সিলেটে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তবে কোনো নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে মনে করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন ধরে সিলেটের নদ-নদীতে ক্রমাগত পানি বেড়েই চলছে। ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলই পানি বাড়ার মূল কারণ। ভারতে বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ ছাড়া সিলেটে টানা ভারী বর্ষণও পানি বাড়ার অন্যতম কারণ।

পাউবোর তথ্যমতে, আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা, কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদ-নদীতে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে পানি বাড়ছে।

এদিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে উপজেলার নদ-নদীর পানি। গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে কোম্পানীগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরেও পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে।

আরও পড়ুনসিলেটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে নগরবাসী১৯ ঘণ্টা আগে

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী সকাল ৯টার দিকে জানান, তাঁর উপজেলার কোনো গ্রাম এখনো প্লাবিত হয়নি। তবে নদ-নদীর পানি বেড়েই চলছে। হাওরেও পানি ঢুকেছে। তাই আগাম বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানি বৃদ্ধি পেলেও কারও পানিবন্দী অবস্থায় থাকার খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। পাশাপাশি জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যোগাযোগ করলে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ প্রথম আলোকে বলেন, সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে স্বেচ্ছাসেবী, সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিক সব ধরনের উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত আছে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: নদ নদ র প ন পর স থ ত উপজ ল র ব পৎস ম

এছাড়াও পড়ুন:

৬৯ বছরের জীবনে ৫১ বছর কেটেছে গিটারের সঙ্গে, মারা গেলেন সেলিম হায়দার

ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দেশের নন্দিত গিটারিস্ট সেলিম হায়দার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ঢাকার মগবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন ফিডব্যাক ব্যান্ডের সদস্য ফোয়াদ নাসের। সেলিম হায়দারও এই ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন।

সেলিম হায়দারের ৬৯ বছরের জীবনের ৫১ বছর কেটেছে গিটারের সঙ্গে। দেশের প্রখ্যাত বেশিরভাগ শিল্পীর সঙ্গে বাজিয়েছেন তিনি। মাসখানেক আগে সেলিম হায়দার প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এরপর নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সম্প্রতি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেলিম হায়দারকে। ২৪ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন তিনি। ২৭ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেলিম হায়দার

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • গিটারিস্ট সেলিম হায়দারের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রুনা লায়লা
  • ৬৯ বছরের জীবনে ৫১ বছর কেটেছে গিটারের সঙ্গে, মারা গেলেন সেলিম হায়দার