পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে ‘হতাশ’ ট্রাম্প, পরপরই কিয়েভে ব্যাপক হামলা রাশিয়ার
Published: 4th, July 2025 GMT
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর ‘হতাশ’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুজনের মধ্যে ফোনালাপের পর এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, ফোনালাপে তাঁর মনে হয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে চান না পুতিন। দুই নেতার এই ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পরেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ওই ফোনালাপ হয় গতকাল বৃহস্পতিবার। আজ শুক্রবার ওয়াশিংটন থেকে আইওয়া অঙ্গরাজ্যের দিকে যাত্রা শুরুর আগে ফোনালাপের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান তিনি। পুতিনের সঙ্গে আলাপের পর এদিনই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপের পরিকল্পনা ছিল ট্রাম্পের।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যে আলাপ হয়েছে, তা নিয়ে আমি খুবই হতাশ। কারণ, আমি মনে করি না, আলাপে তাঁর মন ছিল। আর আমি খুবই হতাশ হয়েছি। আমার মনে হয় না তিনি (রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ) থামাতে চাচ্ছেন। এটি খুবই খারাপ একটি বিষয়। তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।’
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসার পরপরই রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তৎপর হন ট্রাম্প। এ নিয়ে মস্কো ও কিয়েভ—দুই পক্ষের সঙ্গেই দফায় দফায় আলোচনা করেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল। তবে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার জন্য পুতিনকে চাপ দিতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।
ট্রাম্প–পুতিন ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মস্কোও। ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অস্ত্রের সরবরাহ স্থগিত করা নিয়ে আলাপে কোনো কথা হয়নি বলে জানান পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ। এ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ পুরোপুরি স্থগিত করা হয়নি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দেশটিকে এত অস্ত্র দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল।
অস্ত্রের ওই চালান স্থগিতের পর চলমান যুদ্ধ ঘিরে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ইউক্রেনের নেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল। পরে গত বুধবার কিয়েভে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে অস্ত্র সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তাঁরা। ইউক্রেনের নেতারা বলেন, মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের নিজেদের রক্ষা করার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে।
কিয়েভে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে কিয়েভে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে মস্কো। ট্রাম্প–পুতিন ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পর চালানো এই হামলায় রাজধানী শহরটিতে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২৩ জন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কিয়েভে আত্মঘাতী কামিকাজে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় শহরজুড়ে বাজতে থাকে সাইরেন। একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় শহর। পরিবার নিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নেন কিয়েভের বাসিন্দারা। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, এই রাতে ৫৩৯টি ড্রোন ও ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া।
কিয়েভের কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ার হামলায় কিয়েভের ১০টি এলাকায় ৪০টি ভবন, ৫টি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন, রেলওয়ের স্থাপনা, ক্যাফে এবং যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় পোল্যান্ডের দূতাবাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। কিয়েভে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বসবাস। বিগত সপ্তাহগুলোতে শহরটিতে ব্যাপক হারে হামলা বাড়িয়েছে রুশ বাহিনী।
ইউক্রেনে ‘রাসায়নিক’ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ব্যাপক হারে নিষিদ্ধ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ এনেছে নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি। দেশ দুটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ নিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। গতকাল তারা দাবি করেছে, এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে শ্বাসরোধকারী গ্যাস রয়েছে। পরিখা থেকে ইউক্রেনের সেনাদের বের করতে এই গ্যাস ব্যবহার করা হয়। পরে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
এমন অভিযোগ এনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুবেন ব্রেকেলম্যানস। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রে ব্যবহার দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং তা সাধারণ একটি বিষয়ে পরিণত করা হচ্ছে। এটি উদ্বেগের।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রথম রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই রাসায়নিকটির নাম ‘ক্লোরোপিক্রিন’। দাঙ্গা দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে গ্যাস ব্যবহার করে, তার চেয়ে এটি বেশি বিষাক্ত। ক্লোরোপিক্রিন প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। ইউক্রেনে ক্লোরোপিক্রিনের মজুত রয়েছে বলে অভিযোগ এনেছে মস্কোও। বুধবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিস্ফোরক মজুত রাখার স্থানে ক্লোরোপিক্রিন সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: য ক তর ষ ট র ব যবহ র কর ইউক র ন র র সরবর হ
এছাড়াও পড়ুন:
এসব খাবার আপনাকে সারা দিন চনমনে রাখবে
কাজের চাপে ক্লান্ত লাগলে বা দুপুরের পর অফিসে ঘুম পেলে অনেকেই কফি বা মিষ্টি কিছু খেয়ে ক্লান্তি কাটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো আপনাকে সারা দিন চনমনে রাখতে পারে, আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো উল্টো আপনাকে দুর্বল করে দেয়!
