কারাগারে লাল থ্লেং কিম বমের মৃত্যুর বিচার দাবিতে বিক্ষোভ
Published: 18th, May 2025 GMT
চট্টগ্রামে কারা হেফাজতে লাল ত্নেং কিম বমের মৃত্যুর বিচার, নিরপরাধ বম নারী-শিশুদের কারামুক্তি এবং চিংমা খেয়াংকে ধর্ষণের পর হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আদিবাসী ছাত্র সমাজ।
রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বন্ধ কর’ স্লোগানে সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে এটি হওয়ার কথা ছিল না। পাহাড়ের আদিবাসী নারীদের ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। পাহাড়ে সাধারণ বমদের সন্ত্রাসী বানিয়ে গ্রেপ্তার ও হত্যা করা হচ্ছে, আর আমাদের ঢাকায় এসে বিচার চাইতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে জানাতে চাই, আমি আজকে এখানে দাঁড়িয়েছি বান্দরবানের মুনলাই পাড়ার জন্য। যে পাড়া দেশের সবচেয়ে পরিষ্কার গ্রাম, যে গ্রামের মানুষরা প্রকৃতির মতো সরল তাদের আজ সন্ত্রাসী বানিয়ে পুরো গ্রামবাসীদের গ্রাম ছাড়া করেছে। যাদের অনেককে আজ বনে-জঙ্গলে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই প্রধান উপদেষ্টা আপনাকে সাজানো সমস্যার সমাধান করতে হবে। কেননা এইসব ঘটনা জুলাই গণহত্যার পরিপন্থি। আজ যে শিশুটি জেলে বন্দি আছে, সে তখনো মায়ের পেটে যখন বান্দরবানের ব্যাংক লুটের ঘটনা ঘটে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, কারাগার কারা চালায়? এই কারাগার চালায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী, রাষ্ট্রের সরকার। তাহলে জেল হেফাজতে অবস্থানরত সব ব্যক্তিদের খাওয়া, চিকিৎসা, নিরাপত্তা দেওয়ার সব দ্বায়িত্ব এই রাষ্ট্রের, সরকারের। নিরীহ বমদের বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তারের দায় যেমন শেখ হাসিনা সরকারের, ঠিক তেমনি কারাগারের ভেতরে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর দায়ও এই অন্তর্বর্তী সরকারকে নিতেই হবে। এই দেশের আইন যদি নিরপেক্ষভাবে চলে তাহলে প্রশ্ন থাকবে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জেল থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু নিরীহ বমদের বিনা ওয়ারেন্টে, বিনা অপরাধে কেমনে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন জেলে আটকে রাখে।
সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ বলেন, যে জনগোষ্ঠীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদযাত্রায় সবসময় বাঙালিদের সঙ্গে থেকেছে, তাদের সঙ্গে এই রাষ্ট্র বারবার বিমাতৃসুলভ আচরণ করেছে। ৭২এর সংবিধানে এম এন লারমা নিজের জাতিকে সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই রাষ্ট্র তা হতে দেয় নাই। দেশের সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু আদিবাসীদের সঙ্গে এই রাষ্ট্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ পরিবর্তন হয় না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জগদীশ চাকমা বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, সাধারণ বম আদিবাসীদের সন্ত্রাসী সাজিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আটক করে রাখা করা হয়েছে। তারা অনেকেই চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে, অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। আমরা এই সরকার, এই রাষ্ট্রকে বলতে চাই আপনারা দ্রুত নিরীহ বম আদিবাসীদের নিঃশর্তে ছেড়ে দেন এবং অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসা দেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করেন। তা না হলে যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় সেটা কারোর জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ফ্যাসিবাদ সরকারের পতনের পর আয়নাঘরে যতজন বন্দি ছিল, তাদের সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে গ্রেপ্তার করা নিরপরাধ বমদের এখনও মুক্তি দেওয়া হয়নি। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি বিপজ্জনক কারাগার করে রাখা হয়েছে। আয়নাঘরে চক্ষুর অন্তরালে নির্যাতন করা হয়। কিন্তু পাহাড়ে প্রকাশ্যে নিরপরাধ আদিবাসীদের অত্যাচার করা হয়। দেশের সরকার এসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। আমি এসব চরিত্রকে ধিক্কার জানাই।
বম ছাত্র প্রতিনিধি রিচার্ড বম বলেন, গত তিন বছর ধরে বম জনগোষ্ঠীকে এক প্রকার নজরবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে পুরো বম জনগোষ্ঠীকে হয়রানি করে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে বছরের পর বছর বিচারহীন অবস্থায়। আপনারা কীসের স্বার্থ রক্ষা করতে চান সেটা আমার প্রশ্ন? আজ রাষ্ট্রের অবহেলা, বিমাতৃসুলভ আচরণের কারণে আমার বোনকে প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার হতে হই। রাষ্ট্র যদি একটু মানবিক হয় তাহলে পাহাড়ের এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শান্তিময় চাকমার সঞ্চালনায় এবং বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নুংমংপ্রু মারমার সভাপতিত্ব সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ঢাকাস্থ ম্রো শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি পাতলাই ম্রো, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়া চাকমা, বাংলাদেশ খিয়াং স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রতিনিধি জনি খিয়াং ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়া চাকমা।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: সম ব শ এই র ষ ট র সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
তিন নারী শুটারকে হয়রানির অভিযোগে শুটিং ফেডারেশনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জিডি
জাতীয় তিন নারী শুটারকে হুমকি ও যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। বুধবার রাজধানীর গুলশান থানায় জিডিটি করা হয়।
জিডিতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় শুটিং দলের কোচ শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করা হয়েছে। জিডিটি করেছেন হয়রানির অভিযোগ তোলা তিন নারী শুটারের একজন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জিডি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে জিডিতে উল্লেখ করা অভিযোগ তদন্ত করে দেখবে পুলিশ।
নারী শুটার জিডিতে বলেন, তাঁরা তিনজনই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক পাওয়া শুটার। জি এম হায়দার সাজ্জাদ তাঁদের ওপর মানসিক নির্যাতন করেছেন। গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে সাজ্জাদ তাঁকে অফিসে ডেকে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মানসিক নিপীড়ন করেন এবং অপমানজনক কথা বলেন। একজন নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে এটি তাঁর মানসিক কষ্টের কারণ হয়েছে। এতে তাঁর প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
জিডিতে ওই নারী শুটার আরও অভিযোগ করেন, দলের বর্তমান কোচ শারমিন আক্তার তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। দুই কর্মকর্তার আচরণে তিনি আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি ও আরেক নারী শুটারকে শুটিং ফেডারেশনের ভেতরেই ধর্ষণের হুমকি দেন সাজ্জাদ। ৯ নভেম্বর তাঁরা এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেন। এরপর সাজ্জাদ হুমকি দিয়ে তাঁকে সমঝোতা করতে বলছেন। সমঝোতা না করলে তাঁদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি ও তাঁর দুই সহকর্মী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার রাতে জি এম হায়দার সাজ্জাদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। আর তিন নারী শুটারের মধ্যে একজন শুটিং ফেডারেশনের সদস্য নন। তিনি চেয়েছিলেন, ঘটনার তদন্ত হোক। সে কারণে শুটিং ফেডারেশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
অন্যদিকে কোচ শারমিন আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁকে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।