অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীর সঞ্চয়পত্রে সবচেয়ে বেশি মুনাফা, কীভাবে কিনবেন
Published: 9th, July 2025 GMT
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে সবচেয়ে বেশি মুনাফা পান। তাঁদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত সঞ্চয়পত্র আছে। পেনশনার সঞ্চয়পত্র নামে এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে অর্থাৎ পাঁচ বছর পর ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
বর্তমানে যে চারটি সঞ্চয়পত্র আছে, এর মধ্যে এই সঞ্চয়পত্রেই সবচেয়ে বেশি মুনাফার হার। ২০০৪ সালে এই সঞ্চয়পত্র চালু করে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মূল্যমান
৫০ হাজার টাকা; ১ লাখ টাকা; ২ লাখ টাকা; ৫ লাখ টাকা ও ১০ লাখ টাকা।
কোথায় পাওয়া যায়
জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখাসমূহ, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ এবং ডাকঘর থেকে কেনা ও নগদায়ন করা যায়।
মেয়াদ
পাঁচ বছর
মুনাফা কত
১ জুলাই থেকে সরকার সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়েছে। যেমন পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পঞ্চম বছর শেষে, অর্থাৎ মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ছিল ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ; এখন তা করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ছিল ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ; এখন থেকে তা হবে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
মেয়াদ পূর্তির আগে নগদায়ন করলে কম হারে মুনাফা প্রাপ্য হবে এবং অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধিত হয়ে থাকলে তা মূল টাকা থেকে কর্তন করে সমন্বয়পূর্বক অবশিষ্ট মূল টাকা পরিশোধ করা হবে।
উৎসে কর
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর কর্তন করা হয় না। ৫ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হয়।
যাঁরা কিনতে পারবেন
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী-স্ত্রী, সন্তান।
অন্য সুবিধা
এক.
দুই. নমিনি নিয়োগ করা যায়;
তিন. সঞ্চয়পত্রের ক্রেতার মৃত্যুর পর নমিনি সঙ্গে সঙ্গে অথবা মেয়াদ উত্তীর্ণের পর সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারেন।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: অবসরপ র প ত সরক র দশম ক
এছাড়াও পড়ুন:
স্ত্রীসহ সাবেক মেয়র তাপসের আয়কর নথি জব্দের আদেশ
দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও তাঁর স্ত্রী আফরিন তাপসের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুদকের পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস রহমান সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও তাঁর স্ত্রী আফরিন তাপসের আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন। এরপর আদালত আবেদনগুলো মঞ্জুর করেন।
মেয়র তাপসের আবেদনে বলা হয়, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাপস দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৭৩ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর নামে ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৩৯ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ টাকা ও ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫২৭ মার্কিন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
দুদক বলছে, অবৈধ অর্থ জ্ঞাতসারে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাপসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামি শেখ ফজলে নূর তাপসের নামে এ পর্যন্ত সব আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।
আফরিন তাপসের নথি চেয়ে করা আবেদনে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে তিনি অসংগতিপূর্ণ ৬ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। ৯টি ব্যাংক হিসাবে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৭০ কোটি ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৬৯ টাকা ও ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৩ মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।
দুদক বলছে, অবৈধ অর্থ জ্ঞাতসারে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় আফরিন তাপসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আফরিন তাপসের নামে সব আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।