জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে গ্রেপ্তার এবং দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে গণ অধিকার পরিষদ। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান এ দাবি জানান।

গণ অধিকার পরিষদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। পরে গণ অধিকার পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।

বরিশালে জাপার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বরিশালের একটি আদালত কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এ নির্দেশ দেন।

এ মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেছে গণ অধিকার পরিষদ। প্রতিবাদে গণ অধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শুক্রবার সন্ধ্যায় পুরানা পল্টনের আল–রাজী কমপ্লেক্সের সামনে থেকে একটি মশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি পুরানা পল্টন ঘুরে আবার আল–রাজী কমপ্লেক্সর সামনে এসে শেষ হয়। এ মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।

সমাবেশে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, জাপার সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেন। অন্যথায় জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার মতো ‘মব’ নেমে এলে এর দায় জনগণকে দেওয়া যাবে না।

জি এম কাদেরকে ‘ভারতের এজেন্ট’ বলেও মন্তব্য করেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তাঁর প্রশ্ন, এখনো কেন জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হচ্ছে না, কারা জাতীয় পার্টি ও জি এম কাদেরকে সুরক্ষা দিচ্ছে?

রাশেদ খান বলেন, বরিশালে যে মামলা হয়েছে, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে মামলা গ্রহণের নির্দেশদাতা ম্যাজিস্ট্রেটকেও প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

ইতিমধ্যে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে মামলার বিষয়ে অবহিত করেছেন উল্লেখ করেন রাশেদ খান বলেন, তাঁরা শেখ হাসিনার শাসনামলে মামলা খেয়েছেন, এখনো যদি মামলা খেতে হয়, তাহলে তাঁদের নিরাপত্তা কোথায়?

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণ অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শাকিলউজ্জামান, উচ্চতর পরিষদ সদস্য হাবিবুর রহমান, রবিউল হাসান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আবদুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নেওয়াজ খান প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন গণ অধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নাজিম উদ্দীন।

আরও পড়ুনবরিশালে জাপা কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি নুরুল হক৫ ঘণ্টা আগে.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: এম ক দ র বর শ ল

এছাড়াও পড়ুন:

খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত: রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাসে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি আজকে সর্বশেষ যতটুকু শুনেছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাঁর বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানান রিজভী। আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে বিএনপির বিজয়ের মাস উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এই স্থগিতের কথা আপনাদের জানালাম। কারণ, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার। আমাদের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেখান থেকে শুরু হতো। আগামীকাল এই রোড শো করে বিভিন্ন বিভাগে এসে একটি সভা হতো। সেই সভার পর আবারও তার পরদিন রোড শো করে আরেকটি বিভাগীয় শহরে সেই সভাটি হতো।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, ‘বিজয় মাস’ উদ্‌যাপন শুরু কালুরঘাট থেকে১৯ ঘণ্টা আগে

তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই অবস্থার মধ্যে আসলে তাঁর ফেরার কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। যথাসময়ে, মানে উপযুক্ত মনে হলে উনি আসবেন। তিনি (তারেক রহমান) তাঁর মায়ের জন্য, আমাদের চেয়ারপারসনের জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি, প্রতিমুহূর্তে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি সব সময় কথা বলছেন।’

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশাল রোড শো কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়া কথা বলেছেন, তবে এখনো সংকট কাটেনি১৫ ঘণ্টা আগে

মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোড শো শেষ হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড়, বলছেন ‘মন মানে না’৩ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