কিশোরগঞ্জে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু
Published: 25th, May 2025 GMT
কিশোরগঞ্জে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোছা. রুবিনা আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৫ মে) সকালে সদর উপজেলার নগুয়া বগাদিয়া তালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোছা. রুবিনা আক্তার ওই এলাকার মো. মনিরের স্ত্রী।
প্রতিবেশীরা জানায়, আজ (রবিবার) সকালে রান্নাঘরে রান্না করতে যান রুবিনা। এসময় হিটারে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এক নারীর বিদ্যুতায়িত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা/রুমন/টিপু
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ক শ রগঞ জ
এছাড়াও পড়ুন:
দিনাজপুরে গৃহবধূর গায়ে রাসায়নিক পদার্থ নিক্ষেপ, চাচাতো ভাশুর আটক
দিনাজপুর সদর উপজেলায় সোহানা আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর গায়ে রাসায়নিক পদার্থ নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজ বাড়িতে তাঁর ওপর এটি নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ করেন সোহানা। এ ঘটনায় তাঁর চাচাতো ভাশুর গোলাম রাব্বানীকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।
সোহানা আক্তার উপজেলার দিঘন এলাকার শামীম পারভেজের স্ত্রী। অভিযুক্ত গোলাম রাব্বানী একই এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে। বর্তমানে সোহানা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
সোহানা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশে একটি পুকুর খনন নিয়ে গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে শামীম পারভেজের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিকেলে সোহানার তিনটি ছাগল খেত থেকে ধরে নিয়ে যান গোলাম রাব্বানী এবং নিজের বাড়িতে আটকে রাখেন। ছাগল ফেরত চাইলে তিনি অস্বীকার করেন এবং একপর্যায়ে সোহানাকে মারধর করেন। সোহানা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে জানিয়ে প্রতিকার চান এবং ওই দিনই কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
সোহানা বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রান্নাঘরে কাজ করছিলাম। জানালাটি খোলা ছিল। হঠাৎ জানালা দিয়ে পানি ছোড়ার মতো কিছু এসে পড়ে। আমি পেছনে সরে যাই, তাই মুখে না লেগে গলার নিচে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। চিৎকার শুনে শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন এসে পানি ঢালে। রাত সাড়ে দশটার দিকে স্বামী আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।’
সোহানার অভিযোগ, জমিজমা–সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করেছেন রাব্বানী।
সোহানার স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি সেবায় ফোন করে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করেও তাঁরা কোনো প্রতিকার পাননি। পুলিশ যদি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখত তাহলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান আবদুস সালাম বলেন, ‘রোগীকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আজ সকালে তাঁকে দেখে নিশ্চিত হয়েছি, কোনো রাসায়নিক পদার্থে গলা থেকে বুক পর্যন্ত অংশ ঝলসে গেছে। আনুমানিক ৯ শতাংশ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত।’
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে আগেই বিরোধ চলছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। অভিযুক্ত গোলাম রাব্বানীকে আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা চলছে। জরুরি সেবায় কল করেও প্রতিকার না পাওয়ার বিষয়ে তদন্ত করা হবে। দায়িত্বে অবহেলা পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।