বলিউড তারকা যুগল রাজকুমার রাও-পত্রলেখা। প্রায় এক যুগ প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন তারা। ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর সাতপাকে বাঁধা পড়েন এই যুগল। দাম্পত্য জীবনে দারুণ সময় পার করছেন। কয়েক দিন আগে বাবা-মা হতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। 

ভারতীয় গণমাধ্যম পিঙ্কভিলাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রাজকুমার রাও। এ আলাপচারিতায় স্ত্রী পত্রলেখাকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে মন্তব্য করেছেন এই অভিনেতা।  

স্ত্রী পত্রলেখার কাছ থেকে কাজ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চান কি না? জবাবে রাজকুমার রাও বলেন, “হ্যাঁ। বেশিরভাগ সময়, আমার যেকোনো কাজের প্রথম দর্শক পত্রলেখা। তার প্রতিক্রিয়া আমার কাছে অনেক অর্থবহ। কারণ আমি চাই, আমি যা কিছু করেছি তাতে সে ভালো অনুভব করুক। পত্রলেখা আমার সবচেয়ে সৎ সমালোচক।” 

আরো পড়ুন:

মাধুরীর জীবনে যত প্রেম!

জেন-জিদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করি না: কাজল

পত্রলেখা নিষ্ঠুর কি না জানতে চাওয়া হলে রাজকুমার রাও বলেন, “হ্যাঁ, পত্রলেখা খুবই নিষ্ঠুর। পত্রলেখা আমাকে নির্মমভাবে বলে, ‘তুমি ভালো করেছো। কিন্তু সিনেমাও ঠিক ছিল। টাইমপাস।” 

‘স্ত্রী টু’ তারকা রাজকুমার বলেন, “বেশিরভাগ সময় আমার অনুভূতি তার অনুভূতির সঙ্গে মিলে যায়। একইভাবে, আমিও তার কাজ সম্পর্কে আমার অনুভূতি সম্পর্কে খুব খোলামেলাভাবে বলি। কারণ আপনার চারপাশে খুব বাস্তব মানুষদের প্রয়োজন, অন্যথায় যদি আপনি আপনার চারপাশে ‘হ্যাঁ’ বলা মানুষকে রাখেন, তাহলে কোনো উন্নতি হবে না।” 

দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায় নির্মিত ‘লাভ সেক্স আউর ধোঁকা’ সিনেমায় প্রথমবার রাজকুমারকে দেখেন পত্রলেখা। সিনেমায় দেখে পত্রলেখা ভেবেছিলেন, নেতিবাচক চরিত্রের এই অভিনেতা বাস্তবেও একই রকম। ২০১৩ সালে ‘সিটি লাইটস’ সিনেমার জন্য রাজকুমার রাওয়ের বিপরীতে পত্রলেখাকে ভাবা হয়। এরপর রাজকুমারের সঙ্গে দেখা করতে যান পত্রলেখা, সঙ্গে নিয়ে যান তার বড় বোনকে। 

পত্রলেখা পরে অবাক হয়ে দেখেন মোটেও খারাপ মানুষ নন রাজকুমার। একেবারে অন্য এক মানুষ। উপলদ্ধি করতে পারেন, রাজকুমার ভালো অভিনয়শিল্পী। তারপর কয়েক দিন হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আদান-প্রদান চলে। এভাবে কখন যে প্রেমটা হয়ে যায়, তা কেউই বলতে পারেন না। সর্বশেষ ২০২১ সালে সাতপাকে বাঁধা পড়েন এই যুগল।

২০২৫ সাল রাজকুমারের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলা চলে। একদিকে যেমন ‘মালিক’ সিনেমায় অন্যরকম ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে, তেমনই আবার চলতি বছরেই ঘোষণা হয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলির বায়োপিক ‘মহারাজ’-এর ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেতাকে।

ঢাকা/শান্ত

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর চলচ চ ত র

এছাড়াও পড়ুন:

