পয়ঃনিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি হলে কাদামাটিতে একাকার হয়ে যায় উঠান। বেশির ভাগ টিউবওয়েল নষ্ট। চলাচলের রাস্তাগুলোও বেহাল। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। এ চিত্র সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের।
নানা সমস্যার কারণে সুবিধাভোগীদের অনেকেই প্রকল্পের ঘরে থাকতে চান না। স্ট্যাম্পে সই করে অন্যদের কাছে বেশ কয়েকটি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরইমধ্যে তিনটি প্রকল্পের পাঁচটি ঘর বিক্রির প্রমাণ মিলেছে। ত্রিশ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় এসব ঘর বিক্রি করা হয়েছে।
শ্যামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি হেলাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ঘর বিক্রির বিষয়টি জেনেছি। এর সত্যতাও পাওয়া গেছে। বাসিন্দারা গোপনে ঘর বিক্রি করেন। ক্রেতারা বসবাস করার পর আমরা জানতে পারি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে উপজেলার আট ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩৫৬টি ঘর। এরমধ্যে দেশিগ্রাম ইউনিয়নের বড় মাঝদক্ষিণায় ৪৮টি, শ্যামপুরে ৩৫টি, তালম ইউনিয়নের গুল্টা এলাকার খ্রিষ্টান মিশনারি পাড়ায় ১৩টি, গুল্টা কলেজপাড়ায় ৬টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাকিগুলো বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
শ্যামপুর ইউনিয়নে তিনটি, বড় মাঝদক্ষিণায় ১০ থেকে ১২টি ঘর, গুল্টা কলেজপাড়ায় ১৮ থেকে ২০টিসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পে সুফলভোগীরা বসবাস করেন না। এসব ঘরে তালা ঝুলছে। ব্যতিক্রম দেখা গেছে, গুল্টা খ্রিষ্টান মিশনারি পাড়ায়। এ প্রকল্পে ১৩টির ঘরে বসবাস করছেন সুফলভোগীরা।
৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় ঘর বিক্রি
উত্তর শ্যামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশিগ্রাম ইউনিয়নের বলদীপাড়া গ্রামের নাজমা খাতুন একটি ঘর পেয়েছিলেন। সেই ঘর তিনি উত্তর শ্যামপুর গ্রামের সাগর হোসেনের কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। এ প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা দেওঘর গ্রামের জবেদা খাতুন টাগড়া গ্রামের মো.
এ প্রকল্পে ঘর সুফলভোগী হাড়িসোনা গ্রামের জহুরুল ইসলাম, দেশিগ্রামের শারমীন খাতুন, তাড়াশের ছানা, বুলবুলি খাতুনসহ ১০ থেকে ১২ জন তাদের জন্য বরাদ্দ ঘরে থাকেন না। দু’একজন কাজের সুবাদে ঢাকা বা অন্যত্র থাকলেও বেশির ভাগ বাসিন্দা আগের বাসস্থানেই রয়ে গেছেন। ঘর তালাবদ্ধ রেখে তারা বিক্রির পাঁয়তারা করছেন বলে জানা গেছে।
একই চিত্র দেখা গেছে বড় মাঝদক্ষিণা আশ্রয়ণ প্রকল্পে। এ প্রকল্পে বাসিন্দা তেঘরী গ্রামের ফয়েজ আলী ও কর্ণঘোষ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ১ লাখ টাকা করে তাদের নামের বরাদ্দের ঘর বিক্রি করেছেন। এ বিষয়ে কথা বলতে ফয়েজ আলী ও আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা কথা বলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড় মাঝদক্ষিণা আশ্রয়ণের এক বাসিন্দা বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি আশ্রয়ণের ঘর বিক্রি হয়েছে। আপনারা খোঁজ নিলে তথ্য পাবেন।’
দেশিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাক বলেন, ‘ঘর বিক্রি, ঘরে না থাকা বিষয়গুলো অনেকেই জানান। তবে লিখিতভাবে কেউ জানান না।’
কেন থাকেন না সুফলভোগীরা
