ইউক্রেনে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার দিবাগত রাতে চালানো এসব হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময় প্রক্রিয়া চলা অবস্থাতেই এ হামলার ঘটনা ঘটল।

শনিবার দিবাগত রাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ একে ভয়ংকর রাত বলে উল্লেখ করেছে। এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাতেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল মস্কো।

এমন এক সময়ে এ হামলা হলো, যখন কিয়েভ ও মস্কো বন্দী বিনিময়ের পথে এগোচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় হামলা শুরুর পর থেকে এটি দুই দেশের সবচেয়ে বড় বন্দী বিনিময়ের ঘটনা হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি যুদ্ধবিরতির জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ঝিতোমির এলাকায় নতুন রুশ হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন শিশু-কিশোরও আছে। তাদের বয়স ৮, ১২ ও ১৭ বছর।

আজ ভোরে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা রাতভর রাশিয়ার ছোড়া ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৬৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

হামলায় পশ্চিমাঞ্চলীয় খমেলনিতস্কি অঞ্চলে চারজন, কিয়েভ এলাকায় চারজন এবং দক্ষিণের মাইকোলাইভেও একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জরুরি পরিষেবাগুলো বলছে, কিয়েভে রাতভর বড় ধরনের হামলায় ৪ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন শিশু।

এএফপির সাংবাদিকেরা কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

এদিকে রুশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, মস্কোর দিকে আসা অন্তত ১২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলেছে, মস্কোতে প্রধান বিমানবন্দর শেরেমেতিভোসহ অন্তত চারটি বিমানবন্দরে নতুন করে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে রাশিয়া ইউক্রেনে ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৫০টি ড্রোন ছোড়ে। ওই হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।

রুশ সামরিক বাহিনী শনিবার বলেছে, মঙ্গলবার থেকে ইউক্রেন তাদের ওপর ৭৮৮টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার এই হামলায় বোঝা যাচ্ছে যে মস্কো যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চায়। তিনি রোববার আন্তর্জাতিক নেতাদের প্রতি রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনে হামলায় ১২ জন নিহত হওয়ার পর এ আহ্বান জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘রুশ নেতৃত্বের ওপর সত্যিকারের ও কঠিন চাপ না থাকলে এই নির্মমতা থামানো সম্ভব নয়। নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই সহায়ক হবে।’

জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং সারা বিশ্বের সব শান্তিকামীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন মস্কোকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য সংকল্পবদ্ধ হয়।

জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেন, ১৬ মে ইস্তাম্বুলে আলোচনায় সম্মত বন্দী বিনিময় প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

শনিবার কিয়েভ ও মস্কোর ঘোষণায় জানা যায়, ৩০৭ জন রুশ বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে একই সংখ্যক ইউক্রেনীয় সেনাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার প্রথম পর্যায়ে উভয় পক্ষই ৩৯০ জনকে মুক্তি দেয়। প্রত্যেক পক্ষ ১ হাজার জন করে বন্দী বিনিময়ের পরিকল্পনা করছে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ব র দ ব গত র ত ইউক র ন র

এছাড়াও পড়ুন:

খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত: রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাসে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি আজকে সর্বশেষ যতটুকু শুনেছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাঁর বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানান রিজভী। আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে বিএনপির বিজয়ের মাস উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এই স্থগিতের কথা আপনাদের জানালাম। কারণ, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার। আমাদের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেখান থেকে শুরু হতো। আগামীকাল এই রোড শো করে বিভিন্ন বিভাগে এসে একটি সভা হতো। সেই সভার পর আবারও তার পরদিন রোড শো করে আরেকটি বিভাগীয় শহরে সেই সভাটি হতো।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, ‘বিজয় মাস’ উদ্‌যাপন শুরু কালুরঘাট থেকে১৯ ঘণ্টা আগে

তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই অবস্থার মধ্যে আসলে তাঁর ফেরার কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। যথাসময়ে, মানে উপযুক্ত মনে হলে উনি আসবেন। তিনি (তারেক রহমান) তাঁর মায়ের জন্য, আমাদের চেয়ারপারসনের জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি, প্রতিমুহূর্তে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি সব সময় কথা বলছেন।’

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশাল রোড শো কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়া কথা বলেছেন, তবে এখনো সংকট কাটেনি১৫ ঘণ্টা আগে

মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোড শো শেষ হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড়, বলছেন ‘মন মানে না’৩ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