Samakal:
2025-11-30@13:45:48 GMT

উপকারভোগীর জন্য উৎকণ্ঠা

Published: 3rd, July 2025 GMT

উপকারভোগীর জন্য উৎকণ্ঠা

সরকার আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার যেই হারে হ্রাস করিয়াছে, উহা মধ্যবিত্তের অস্বস্তি তৈয়ারের জন্য যথেষ্ট। নূতন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পাঁচ বৎসর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ মুনাফার হার পাওয়া যাইবে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যাহা পূর্বে ছিল ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। অনুরূপ মেয়াদ কম অনুসারে মুনাফার হারও আনুপাতিক হারে হ্রাস পাইবে। একদিকে দাবি অনুযায়ী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি হয় নাই, অন্যদিকে দেশে দুই বৎসরের অধিক উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলমান। এই অবস্থায় জীবিকা নির্বাহে সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় নির্ভরশীলগণ আরও হিমশিম খাইতে থাকিবেন।  
সঞ্চয়পত্র এক প্রকার নিরাপদ বিনিয়োগরূপে অনেকে চাকুরি হইতে অবসর গ্রহণ করিয়া পেনশনাররূপে তাঁহার অর্থ সরকারের নিকট জমা রাখিয়া থাকেন। উহা হইতে প্রাপ্ত মুনাফাই ঐ সকল ব্যক্তির আয়ের প্রধান উৎস হইয়া থাকে। অনুরূপ পারিবারিক সঞ্চয়পত্রও রহিয়াছে এবং বলা বাহুল্য, এই মুনাফার উপর সমগ্র পরিবার নির্ভরশীল। নির্দিষ্ট মুনাফার উপর জীবিকা নির্বাহ ইহাদের কঠিন হইলেও অনেকের বিকল্প উপায়ও থাকে না। কিংবা অন্যান্য ব্যবসা বা বিনিয়োগের সামর্থ্যও থাকে না। তাহারা সরকার নির্দিষ্ট মুনাফা দেখিয়াই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করিয়া থাকেন এবং সেই অনুপাতে ব্যয় নির্বাহ করেন। কিন্তু অকস্মাৎ মুনাফার হার হ্রাস পাইলে ব্যয়ের খাতে চাপ পড়া স্বাভাবিক।

স্মরণে রাখিতে হইবে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি যথোপযুক্ত নহে। তদুপরি রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের বেকার ভাতাসহ কল্যাণমূলক অনেক ব্যবস্থাপনাই অনুপস্থিত। সাধারণত ব্যক্তির অবসরের পর পেনশন কিংবা দীর্ঘদিনের জমানো অর্থ একত্র করিয়াই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হইয়া থাকে। অনেক সময় জ্যেষ্ঠ নাগরিকগণও তথায় বিনিয়োগ করেন, যেই সময়ে তাহাদের উপার্জনের অন্যান্য সামর্থ্য থাকে না। এমতাবস্থায় সরকারের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ যেইভাবে নাগরিক কল্যাণে অধিক মুনাফার মাধ্যমে হইতে পারিত, দুঃখজনক হইলেও সত্য, উহা ততটা আকর্ষণীয় নহে। ইহার মধ্যেও যদি নূতন করিয়া মুনাফার হার হ্রাস করা হয়, তাহা হতাশাজনক বৈ কি।

আমরা মনে করি, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আকর্ষণীয় হওয়া উচিত, যাহাতে বিনিয়োগকারীগণ কিঞ্চিৎ হইলেও স্বস্তিতে জীবন যাপন করিতে পারেন। অল্প পরিমাণ ও স্বল্প সময়ে বিনিয়োগের জন্যও অনুরূপ মুনাফা থাকা দরকার। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সঞ্চয় আমানত-সংশ্লিষ্ট তথ্য-সংবলিত সহায়ক লিফলেটে মুদ্রিত– ‘সঞ্চয় সমৃদ্ধি আনে’। কীরূপে মুনাফার হার বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায় তজ্জন্য জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরকে আরও তৎপর হইতে হইবে। এই ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার হ্রাসকরণের ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি– ট্রেজারি বন্ডের সুদহার হ্রাস পাইয়াছে। অভিযোগ রহিয়াছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাজারভিত্তিক করিবার শর্ত ছিল। যাহার ফলে ট্রেজারি বিলের সুদহারের সহিত সঞ্চয়পত্রের সুদহার যুক্ত করা হয়। আমরা মনে করি, সরকারের আর্থিক নীতি নির্ধারণে অবশ্যই দেশের মানুষের স্বার্থ সর্বাগ্রে বিবেচনায় লইতে হইবে। 
সর্বোপরি, জনসাধারণের কথা চিন্তা করিয়া বাজার সহনশীল রাখিবার বিষয়ও জরুরি। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকিলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কিছুটা হ্রাস পাইলেও সমস্যা হইবার কথা নহে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নাগালের বাহিরে থাকিলে তাহা সবাইকেই প্রভাবিত করিয়া থাকে। ইহাও বলা দরকার, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হ্রাস-বৃদ্ধি অপেক্ষা স্থিতিশীল থাকাই জরুরি। ছয় মাস অন্তর হ্রাস-বৃদ্ধিতে উহার উপকারভোগীদের এক ধরনের অনিশ্চয়তায় ফেলিয়া দিতে পারে। সরকার স্থিতিশীলতা চাহে সর্বক্ষেত্রেই; সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার উহার বাহিরে থাকিবে কেন?

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: সরক র র র জন য

এছাড়াও পড়ুন:

জয়া চান না তার নাতনি বিয়ে করুক

বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যতম প্রভাবশালী বচ্চন পরিবার। এ পরিবারের নিয়ম-নিষ্ঠা সম্পর্কে সবাই অবগত। নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক অমিতাভ-জয়ার। অনেক ভক্ত রয়েছেন যারা এই পরিবারকে ব্যক্তিগত জীবনে অনুসরণ করেন।  

উই দ্য ইউমেন-কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জয়া বচ্চন। এ আলাপচারিতায় জয়া জানান, তিনি চান না তার নাতনি নব্য বিয়ে করুক।  

আরো পড়ুন:

দীপিকার বোনের বিয়ের ঘটক রণবীর!

প্রেমের গল্প নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ধানুশ-কৃতি: বক্স অফিসের হালচাল কী?

এ আলাপচারিতায় বিয়ের আইনি ধারণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়া বচ্চন উৎসাহব্যঞ্জক বাক্য ছুড়ে দিয়ে বলেন—“জীবন উপভোগ করুক।” এরপর তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, নব্য যদি আপনার মতো বিয়ের পর ক্যারিয়ার ছেড়ে দেয়, তবে কি জয়া বচ্চন তাতে রাজি থাকবেন? উত্তরে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি চাই না নব্য বিয়ে করুক।” 

সঞ্চালক জয়াকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কী মনে করেন বিয়ে একটি সেকেলে প্রতিষ্ঠান। তখন ‘অভিমান’ অভিনেত্রী বলেন, “আজকের প্রজন্ম যে কাউকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।” 

বিয়ে প্রসঙ্গে ফিরে জয়া বচ্চন বিয়েকে ‘দিল্লিকা লাড্ডুর’ সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, “আপনি যদি এটি খান তবে বিপদে পড়বেন, আর না খেলেও আফসোস করবেন।” 

অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের দুই সন্তান। কন্যা শ্বেতা বচ্চন ও পুত্র অভিষেক বচ্চন। নিখিল নন্দার সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন শ্বেতা বচ্চন। এ দম্পতির মেয়ে নব্য নাভেলি নন্দা। যুক্তরাষ্ট্রের ফোরডাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিজিটাল টেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে নিজের ‘আরা’ নামে স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। 

অনেকদিন ধরে গুঞ্জন উড়ছে—বলিউডে নাম লেখাতে চান নব্য। তবে এখনো বলিউড সিনেমায় তার অভিষেক ঘটেনি। তবে এর আগে একটি বহুজাতিক সংস্থার বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন নব্য। 

স্নাতক সম্পন্ন করার পর কিছু দিন পড়াশোনা থেকে বিরতি নেন নব্য। নিজে পডকাস্ট শুরু করেছিলেন। নানি জয়া বচ্চন ও মা শ্বেতা বচ্চন দু’জনেই তার শোয়ে অতিথি হয়ে এসেছিলেন। নব্যর বাবা নি‌খিল নন্দা শিল্পপতি। নি‌খিলের প্রতিষ্ঠানের অন্যতম অংশীদার নব্য। 

নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন নব্য। নিজের নামে একটি বেসরকারি সংস্থা গড়ে তুলেছেন। লিঙ্গসাম্য থেকে শুরু করে নারীদের স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষা নিয়ে ভারতজুড়ে কাজ করেছেন নব্য। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবং লিঙ্গসাম্য নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন নব্য। 

গত বছর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটস অব ম্যানেজমেন্টে (আইআইম) ভর্তি হন নব্য। মুম্বাই, দিল্লি ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসা করেন নব্যর বাবা নিখিল। পড়াশোনা শেষ করে নব্য সেই ব্যবসা সামলানোর পরিকল্পনা করেছন বলেও জানা গেছে।

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত নিবন্ধ