এক পত্রের পরীক্ষায় প্রশ্ন অন্য পত্রের, ৬ জনকে অব্যাহতি
Published: 12th, July 2025 GMT
যশোর বোর্ডের অধীনে কুষ্টিয়ার আদর্শ ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ ছয়জনকে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিতরণ করা ভুল প্রশ্নপত্র নতুন করে ছাপার কাজ চলছে। এ ঘটনায় যশোর শিক্ষা বোর্ড ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো.
শুক্রবার (১১ জুলাই) শিক্ষা বোর্ড থেকে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। তদন্ত কমিটি বলছে, প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে আসার আগে যে ধাপগুলো আছে, সেই হিসেবে এক পরীক্ষার প্রশ্ন আরেক পরীক্ষায় আসা অনেকটা অসম্ভব বলা যায়।
ট্রেজারিতে প্যাকেটবন্দির সময় যদি সতর্কতার সঙ্গে কাজগুলো করা হয়, তাহলে এ ধরনের ঘটার সম্ভাবনা থাকে না। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা কলেজের চার শিক্ষকের ভুলের কারণেই এমনটা হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত টিম আদর্শ ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে আসে। সেখানে বেলা ৩টা পর্যন্ত তারা অবস্থান করেন। এরপর তদন্ত কাজ শেষ করে বের হয়ে যান।
এর আগে গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আজব আলী জোয়ার্দ্দারকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করে নতুন করে তিন সদস্যের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।
অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও কেন্দ্র সচিব সালাহ্ উদ্দিন, পরিচালনা কমিটির সদস্য রাজু উদ্দিন আহমেদ, সেলিম উদ্দিন, আব্দুর জব্বার, হারুনার রশিদ ও ট্যাগ অফিসার।
কেন্দ্র সচিব ও আদর্শ ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সালাহ্ উদ্দিন বলেন, ‘‘তদন্ত কমিটি লিখিতভাবে কিছু না জানালেও ওই চার শিক্ষকসহ আমাকে কেন্দ্রের পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে মো. মিজানুর রহমান বলেন, “যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নতুন করে ছাপার কাজ চলছে। আজকে রাতের মধ্যে প্রশ্নপত্র সব জায়গায় পৌঁছে যাবে। এছাড়া কেন্দ্রের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা ছয়জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
যশোর বোর্ডের তদন্ত টিম আজ কেন্দ্র ঘুরে গেছে। এর পাশাপাশি জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার আদর্শ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে মানবিক বিভাগের যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল। সৃজনশীল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৩০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার প্রশ্ন বিতরণ করা হয়।
ঢাকা/কাঞ্চন/এস
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ক পর ক ষ র পর ক ষ সদস য র র তদন ত তদন ত ক র র পর আদর শ
এছাড়াও পড়ুন:
নিখুঁত পরিকল্পনায় ‘হামাসই’ আবু শাবাবকে হত্যা করেছে
ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাসই গাজায় ইসরায়েলের মদদপুষ্ট মিলিশিয়া নেতা ইয়াসির আবু শাবাবকে হত্যা করেছে। গাজার সশস্ত্র সংগঠনটির সামরিক শাখা কাসেম ব্রিগেডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই সূত্র বলেছে, আবু শাবাবকে হত্যা করতে হামাস প্রথমে খুবই সতর্কভাবে একটি পরিকল্পনা সাজায়। তারপর সে পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রাফায় হামলা চালিয়ে আবু শাবাবকে হত্যা করে।
গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন আবু শাবাব ও তাঁর দল পপুলার ফোর্সেস। কিন্তু বেশির ভাগ ফিলিস্তিনির চোখে আদতে পপুলার ফোর্সেস ছিল গাজায় ইসরায়েলের ভাড়াটে বাহিনী, যারা শত্রুর হয়ে নিজেদের লোকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে।
বাহিনীটি মূলত রাফার পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় ছিল। ‘নিরাপদ এলাকা’ গঠনের নামে তারা মূলত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নানা দমনমূলক কার্যক্রম চালাত। যেমন তারা ফিলিস্তিনিদের বাড়ি তল্লাশি করত, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের বসানো বিস্ফোরক সরঞ্জাম অপসারণ করত, যোদ্ধাদের হত্যা করত ও অস্ত্র লুট করত।আবু শাবাবের বাহিনীতে প্রায় ১০০ সশস্ত্র যোদ্ধা ছিলেন। ইসরায়েল তাদের অস্ত্র সরবরাহ করত। আবু শাবাব ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে সব সময় গোপন করতেন বা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করতেন।
