১৯ বছরে স্মৃতিস্তম্ভ না হওয়ায় ক্ষোভ এলাকাবাসীর
Published: 12th, July 2025 GMT
১৯ বছর আগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর মহিলা কলেজসংলগ্ন অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ঘটেছিল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ট্রেন-বাস সংঘর্ষে প্রাণ হারান ৩৫ জন। বেদনাবিধুর দিনটি আজও ভোলেনি এলাকাবাসী। কিন্তু তাদের স্মরণে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। নির্মাণ হয়নি কোনো স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
আক্কেলপুরবাসীর ব্যানারে কর্মসূচি চলাকালে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেদিনের দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুল হামিদ ভাসানীর ছেলে হামিদ খান জনি, আরমান হোসেন কানন, মিলন চৌধুরী, আক্কেলপুর শিক্ষার্থী পরিবারের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট, শিক্ষার্থী মেরিন হোসেন, অপূর্ব চৌধুরী আশ্বিন, শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী ও নিহত-আহতদের স্বজনসহ অনেকে।
স্বজনরা বলেন, এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল। ৩৫ জন মারা গেলেন। তাদের জন্য কিছুই করা হলো না। প্রতি বছর দিনটি আসে, যায়। কিন্তু যারা হারিয়ে গেছে, তাদের জন্য একটি পাথরের ফলকও তৈরি হয়নি। সরকার শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কাজ কিছুই করেনি। এটি শুধু অবহেলা নয়, নিহতদের অপমান।
স্থানীয় বাসিন্দা আরমান হোসেন কানন বলেন, প্রতিবার এই দিনটিতে শুধু ফেসবুকে পোস্ট হয়, আর কিছুই হয় না। অথচ জায়গাটি শুধু একটি দুর্ঘটনার স্থান নয়; এটি গণশোকের প্রতীক। ১৯ বছরে একটিবারও স্থানীয় এমপি বা রেল কর্তৃপক্ষ আসেননি। অনেক অবহেলা হয়েছে। আমরা এখন স্মৃতিস্তম্ভ চাই।
আক্কেলপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল আলম বলেন, ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার কথা শুনেছি। নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা লিখিত আবেদন করলে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।
২০০৬ সালের ১১ জুলাই সকালে আক্কেলপুর মহিলা কলেজসংলগ্ন অরক্ষিত রেলগেট অতিক্রম করছিল খেয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ সময় সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে মুহূর্তেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ২৫ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১০ জন মারা যান। আহত হন অন্তত ৩০ জন। সেদিন আক্কেলপুর কলেজ মাঠে একসঙ্গে ১১ জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পৌরসভা সাত দিনের শোক ঘোষণা করে।
‘আবেগ’ ‘অন্তিমে’ খুদে শিক্ষার্থীদের স্মরণ
২০১১ সালের ১১ জুলাই। ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নিহত হয় ৪৫ কোমলমতি শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল ৩৪ জন। আশপাশের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আরও সাতজন, একজন অভিভাবক ও দু’জন ফুটবলপ্রেমী দেশব্যাপী আলোচিত এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন।
সেই দিনের ভয়াবহ ঘটনাটি স্মরণ করে গতকাল শুক্রবার শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ ও ‘অন্তিম’-এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার। আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় এ আয়োজন করে।
প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস মোস্তফা আলম সরকার। শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষক সমীরণ বড়ুয়া, রতন কুমার দাস, আবুতোরাব এসএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার দাস, নিহত শিক্ষার্থী এমরান হোসেনের বাবা আবুল কাশেমসহ অন্য অতিথিরা।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: স ম ত স তম ভ দ র ঘটন
এছাড়াও পড়ুন:
পাহাড়চূড়ায় ‘অতিকায় জাহাজ’, দূরে তাকালে সাগর, কোথায় এমন জায়গা
শীতের মিষ্টি রোদ জড়ানো নীল পাহাড়ের সারি। নিচে এক চিলতে সরু ফিতার মতো পাহাড়ি নদী। আরও দূরে তাকালে দেখা যায় সাগরের তটরেখা। উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় একটা আস্ত জাহাজের মতো বাড়ি। নাম টাইটানিক পয়েন্ট। সেখানকার আঙিনায় দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য দেখতে দেখতে বিস্ময়ে অভিভূত হতে হবে। প্রশান্তিতে ভরে উঠবে মন।