সকালের নাশতা বাদ দেওয়া আমাদের অন্যতম বড় ভুল। এতে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ তুলনামূলক বেশি হয়। তাই সকাল শুরু হোক এমন খাবার দিয়ে, যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করবে; যেমন ওটস, চিড়া, ডিম ও পূর্ণ শস্যের টোস্ট, দুধ বা দইয়ের সঙ্গে ফল ও বাদাম—এই খাবারগুলো শরীরে শর্করা, প্রোটিন ও ফাইবার সরবরাহ করে, যা আপনাকে দীর্ঘ সময় সতেজ রাখবে।
সারা দিন শক্তি ধরে রাখার কৌশলবাদাম, বীজ আর শস্যজাতীয় খাবার শক্তির অন্যতম বড় উৎস। এগুলোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও ভিটামিন—যা রক্তে চিনির মাত্রা স্থির রাখে এবং হঠাৎ এনার্জি ড্রপ থেকে বাঁচায়। একমুঠো কাজু, আখরোট বা সূর্যমুখীর বীজের মতো স্ন্যাক হতে পারে আপনার দুপুরের ‘এনার্জি ব্রেক’।
প্রোটিন: ঠিকভাবে দেহের প্রতিটি কোষের কাজ চালাতে প্রোটিন অপরিহার্য। মাছ, মুরগি, ডিম, ডাল ও ছোলা হলো এমন কিছু প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যা দ্রুত ক্লান্তি দূর করে। বিশেষ করে মাছ (যেমন ইলিশ, রুই, টুনা) শুধু প্রোটিন নয়, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও দেয়, যা মস্তিষ্ককেও সক্রিয় রাখে।
জটিল শর্করা: সাদা চাল বা পরিশোধিত ময়দা শরীরে দ্রুত শক্তি দেয়, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়েও যায়। এর পরিবর্তে বেছে নিন লাল চাল, ব্রাউন রাইস, গমের রুটি বা ওটস—এগুলো ‘কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট’, যা ধীরে হজম হয় এবং সারা দিন স্থিতিশীল এনার্জি দেয়।
শাকসবজি ও ফল: নিয়মিত রঙিন শাকসবজি ও ফল খান। আপেল, কলা, কমলা, পালংশাক, ব্রকলি, গাজর—এগুলোর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরকে চাঙা রাখে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।
আরও পড়ুনকৈশোরে সঠিক পুষ্টি না পেলে যা হয়, যেসব খাবার খেতে হবে১৬ নভেম্বর ২০২৫যেগুলো এড়িয়ে চলা ভালোঅতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টিজাত খাবার দ্রুত শক্তির জোগান দিলেও খুব দ্রুতই ক্লান্ত করে ফেলে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন সাময়িকভাবে মনোযোগ বাড়ায়, কিন্তু ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।
অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার। এগুলো হজমে সময় নেয়, ফলে ঘুম ঘুম লাগে।
ছোট ছোট টিপসপানিশূন্যতা ক্লান্তি ডেকে আনে, নিয়মিত পানি পান করুন।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকবেন না।
পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা ব্যায়াম প্রাকৃতিকভাবে আপনার শক্তি বাড়াবে।
শক্তি ধরে রাখার কোনো ‘জাদুকরি খাবার’ নেই, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনাকে সারা দিন প্রাণবন্ত রাখতে। তাই পরেরবার শক্তি কমে গেলে চিনি বা সফট ড্রিংকের দিকে না ছুটে, বেছে নিন প্রকৃতির দেওয়া সঠিক খাবারগুলো।
আরও পড়ুনএকবারে কতটা বাদাম খাওয়া নিরাপদ২১ অক্টোবর ২০২৫