ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৩% নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়েছে।

বুধবার (২ জুলাই) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব মো. নূরুন নেওয়াজ সভাপতিত্বে করেন।

সভায় ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, পরিচালক ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান আমজাদুল ফেরদৌস চৌধুরী, পরিচালক সৈয়দ আসিফ নিজাম উদ্দীন, প্রাক্তন ভাইস-চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চাকলাদার, পরিচালক মো.

মঈনউদ্দিন, পরিচালক মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মীর সাজেদ উল বাসার এফসিএ এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম এফসিএ, এফসিএস ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত হন।

এ সময় ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা অনলাইনে যোগ দেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এছাড়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. খোরশেদ আলম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব আলম, মো. জাকির আনাম, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও মো. মনিরুল আলম (কোম্পানী সচিব) সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত হিসাব, পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন ও বহিঃ নিরীক্ষকদের প্রতিবেদন উত্থাপিত ও সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হয়।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ সভাপতির ভাষণে ব্যাংকের ব্যবসায়িক অগ্রগতির মূল সূচকগুলো বর্ণনা দিয়ে বলেন, এনসিসি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারস্ ইকুইটি ও মোট সম্পদ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে যার ফলে আমাদের ক্রেডিট রেটিং ও ক্যামেলস রেটিং এ উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আগ্রাসী প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিবর্তে সম্পদের গুণগতমান বজায় রাখা, লো কষ্ট-নো কষ্ট তহবিল বৃদ্ধি, তহবিল খরচ হ্রাস, ফি কমিশন ভিত্তিক আয় বৃদ্ধিসহ আরো অন্যান্য বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে এনসিসি ব্যাংক ক্রমান্বয়ে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন অনলাইনে প্রদত্ত সম্মানিত শেয়ারহোল্ডারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বলেন, এনসিসি ব্যাংক ৩২ বছরের পথ চলায় আজ বিভিন্ন আর্থিক মানদণ্ডে একটি ভালো ব্যাংক হিসেবে স্টেকহোল্ডারদের কাছে সমাদৃত হচ্ছে এবং গ্রাহকদের কাছে আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতেও গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ডিজিটাল সম্প্রসারণ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং টেকসই ব্যাংকিং এর উপর আমরা গুরুত্বারোপ করবো। আমাদের মূল ফোকাস হচ্ছে এসএমই এবং রিটেইল ব্যবসার সম্প্রসারণ, শরীয়াহ-সম্মত ইসলামিক ব্যাংকিং, ফি ও কমিশনভিত্তিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি।

এছাড়া, এআই-চালিত সলুশোনের উন্নয়ন, নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণ, টেকসই অর্থায়ন তথা পরিবেশবান্ধব ও সবুজ প্রকল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাইক্রোফাইন্যান্সের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করছি, যাতে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে কেউ না থাকে। স্ট্র্যাটেজি, ইনোভেশন এবং কাস্টমার সেন্ট্রিক সেবার মাধ্যমে আমরা স্টেকহোল্ডারদের আস্থা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ঢাকা/সাজ্জাদ/সাইফ

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর শ য় রহ ল ড এনস স

এছাড়াও পড়ুন:

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাইলেন ডিপজল

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন দেশবাসী। দলমত, শ্রেণি, ধর্ম নির্বিশেষে সবাই দোয়া করছেন আপসহীন এই নেত্রীর জন্য। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলও এ তালিকায় রয়েছেন। 

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজল তার ফেসবুকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার একটি ছবি পোস্ট করে দোয়া প্রার্থনা করেন। এই খল অভিনেতা বলেন, “প্রিয় দেশবাসী, আমাদের প্রিয় দেশনেত্রীর দ্রুত সুস্থতার জন্য সবাই আন্তরিকভাবে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। আপনাদের প্রতিটি দোয়া হোক তার জন্য আরোগ্যের সৌরভ, শান্তির ছায়া এবং নতুন শক্তির প্রেরণা।” 

আরো পড়ুন:

মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্মবিরতি, রোগীদের ভোগান্তি চরমে

নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় তরুণীর মৃত্যুর অভিযোগ

৮০ বছর বয়সি খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত রবিবার (২৩ নভেম্বর) শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় তার শরীরে, বিশেষ করে ফুসফুসে মাত্রাতিরিক্ত পানি জমে যায় এবং ভীষণ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে গত বুধবার থেকে তাকে ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। শরীরের পানি কমানো যাচ্ছিল না। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সচেতন থাকলেও সাড়া-শব্দহীন হয়ে পড়েন তিনি। 

তবে শুক্রবার রাত থেকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়। গতকাল সকালে তিনি একটু কথা বলেন। গতকাল সারা দিন খালেদা জিয়া ডায়ালাইসিসে ছিলেন। কয়েক দিনের ডায়ালাইসিস পরবর্তী শারীরিক অবস্থা দেখে মেডিকেল বোর্ড নতুন চিকিৎসাব্যবস্থা নেবে। 

রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত নিবন্ধ