদে বসাতে কোনো নিয়মই মানা হয়নি। এটি প্রমাণ করে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা ভোগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নথি অনুযায়ী, তাদের অনুমোদিত পদসংখ্যা ৪ হাজার ২২৬ হলেও, বর্তমানে কর্মরত আছেন ৯ হাজার ২৮৯ জন, যা অনুমোদনের তুলনায় ৫ হাজার ৬৩ জন বেশি। এ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের কারণ এবং তাঁদের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগের আড়ালে মূলত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়ে পরে তাঁদের উচ্চ পদে পদায়ন করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। এসব অতিরিক্ত জনবল ও শ্রমিক থেকে উচ্চ পদে যাওয়া ব্যক্তিদের বেতন–ভাতা জোগাতে জনগণের বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে। এটি বন্ধ করতেই হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত করে বিতর্কিত সব নিয়োগ বাতিল করা হবে। অতীতের নিয়োগ–বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও এমন অনিয়মের সুযোগ থেকে যাবে। ফলে এ অনিয়মের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। বর্তমান মেয়র ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটিই আমরা দেখতে চাই।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

টাঙ্গাইলে বাবাকে হত্যায় ছেলের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সিনিয়র ও জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।

আরো পড়ুন:

বরগুনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

ঝিনাইদহে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

দণ্ডপ্রাপ্ত ওয়াহেদুজ্জামান উপজেলার দড়িপাড়া পশ্চিম পাড়ার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কলহের জেরে বাবা আব্দুস সামাদকে কুপিয়ে হত্যা করেন ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

টাঙ্গাইল আদালতের পিপি শফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘‘দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেছেন।’’

ঢাকা/কাওছার/রাজীব

সম্পর্কিত নিবন্ধ