সন্তানের অপেক্ষা শেষ হয় না, অসহায় জুলাই শহীদ জুয়েলের পরিবার
Published: 10th, July 2025 GMT
পাঁচ বছরের ছোট্ট মোহাম্মদ জুবায়েত এখনও রাত হলে বাবার জন্য অপেক্ষা করে। ঘুমানোর আগে বাবার বালিশ আঁকড়ে ধরে জিজ্ঞেস করে, ‘মা, বাবা কখন আসবে?’ তার মা জুবেদা খাতুন চোখের পানি চেপে রাখেন, উত্তর দিতে পারেন না। কারণ তার বাবা জুয়েল মিয়া আর কোনোদিনই ফিরবেন না।
গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান গার্মেন্টস শ্রমিক জুয়েল মিয়া (৪২)। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কাকদা গ্রামের দিনমজুর আবদুল হাইয়ের ছেলে। থাকতেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনায় ভাড়া বাসায়।
সেই দিনের কথা মনে করে কাঁদতে কাঁদতে জুবেদা খাতুন বলেন, ‘‘সেদিন দুপুরে স্বামী কল করে বলেছিল, দেশের অবস্থা খারাপ। বাইরে বের হয়ো না। আমি রাস্তায় আছি। চারদিকেই মানুষ।’’
কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় খবর আসে জুয়েল গুলিবিদ্ধ। ছুটে গিয়ে তিনি দেখেন, স্বামী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। কয়েকটি হাসপাতালে নিলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
‘‘কয়েকটা গুলি শুধু আমার স্বামীকে শেষ করল না, আমার সংসারটাও শেষ করে দিলো।’’ কাঁদতে কাঁদতে বলেন জুবেদা।
দীর্ঘ দেড় যুগের দাম্পত্যজীবনে এক যুগ পর জুবায়েতের জন্ম হয়। বাবা জুয়েল ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন। আজ সেই ছেলে বাবার স্মৃতি বুকে নিয়ে বড় হচ্ছে। আর সংসারের হাল ধরে একা লড়ছেন জুবেদা।
স্বামীর আয়ে চলত অসুস্থ শ্বশুর-শাশুড়িসহ পুরো সংসার। সেই আয়ে ছেদ পড়েছে। বৃদ্ধ শ্বশুরকে অসুস্থ শরীর নিয়েই অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করতে হয়।
জুয়েলের ভায়রা ভাই আরিফুর ইসলাম সরকার জানান, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিয়মিত মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন জুয়েল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুর ভয় করেননি। কিন্তু আজ তার পরিবার নিঃস্ব।
স্বামীর ইচ্ছা ছিল একমাত্র ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়ানোর। সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন জুবেদা।
তিনি বলেন, ‘‘সরকার যেটুকু সাহায্য দিয়েছে, তা দিয়ে তো সংসার চলে না। সন্তান মানুষ করা, চিকিৎসা, সংসারের খরচ সব কিছুতেই এখন অনিশ্চয়তা।’’
জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবারগুলো কেমন আছে, সন্তানদের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা আদৌ কি বাস্তবায়িত হবে? নাকি কেবলই চোখের জলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে পরিবারের সদস্যদের? এখনো জানেন না জুবেদার মতো বহু ভুক্তভোগী।
ঢাকা/এস
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
‘ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ নিতে হবে’
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে এখন থেকে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সিলেটের আলমপুর বিআরটিসি বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মাস্টার ইন্সট্রাক্টর সার্টিফিকেট প্রাপ্তির লক্ষ্যে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মানের লাইসেন্স নিশ্চিত করতে ৬০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’’
তিনি বলেন, দেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৭৩ শতাংশের কারণ মোটরসাইকেল। এ সময় সবাইকে মানসম্পন্ন ও বিআরটিএ অনুমোদিত হেলমেট ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিআরটিএর পরিচালক রুবাইয়াৎ-ই-আশিক। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআরটিএ সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী ডালিম উদ্দিন।
ঢাকা/রাহাত/রাজীব