রাজঘাটে গান্ধীকে শ্রদ্ধা বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর
Published: 30th, June 2025 GMT
দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
অনাড়ম্বর ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে আয়োজিত এই শ্রদ্ধার্ঘ্য কেবল ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার মূল্যবোধের প্রতিই এক বিশেষ অঙ্গীকার।
রিয়াজ হামিদুল্লাহ বার্তা দেন, বাংলাদেশে ধর্ম বা বিশ্বাস নির্বিশেষে বহু প্রজন্ম ধরে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন সাধারণ মানুষ। তাঁর জীবন সংগ্রামে বারবার উঠে এসেছে যেসব মূল্যবোধ, যেমন সহমর্মিতা, সহনশীলতা এবং বহুত্ববাদ— সেগুলো এখনও বাংলাদেশি সমাজের নানা স্তরে প্রাসঙ্গিক।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে কঠিন সময়েও গান্ধীজি যেভাবে এই মূল্যবোধগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করেছেন, তা আজও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে। উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এই অনন্য ব্যক্তিত্বের জীবন ও দর্শন শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও নৈতিক স্তরেও এক শক্তিশালী বার্তাও বহন করে বলে জানান তিনি।
ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
অনলাইন জুয়ার বিরোধেই নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার তাকবির, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২
সিদ্ধিরগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনে তরুণ তাকবির আহমেদ (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টায় উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার পরদিনই হত্যায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে নিহতের মোবাইল ফোন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়—নিহত তাকবির বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেকার থাকায় বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তাকবির। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায়।
পরদিন ২৬ নভেম্বর দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর আসে ওয়াপদা কলোনীর পানি উন্নয়ন বোর্ড আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর পরিত্যক্ত ভবনের ১ম তলার কক্ষে পড়ে আছে এক তরুণের মরদেহ। পরে পরিবার গিয়ে নিশ্চিত হয় নিহত ব্যক্তি তাকবির আহমেদ।
ঘটনার পর তাকবিরের বাবা নুর মোহাম্মদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার জানান, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের তদন্তে প্রকৃত ঘাতকদের শনাক্ত করে পিবিআই। পরে ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সোনারগাঁওয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মোঃ হারুন (৩৪) এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়াপদা কলোনী মোড় থেকে মোঃ রফিকুল (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে রফিকুলের দেখানো মতে তার ঘরের সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাকবিরের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তারা জানায়. মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকবিরকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে যায়।
সেখানে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে পুরোনো একটি সিমকার্ড চালু করে তাকবিরের বাবার কাছে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করে তারা।
পরদিন ২৮ নভেম্বর দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যার নেপথ্য কারণ, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং পূর্ব অপরাধের তথ্য যাচাই করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।