কিন্তু গত জুনে খোদ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসের বিরুদ্ধে গাজায় সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন ও সহায়তা দেওয়ার কথা জানান। যদিও নেতানিয়াহু কারও নাম উল্লেখ করেননি।
যে কৌশলে হত্যাসূত্র বলেছে, আবু শাবাবকে হত্যার পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এক তরুণ। তিনি আবু শাবাবের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে চান, এমন ভান করে পপুলার ফোর্সেসের ভেতর ঢুকে পড়েন। এরপর তিনি পরিকল্পনাটি নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেন এবং আবু শাবাবকে তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ হত্যা করেন।
ওই সূত্র আরও বলেছে, বৃহস্পতিবারের হামলাটি ছিল পুরোপুরি অতর্কিত। রাফায় আবু শাবাব ও তাঁর বাহিনীর ধারণা ছিল, তাঁদের ওপর কাসেম ব্রিগেডের যেকোনো হামলা বাইরে থেকে হবে। এ কারণে তারা হামলার সময় ইসরায়েলি ট্যাংকের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল।
কিন্তু হামলা যে নিজেদের ভেতর থেকে হতে পারে, তা সম্ভবত তারা ধারণা করতে পারেনি। এ কারণে হামাসের পাঠানো হামলাকারী সফল হতে পেরেছেন।
অথচ সম্প্রতি আবু শাবাব একটি ভিডিও প্রকাশ করে রাফায় ‘নির্মূল’ অভিযান চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সূত্রটি বলেছে, কঠিন সত্য হলো, কয়েক দিন পর তিনি এবং তাঁর সহযোগীরাই নিহত হয়েছেন এবং রাফা প্রকৃত অর্থে সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে।
গাজার দক্ষিণের শহর রাফার যে অঞ্চলগুলো ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে আবু শাবাব ও তাঁর বাহিনী সক্রিয় ছিল। বাহিনীটি মূলত রাফার পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় ছিল। ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠনের নামে তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নানা দমনমূলক কার্যক্রম চালাত। যেমন তারা ফিলিস্তিনিদের বাড়ি তল্লাশি করত, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের বসানো বিস্ফোরক সরঞ্জাম অপসারণ করত, যোদ্ধাদের হত্যা করত এবং অস্ত্র লুট করত। এর মাধ্যমে তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রামকে দুর্বল করে ইসরায়েলের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করছিল।
আবু শাবাবের বয়স ছিল ৩০-এর কোঠায়। তিনি ছিলেন দক্ষিণ গাজার তারাবিন বেদুইন গোত্রের। গত বছর প্রথমবারের মতো গাজার একটি মিলিশিয়া দলের প্রধান হিসেবে আবু শাবাবের নাম সামনে আসে। এর আগে ফিলিস্তিনিদের কাছে তিনি অচেনা ছিলেন।
অনেক ফিলিস্তিনি আবু শাবাবকে একজন অপরাধী মনে করেন। গাজার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আবু শাবাবকে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কয়েক বছর ধরে কারাবন্দী করে রেখেছিল। গাজা যুদ্ধের প্রথম দিকে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে যান।
আবু শাবাব এর আগে একটি ভিডিওতে দাবি করেছিলেন, তার সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘হামাস থেকে মুক্ত করা’ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সঙ্গে কাজ করে মানবিক সহায়তা বিতরণ করছে এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গোষ্ঠী মূলত অবরুদ্ধ জনপদে প্রবেশ করা মানবিক সহায়তা লুটপাটের জন্য দায়ী।
আরও পড়ুনগাজায় ইসরায়েলের ভাড়াটে বাহিনীর প্রধান কে এই আবু শাবাব০৫ ডিসেম্বর ২০২৫সূত্রটি আরও বলেছে, এই অভিযান প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর একটি বড় আঘাত। এটি গাজার কিছু অংশে মিলিশিয়াদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইসরায়েলের কৌশলগত পরিকল্পনাকে দুর্বল করে দিয়েছে।
আবু শাবাব তাঁর নিজের তারাবিন বেদুইন গোত্রের সমর্থনও হারিয়েছিলেন। তাঁর নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর তারাবিন বেদুইন গোত্র থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাঁর (আবু শাবাব) নিহত হওয়ার ফলে অন্ধকার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে। এ অন্ধকার অধ্যায় তারাবিন বেদুইন গোত্রের ইতিহাসকে প্রতিনিধিত্ব করে না।’
আরও পড়ুনইসরায়েল কেন গাজায় অস্ত্রধারী গুন্ডা পোষে ১১ জুন ২০২৫আরও পড়ুনগাজায় জাতিগত নির্মূল অভিযানে ইসরায়েল কি স্থানীয় বেদুইন যোদ্ধাদের ব্যবহার করছে১৪ আগস্ট ২০২৫