প্রকল্পের সুফলভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে যারা প্রকল্পে বসবাস করছেন তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে যায়। অনেক কষ্টে বসবাস করতে হয় তাদের। বেশির ভাগ সুপেয় পানির নলকূপ নষ্ট। কোনো কাজ না থাকায় ছেলেমেয়েদের মুখে দুমুঠো খাবার অনেক সময় জোটে না। এ কারণে অনেকেই ঘরে তালা দিয়ে চলে গেছেন শহরে কাজের সন্ধানে। এছাড়া তদবির, জনপ্রতিনিধিদের পছন্দের লোকজন বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সামর্থ্যবানরাও ঘর বরাদ্দ পান। সংগত কারণে তারা সেই ঘরে থাকেন না। বিক্রি করে দিয়ে চলে যান। এ সব তথ্য জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি।
শ্যামপুর প্রকল্পের বাসিন্দা মকবুল হোসেন জানান, এ প্রকল্পের সাতটি টিউবওয়েলের ৩টিই নষ্ট। নালাগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো। আশ্রয়ণের ভেতরে ও বাইরে চলাচলের রাস্তা কাদামাটিতে একাকার। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। এ সব কারণেও অনেকে সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও তাতে থাকতে চান না।
উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি ঘর বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তি নিজ সন্তান ছাড়া অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন না। তাড়াশে গোপনে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর বা টিপসইয়ের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া ঘর বিক্রি করছেন সুফলভোগীরা।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, ‘ঘর বিক্রির বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। এখন জানলাম। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: এ প রকল প প রকল প র স ফলভ গ র র বর দ দ ঘর ব ক র বর দ দ প করছ ন উপজ ল
এছাড়াও পড়ুন:
বিপিএলের নিলাম শুরুর আগে অ্যালেক্স মার্শালের হুঁশিয়ারি
বিপিএলের সমান্তরালেই প্রতিবার চলে ফিক্সিং-বিতর্ক। এবার অবশ্য নিলামের ঠিক আগে গত বিপিএলে প্রশ্নবিদ্ধ ক্রিকেটারদের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। তিন সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল চূড়ান্ত তদন্ত করে বিসিবিকে পরামর্শ দিয়েছেন সন্দেহভাজনদের টুর্নামেন্ট থেকে দূরে রাখতে। বিসিবিও সেভাবেই করছে আজকের নিলাম।
র্যাডিসন হোটেলে নিলাম শুরুর আগে ভিডিও বার্তায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন অ্যালেক্স মার্শাল। বিসিবিতে প্রথমে দুর্নীতি দমন পরামর্শক হিসেবে যোগ দিলেও বর্তমানে তিনি দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন। এ ব্যাপারে মার্শাল বলেন, ‘আগের বিভিন্ন সমস্যার অনেকগুলোই স্বাধীন তদন্ত কমিটির বিস্তৃত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছিল। সেগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড সভাপতি সম্প্রতি এই ইউনিটটি গঠন করেছেন।’
ক্রিকেটে যারা কাজ করেন—খেলোয়াড়, কোচ, দল-মালিক, দল-ব্যবস্থাপনা, বোর্ড সদস্য কিংবা ইনটিগ্রিটি ইউনিট; আমরা সবাই দুর্নীতি-দমনবিরোধী নীতির আওতাভুক্ত।অ্যালেক্স মার্শাল, বিসিবি দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধানএবারের নিলাম থেকে সন্দেহভাজন ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিপিএল সামনে রেখে আমি গভর্নিং কাউন্সিলকে কিছু ব্যক্তির বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি, যাদের এই বছরের আসরে আমন্ত্রণ না জানানোটাই সমীচীন হবে। এটা অনেকগুলো প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের মধ্যে মাত্র একটি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আমরা যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোর ঘটনা আবার বিশ্লেষণ করছি, তখন কিছু মানুষকে দূরে রাখাই বেশি নিরাপদ বলে আমি মনে করেছি।’
বিপিএল নিলাম অুনষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম