রাজশাহীতে ফাঁকা গুলির পর সাংবাদিকসহ ৩ জন গ্রেপ্তার
Published: 3rd, July 2025 GMT
রাজশাহীতে গোলাগুলির ঘটনার পর যৌথবাহিনীর অভিযানে সাংবাদিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২ জুলাই) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নগরের খুলিপাড়া এলাকায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে এ অভিযান চালায় বোয়ালিয়া থানা-পুলিশ ও সোনবাহিনীর সদস্যরা।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন, খুলিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জুলু (৪৮), তার ছেলে নাজমুল ইসলাম জিম (২৫) এবং একই এলাকার বাসিন্দা মো.
গত মঙ্গলবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে সিয়াম ইসলাম রাজ (১৯) নামে এক তরুণের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, পূর্ব বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য তিনি বিকেলে বাসার রোড মাঠে কয়েকজনের সঙ্গে বসেছিলেন। সেখানে নাদিম (২৯) নামের এক যুবক তাকে কিলঘুষি মারেন। এছাড়া মো. সাকিব (২৪) নামের আরেক যুবক পিস্তল বের করে দুই রাউন্ড ফাঁকা ফায়ার করেন। পরে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। গুলি ছোঁড়ার ওই ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আরো পড়ুন:
সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের পিএস গ্রেপ্তার
মুরাদনগরে পর্নোগ্রাফি মামলায় ৪ যুবক ৩ দিন রিমান্ডে
নগরের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘‘এই মামলা হওয়ার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা খুলিপাড়া মহল্লায় নজরুল ইসলাম জুলুর বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়ি থেকে নজরুল ও তার ছেলে জিম এবং একই এলাকা থেকে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজের করা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’’
এদিকে তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেলে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। এতে বলা হয়, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র বহন, ধর্ষণ, জুয়া ও মারামারিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তার নজরুল ইসলাম জুলু এলাকায় অবৈধ প্রভাববিস্তারকারী হিসেবে পরিচিত এবং তার ছত্রছায়ায় একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে আসছে। এছাড়াও জুলুর নেতৃত্বে রাজশাহী প্রেস ক্লাব দখলসহ ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।’’
বোয়ালিয়া থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘‘নজরুল ইসলাম জুলুসহ তিন আসামিকে মারামারির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে (বৃহস্পতিবার) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জুলুর বিরুদ্ধে আরো ১৩টি মামলা আছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলার কথাও জেনেছি। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি মোহাম্মদপুর থানায় জানানো হয়েছে।’’
আদালতে আসামিদের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে, তবে শুনানি এখনো হয়নি বলেও জানান ওসি।
এদিকে, গ্রেপ্তারের পর নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে জিমকে রাজশাহী প্রেস ক্লাব থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেলে জুলুর নেতৃত্বে থাকা প্রেস ক্লাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম জুলু ও কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য নাজমুল ইসলাম জিমকে ক্লাবের সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’’
ঢাকা/কেয়া/বকুল
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর নজর ল ইসল ম জ ল
এছাড়াও পড়ুন:
তিন নারী শুটারকে হয়রানির অভিযোগে শুটিং ফেডারেশনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জিডি
জাতীয় তিন নারী শুটারকে হুমকি ও যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। বুধবার রাজধানীর গুলশান থানায় জিডিটি করা হয়।
জিডিতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় শুটিং দলের কোচ শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করা হয়েছে। জিডিটি করেছেন হয়রানির অভিযোগ তোলা তিন নারী শুটারের একজন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জিডি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে জিডিতে উল্লেখ করা অভিযোগ তদন্ত করে দেখবে পুলিশ।
নারী শুটার জিডিতে বলেন, তাঁরা তিনজনই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক পাওয়া শুটার। জি এম হায়দার সাজ্জাদ তাঁদের ওপর মানসিক নির্যাতন করেছেন। গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে সাজ্জাদ তাঁকে অফিসে ডেকে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মানসিক নিপীড়ন করেন এবং অপমানজনক কথা বলেন। একজন নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে এটি তাঁর মানসিক কষ্টের কারণ হয়েছে। এতে তাঁর প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
জিডিতে ওই নারী শুটার আরও অভিযোগ করেন, দলের বর্তমান কোচ শারমিন আক্তার তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। দুই কর্মকর্তার আচরণে তিনি আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি ও আরেক নারী শুটারকে শুটিং ফেডারেশনের ভেতরেই ধর্ষণের হুমকি দেন সাজ্জাদ। ৯ নভেম্বর তাঁরা এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেন। এরপর সাজ্জাদ হুমকি দিয়ে তাঁকে সমঝোতা করতে বলছেন। সমঝোতা না করলে তাঁদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি ও তাঁর দুই সহকর্মী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার রাতে জি এম হায়দার সাজ্জাদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। আর তিন নারী শুটারের মধ্যে একজন শুটিং ফেডারেশনের সদস্য নন। তিনি চেয়েছিলেন, ঘটনার তদন্ত হোক। সে কারণে শুটিং ফেডারেশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
অন্যদিকে কোচ শারমিন আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁকে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।