খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সাবেক মেয়র ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক ও তার স্ত্রী সাবেক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের বিরু‌দ্ধে মামলা পৃথক মামলা ক‌রে‌ছে দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশন (দুদক)।

বুধবার (৯ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনায় মামলা দু‌টি করা হয়।

দুদক জানায়, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে পাবলিক সার্ভেন্ট থাকা অবস্থায় অসাধু উপায়ে নিজ নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৫ কোটি ৫৭ লাখ ১৪ হাজার ৯০২ টাকার সম্পদ অর্জ‌নের অভিযোগে তালুকদার আব্দুল খা‌লে‌কের বিরু‌দ্ধে প্রথম মামলা করা হয়।

দ্বিতীয় মামলায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী পদে এবং বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে পাবলিক সার্ভেন্ট থাকা অবস্থায় অসাধু উপায়ে নিজ নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার ৫৩৭ টাকার সম্পদ অর্জন করে নিজ মালিকানা ও ভোগ দখলে রাখার অভিযোগে মামলা করা হ‌য়ে‌ছে। আসা‌মিরা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

মামলার এজাহা‌রে বলা হয়, আসামি তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসাবে পাবলিক সার্ভেন্ট থাকা অবস্থায় তার রেকর্ডপত্র ও তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। অনুসন্ধা‌নে খালেকের নামে ২,৯৪,৩২,২৯৯ টাকার স্থাবর ও ১৪,৯১,৯১,৭৯৬ টাকার অস্থাবরসহ মোট ১৭,৮৬,২৪,০৯৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। সেই সময়ে তালুকদার আব্দুল খালেকের নামে ৫৯,৬৩,১৬১ টাকার ঋণ রয়েছে। সুতরাং দায় বাদে তার নীট সম্পদ ১৭,২৬,৬০,৯৩৪ টাকা।

এ সময়ে তালুকদার আব্দুল খালেকের নামে প্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ৪,৬২,৯৪,৭৬৮ টাকা এবং পারিবারিক ব্যয়, ঋণ পরিশোধ, স্ত্রীকে দান ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ মোট ২,৯৩,৪৮,৭৩৬ টাকা। সুতরাং ব্যয় বাদে তার নীট সঞ্চয়ের পরিমাণ ১,৬৯,৪৬,০৩২ টাকা। সে অনুযায়ী তালুকদার আব্দুল খালেকের আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ১৫,৫৭,১৪,৯০২ টাকা।

দ্বিতীয় মামলার এজাহা‌রে বলা হয়, আসামি হাবিবুন নাহার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী পদে এবং বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে পাবলিক সার্ভেন্ট থাকা অবস্থায় অসাধু উপায়ে
অর্জিত সম্প‌দের পর্যা‌লোচনা ক‌রে দুদক।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র ও তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, হাবিবুন নাহারের নামে মোট ২,৬৫,২৩,৫০০ টাকার স্থাবর ও ২,৯৬,০৩,৫৬৪ টাকার অস্থাবরসহ মোট ৫.

৬১,২৭,০৬৪ টাকার সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। সেই সময়ে তার নামে ঋণ পরিমাণ থাকে ৫৯,৬৩,১৬১ টাকা। সুতরাং দায় বাদে তার নীট সম্পদের পরিমাণ ৫,০১,৬৩,৯০৩ টাকা। এ সময়ে আসামি হাবিবুন নাহারের নামে প্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ৫,০০,৬৮,২১৯ টাকা এবং পারিবারিক, ঋণ পরিশোধ ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ ১,৬৫,১১,৮৫৩ টাকা। ব্যয় বাদে তার নীট সঞ্চয়ের পরিমাণ ৩,৩৫,৫৬,৩৬৬ টাকা। সে অনুযায়ী হাবিবুন নাহারের জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ১,৬৬,০৭,৫৩৭ টাকা।

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/এসবি 

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর প বল ক স র ভ ন ট থ ক র পর ম ণ ১ অবস থ য় দ র পর স থ বর

এছাড়াও পড়ুন:

লোকজন বিয়ে করছে, আমি একটা প্রেমও করতে পারছি না: শ্রীলেখা

কথা ও কাজে কোনো রাখঢাক করেন না ভারতীয় বাংলা সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। স্পষ্টভাষী হিসেবে তার ‘সুখ্যাতি’ রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে বহু বছর ধরে সিঙ্গেল জীবনযাপন করছেন এই অভিনেত্রী। এবার মজার ছলে প্রেম-বিয়ে নিয়ে আফসোসের কথা জানালেন শ্রীলেখা।   

রবিবার (৩০ নভেম্বর) শ্রীলেখা তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে এ অভিনেত্রী লেখেন, “লোকজন কি সুন্দর বিয়ে করছে, আমি একটা প্রেম পর্যন্ত করে উঠতে পারছি না। সত্যি বুড়ো হয়ে গেলাম।” হ্যাশ ট্যাগে লিখেন, “আমার ভালোবাসার ধর্ম।”  

আরো পড়ুন:

আমার যদি কিছু হয়, তার দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ সরকার নেবে, প্রশ্ন শ্রীলেখার

আমি অর্ধেক মরে বেঁচে আছি: শ্রীলেখা

শ্রীলেখার এ পোস্টে অনেকে মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ রসিকতায় মজেছেন। নীল নাওয়াজ লেখেন, “বয়স! এবার প্রস্তাবের বন্যা বইবে। তুমি শুধু ইনবক্স চেক করতে থাকো। আর আজ সন্ধ্যার মধ্যে কোনো এক নিউজ পোর্টাল খবর করবে—‘প্রেমিক খুঁজছেন শ্রীলেখা মিত্র।” পরামর্শ দিয়ে কৌশিক লেখেন, “প্রেম করতে চাওয়ার কন্ডিশন গুলো একবার বলো, তাহলে দেখবে সেখানেও খরা লেগে যাবে।” সংগীত লেখেন, “বাড়ির সামনে লাইন লেগে যাবে কিন্তু।” 

শ্রীলেখার সংসার ভাঙার পর অনেকের সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে শ্রীলেখার। এর আগে জানিয়েছিলেন, তার সঙ্গে প্রেম করতে হলে শর্তপূরণ করতে হবে। এ তথ্য জানিয়ে শ্রীলেখা মিত্র বলেছিলেন, “যদি কারো সঙ্গে প্রেম হয়, তাহলে প্রথম শর্ত—কুকুর ভালোবাসতে হবে। আমি তো দেখি না কেউ প্রেমেটেমে পড়ছে। কোথায় তারা? আর কুকুর বলতেও আমার কেমন জানি লাগে। ওরা আমার বাচ্চা, নাম ধরে ডাকি।” 

শিলাদিত্য স্যান্যলের সঙ্গে সংসার ভাঙার পর আর বিয়ে করেননি শ্রীলেখা। প্রেম করলেও বিয়ে করতে চান না এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, “প্রেমে পড়তে চাই, প্রেমে পড়ে উঠতে চাই। আমি বিয়ে করতে চাই না। আমার প্রাক্তন, আমি ও আমার মেয়েকে এখনো একটা ইউনিট মনে হয়। এই ইউনিটটা ভাঙতে চাই না।”

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত নিবন্ধ