নিসর্গশোভিত এই জায়গাটি বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পাহাড়ে অবস্থিত। মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স নামের এই স্পটটি সরকারি। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় দেড় হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থান। পাশের আরেকটি পাহাড়ের উচ্চতা ২ হাজার ২৫০ ফুট।
পর্যটন কমপ্লেক্সের টাইটানিক পয়েন্টে দাঁড়িয়ে পশ্চিম দিকে তাকালে খালি চোখে দেখা যায় শত কিলোমিটার দূরের মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি। বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সূর্যাস্ত এবং সকালে বান্দরবানের উঁচু পাহাড় ভেদ করে পূর্বাকাশের সূর্যোদয় দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পাহাড়ের নিচে ম্রো, ত্রিপুরা,চাকমা, বম, মারমা সম্প্রদায়ের টংঘর, সবুজ গাছপালার সুখী ও দুঃখী নামে জোড়া পাহাড় পর্যটকদের বিমোহিত করে। জোছনা রাতে টেলিস্কোপে চাঁদ দেখা যায় গোলঘরে বসে। রাতে থাকার সুযোগও রয়েছে মিরিঞ্জা কমপ্লেক্সে। তবে এ জন্য আগে থেকে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। তবে আশপাশের পাহাড়ে বিভিন্ন রিসোর্টে রয়েছে রাত যাপন ও খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা।
যেভাবে গড়ে উঠল টাইটানিক পয়েন্টউপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স গড়ে ওঠার ইতিহাসটাও জানা গেল। তাঁরা বললেন, ২০০১ সালের শেষ দিকে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগ দেন হেলালুদ্দিন আহমদ। লামা শহরে ঢুকতে রাস্তার পাশের উঁচু পাহাড়টি দেখে দূর থেকে জাহাজের মতো মনে হয়েছিল তাঁর। ভাবলেন, পাহাড়চূড়ায় জাহাজের আদলে একটি কমপ্লেক্স তৈরির। ২০০২ সালে পাহাড়চূড়ায় পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১৬ একর পাহাড়ি ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয় টাইটানিক ভিউ পয়েন্টসহ মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ। ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন বান্দরবানের তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ আলা উদ্দিন। ২০ টাকা মূল্যের টিকিটের বিনিময়ে পর্যটকদের বেড়ানোর জন্য খুলে দেওয়া হয় কমপ্লেক্সটি।
লামার এই পর্যটন কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করে লামা উপজেলা পরিষদ। লামার বর্তমান ইউএনও মো. মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স মাঝে বেশ বেহাল হয়ে পড়ে। এরপর এর সংস্কার করা হয়। নতুন করে সংস্কারের পর দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। রাত যাপনসহ পর্যটকদের বিনোদন সুবিধা বাড়াতে কমপ্লেক্সে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে।
মিরিঞ্জা ভ্যালির পাশের পাহাড়ে তৈরি হয়েছে সুখিয়া ভ্যালি রিসোর্ট, মিরিঞ্জা হিল রিসোর্ট, মারাইংছা হিল রিসোর্ট, মেঘ মাচাং রিসোর্ট, চুংদার রিসোর্ট, ডেঞ্জার হিল রিসোর্ট, মেঘকুঞ্জ রিসোর্ট, জঙ্গলভিলা রিসোর্ট, মিরিঞ্জা ইকো রিসোর্টসহ ১০-১৫টি থাকার ঘর। প্রতিটা কক্ষের ভাড়া পড়ে ১ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। কয়েকটি রিসোর্টে তাঁবুতে রাত কাটানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়। সে ক্ষেত্রে ভাড়া গুনতে হবে ৫০০-৯০০ টাকা। তবে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের মতো অধিকাংশ পাহাড়ি রিসোর্টে গাড়িতে যাওয়া যায় না। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় পায়ে হেঁটে কিংবা মোটরসাইকেলে যেতে হয়। রিসোর্টে যেতে মোটরসাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়।সংস্কারের পর টাইটানিক পয়েন্টের সৌন্দর্য অনেকখানি বেড়েছে। ২০ নভেম্বর এই কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেল, সমতল থেকে টাইটানিক ভিউ পয়েন্টে ওঠার সিঁড়িতে নতুন করে রেলিং লাগানো হয়েছে। জাহাজের আদলে তৈরি ভবনের চারপাশেও নতুন রেলিং দেওয়া হয়েছে। কমপ্লেক্সের মাঝে তৈরি হয়েছে নজরকাড়া একটি মাস্তুলও।
হাড়ের নিচে ম্রো, ত্রিপুরা, চাকমা, বম, মারমা সম্প্রদায়ের টংঘর, সবুজ গাছপালার সুখী ও দুঃখী নামে জোড়া পাহাড় পর্যটকদের বিমোহিত করে। সম্প্রতি বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স থেকে তোলা