Prothomalo:
2025-11-30@12:21:17 GMT

নামাজের নিষিদ্ধ সময়

Published: 10th, July 2025 GMT

নামাজ ইসলামের প্রধান ইবাদত। তবে শরিয়তের নির্দেশ অনুযায়ী দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ, সুন্নত বা নফল নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। এই নিষিদ্ধ সময়গুলো নির্ধারিত হয়েছে সূর্যের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে, যাতে মুসলিমরা সূর্যপূজারিদের সঙ্গে সাদৃশ্য থেকে দূরে থাকে এবং ইবাদতের শৃঙ্খলা বজায় রাখেন।

নামাজের নিষিদ্ধ সময়

নবীজি (সা.

) বলেন, ‘সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও সূর্য মধ্যাকাশে থাকার সময় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৩১ সুতরাং শরিয়তের আলোকে নামাজের জন্য নিষিদ্ধ সময়গুলো এমন—

সূর্যোদয়ের সময়: সূর্যোদয়ের শুরু থেকে সূর্য সম্পূর্ণ উঠে যাওয়া পর্যন্ত (প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট) নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। নবীজি (সা.) বলেন, ‘সূর্যোদয়ের সময় নামাজ পোড়ো না, কারণ, তখন শয়তান সূর্যের সঙ্গে থাকে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩,২৭২)

আরও পড়ুননবীজি (সা.)-এর অন্তিম সময়২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও সূর্য মধ্যাকাশে থাকার সময় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৩১

সূর্য মধ্যাকাশে থাকার সময়: সূর্য যখন আকাশের মাঝখানে থাকে (জোহরের সময়ের ঠিক আগে, প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিট), তখন নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। এটি সূর্যের শীর্ষস্থানে থাকার সময়, যখন সূর্যপূজারিদের সঙ্গে সাদৃশ্য হতে পারে।

সূর্যাস্তের সময়: ‘সূর্যাস্তের শুরু থেকে সূর্য সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।’

উকবা ইবনে আমির আল-জুহানি বলেন, তিনটি সময় আছে যখন আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের নামাজ পড়তে এবং মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করেছেন—যখন সূর্য উদিত হয়, যতক্ষণ না এটি সম্পূর্ণরূপে উদিত হয়; যখন দুপুরে সূর্য তার শীর্ষে থাকে, যতক্ষণ না এটি তার শীর্ষে চলে যায় এবং সূর্য যখন সূর্য অস্ত যায়, যতক্ষণ না এটি সম্পূর্ণ অস্ত যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৩১)

ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত: ফজরের ফরজ নামাজের পর সূর্যোদয়ের আগপর্যন্ত কোনো নফল নামাজ পড়া যায় না, তবে ফজরের সুন্নত পড়া যায় যদি ফরজের আগে মিস হয়ে যায়।

আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত: আসরের ফরজ নামাজের পর কোনো নফল নামাজ পড়া যায় না, তবে আসরের সুন্নত পড়তে চাইলে পড়া যেতে পারে।

আরও পড়ুনযেকোনো সময় এই দোয়া করা যায়০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ন ষ দ ধ সময ন ম জ র পর থ ক র সময

এছাড়াও পড়ুন:

পাখি ও প্রজাপতির বিলুপ্তিতে রাসায়নিক কৃষির দায়

আমাদের চারপাশের প্রকৃতি আজ আর আগের মতো সজীব নেই। যে রঙিন প্রজাপতিগুলো একসময় বাগানে বাগানে উড়ে বেড়াত, যে পাখিদের কলকাকলিতে ভোরবেলা জেগে উঠতাম আমরা, সেই দৃশ্য ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে।

গ্রামের মাঠে এখন আর আগের মতো দোয়েল, শালিক কিংবা বাবুই পাখির দেখা মেলে না। ফুলের বাগানে প্রজাপতির সংখ্যাও কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এই বিষাদময় পরিস্থিতির পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকলেও সবচেয়ে বড় দায় রয়েছে কৃষিক্ষেত্রে অতিমাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহারের।

একদিকে যেমন জনসংখ্যার সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে সীমিত জমিতে বেশি ফসল ফলানোর চাপও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আধুনিক কৃষিব্যবস্থায় ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকেরা নানা রকম রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আগাছানাশক ব্যবহার করছেন। কিন্তু এই রাসায়নিকগুলো শুধু ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড়কেই মারছে না, উপকারী পতঙ্গ ও পাখি মারছে। এগুলো সামগ্রিক পরিবেশের জন্য হয়ে উঠছে মারাত্মক হুমকি।

কীটনাশক ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রজাপতি ও মৌমাছির মতো পরাগায়নকারী পতঙ্গরা। এই ছোট প্রাণীগুলো আমাদের বাস্তুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজাপতি ও মৌমাছি ফুল থেকে ফুলে উড়ে বেড়ায় এবং পরাগায়নে সাহায্য করে।

এই পরাগায়নের মাধ্যমেই ফলমূল ও শস্যের উৎপাদন সম্ভব হয়। কিন্তু যখন কৃষিজমিতে বিষাক্ত রাসায়নিক ছিটানো হয়, তখন সেই বিষ প্রজাপতি ও মৌমাছির শরীরে প্রবেশ করে। অনেক সময় তারা সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়, আবার কখনো বিষক্রিয়ায় তাদের প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা কমতে থাকে এবং পুরো প্রজাতিই বিলুপ্তির হুমকিতে পড়ে। প্রজাপতির বিভিন্ন প্রজাতি এখন আর চোখে পড়ে না, যেগুলো একসময় সচরাচর দেখা যেত।

পাখিদের অবস্থাও কম করুণ নয়। গ্রামীণ এলাকায় যেসব পাখি একসময় খুব সহজেই দেখা যেত, তাদের অনেকেই এখন বিলুপ্তির পথে। শালিক, দোয়েল, বাবুই, চড়ুই এবং আরও অনেক প্রজাতির পাখির সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে গেছে। এর পেছনেও রাসায়নিক কীটনাশকের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। পাখিরা পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে।

কিন্তু যখন সেই পোকামাকড়ের শরীরে কীটনাশকের বিষ থাকে, তখন পাখিরা সেই বিষযুক্ত খাবার খেয়ে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রজাপতির মতোই অনেক সময় তারা সরাসরি মারা যায়, আবার কখনো তাদের প্রজননক্ষমতা হ্রাস পায়। এ ছাড়া অনেক পাখি প্রয়োজনীয় খাবার না পেয়ে অপুষ্টিতে ভুগছে এবং মারা যাচ্ছে। এ ছাড়া আগাছানাশক ব্যবহারের ফলে মাঠের চারপাশের লতাপাতা ও ঝোপঝাড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যেগুলো পাখিদের বাসা বানানো ও আশ্রয়ের জন্য অত্যাবশ্যক ছিল।

রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু পাখি ও প্রজাপতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি পুরো বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করছে। যখন পরাগায়নকারী পতঙ্গ কমে যায়, তখন ফসলের উৎপাদনও কমে যায়। যখন পাখি কমে যায়, তখন পোকামাকড়ের সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যায়। এতে আবার বেশি কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় এবং এভাবে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়। মাটির স্বাস্থ্যও নষ্ট হতে থাকে। কারণ, রাসায়নিক সার মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা ও মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীবদের মেরে ফেলে।

এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে কৃষিতে টেকসই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। জৈব কৃষি বা অর্গানিক ফার্মিং এর একটি ভালো বিকল্প। এতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বদলে প্রাকৃতিক সার, জৈব কীটনাশক ও ফসলের বৈচিত্র্যের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হয়। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তাঁরা বুঝতে পারেন যে স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করা ঠিক নয়। সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে এবং জৈব কৃষিতে ভর্তুকি ও সহায়তা দিতে হবে।

কারণ, একটি সুস্থ পরিবেশ ছাড়া মানুষও টিকে থাকতে পারবে না। তাই কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহার কমিয়ে টেকসই পদ্ধতি অবলম্বন করা এখন সময়ের দাবি। সবাই মিলে এই ছোট্ট প্রাণীগুলোকে রক্ষা করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রয়ে যাবে সুন্দর, সবুজ ও প্রাণবন্ত একটি পৃথিবী।

তামান্না ইসলাম শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পর্কিত নিবন্ধ