ফ্রিল্যান্সিং করে ২২ বছরের তানিয়ার মাসে আয় লাখ টাকা

অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল তানিয়া খলিলের (২২)। বিয়ের বছরখানেক পরই মা হন তিনি। এরই মধ্যে সংসার আর শিশুসন্তান সামলিয়েই তিনি হয়ে ওঠেন ফ্রিল্যান্সার। নিজে ফ্রিল্যান্সিং শিখে অন্যদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এখন তাঁর মাসে আয় প্রায় এক লাখ টাকা।

তানিয়ার বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার বাজারপাড়া এলাকায়। ২০২১ সালে মাটিরাঙ্গা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তাঁর বিয়ে হয়। স্বামী ইব্রাহিম খলিল পেশায় ফ্রিল্যান্সার। সেই সুবাদে তানিয়ারও এ জগতে চলা শুরু। ২০২৩ সালের শুরুতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খাগড়াছড়ি সদরে চলে আসেন। সেখানেই এখন দুজন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালান।

তানিয়া জানান, বিয়ের পর পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এর মধ্যেও ঘরে বসে কিছু করতে চাইতেন। এরপর স্বামী ইব্রাহিম খলিল তাঁকে ফ্রিলান্সিং শেখার জন্য উৎসাহ দিতে থাকেন। তিনিও সে সুযোগ হাতছাড়া করেননি।

প্রথম আয় আমাকে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মনে হয়েছিল, সত্যিই কিছু করার সামর্থ্য আছে আমার।—তানিয়া খলিল, ফ্রিল্যান্সার

তানিয়া খলিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি প্রথমে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শেখা শুরু করি। রং, লে আউট, টাইপোগ্রাফি—সবই আমার কাছে নতুন ছিল। নিজের আগ্রহ থাকায় দ্রুত শিখে ফেলি। কয়েক মাসের মধ্যেই নিজেকে ফ্রিল্যান্সিং বাজারের জন্য তৈরি করে ফেলতে সক্ষম হয়েছি।’

ফ্রিল্যান্সিং শেখার মধ্যেই ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম কাজ পেয়েছেন তানিয়া। লোগো ডিজাইন করে সে মাসে তিনি ১৩ ডলার আয় করেছিলেন। এর পর থেকে আর থেমে থাকতে হয়নি তাঁকে। সেই স্মৃতি মনে করে তানিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম আয় আমাকে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মনে হয়েছিল সত্যিই কিছু করার সামর্থ্য আছে আমার।’

তানিয়া বলেন, লোগো ডিজাইনের পর ব্র্যান্ড আইডেনটিটি, বিজনেস কার্ড, লেটারহেড তৈরিসহ নানান ধরনের কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। গ্রাহকদের খুশি করতে পারায় দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম বাড়ে তাঁর। এরপর একের পর এক কাজ আসতে থাকে। আয়ও সমানতালেই বাড়তে থাকে। বর্তমানে তিনি ফাইভারের পাশাপাশি আপ ওয়ার্কে ফ্রিল্যান্সের কাজ করেন।

সম্প্রতি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের দোতলায় প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের বিশাল কক্ষে সারিবদ্ধভাবে ল্যাপটপ নিয়ে বসে রয়েছেন কয়েকজন তরুণী। তানিয়া তাঁদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। একটু শুনতেই বোঝা গেল তানিয়া তরুণীদের গ্রাফিক ডিজাইন কীভাবে করতে হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।

তানিয়ার জন্য এসব কাজ অবশ্য খুব একটা সহজ ছিল না। সময়মতো কাজ জমা দেওয়া, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, সন্তানকে দেখাশোনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই ছিল চ্যালেঞ্জের। তানিয়া বলেন, ‘পরিবারের সাপোর্ট না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। আমার স্বামী এখনো আমার সবচেয়ে বড় সহযোগী।’

খাগড়াছড়ি শহরে নারীদের ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তানিয়া খলিল। সম্প্রতি তোলা

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সরকারকে টেকসই সমাধান বের করতে হবে
  • বাইডেনকে দুষলেও সন্দেহভাজন আফগান নাগরিকের আশ্রয়–আবেদনে অনুমোদন দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন
  • ফ্রিল্যান্সিং করে ২২ বছরের তানিয়ার মাসে আয় লাখ টাকা
  • সিআইএ-এর সঙ্গে কাজ করেছিল ওয়াশিংটন ডিসিতে হামলাকারী