শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ছয়টি বসতঘর ভেঙে ঘরে থাকা সদ্য তোলা বোরো ধান ও চাল খেয়ে গেছে ৩৫ থেকে ৪০টি বন্য হাতির দল। আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার বুরুঙ্গা-কালাপানি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শেরপুর ও নালিতাবাড়ীর বন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন। এ সময় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে হাতির দলটি বন বিভাগের বাতকুচি বিট কার্যালয়ে হানা দেয়। তখন ঘরের আসবাব তছনছ করে বুরুঙ্গা-কালাপানি জঙ্গলে চলে যায় দলটি। আজ ভোরে হাতির দল বুরুঙ্গা-কালাপানি গ্রামে হানা দেয়। এ সময় গ্রামের শাহীন মিয়া, সুফিয়া বেগম, সাফিকুল ইসলাম, হাসনা ভানু, মাজেদা খাতুন ও শহর ভানুর বসতঘরের টিন ভেঙে ঘরে থাকা ১৬০ মণ ধান ও ৩০ মণ চাল খেয়ে ফেলে। হাতির উপস্থিতি টের পেয়ে ছয় পরিবারের লোকজন দ্রুত সরে পড়েন। সূর্য ওঠার আগেই হাতির দলটি আবার বরুঙ্গা-কালাপানি সীমান্তবর্তী জঙ্গলে চলে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, তখন সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। টিনে হাতির আঘাতের শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। পরে ৩৫ থেকে ৪০টি হাতির উপস্থিতি দেখে তাঁরা ভয়ে বাড়ির পেছন দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। এ সময় হাতির দল ছয় পরিবারের ঘরের বেড়ার বিভিন্ন অংশ ভেঙে ঘরে থাকা ধান–চাল সাবাড় করে দেয়।

বুরুঙ্গা-কালাপানি গ্রামের গৃহিণী মাজেদা খাতুন বলেন, ‘ঘুমের ঘোরে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে বাড়ির উঠানে ৩০ থেকে ৪০টি হাতির পাল দেখতে পাই। ভয়ে ছেলেমেয়ে লইয়া বাড়ির পিছন দিয়া সইরা গেছি। পরে ঘরের টিন ভাইঙা বস্তায় থাকা ২০ মণ ধান ও ড্রামে থাকা ৬ মণ চাল খাইয়া শেষ কইরা দিছে। অহন সংসার কেমনে চলব এই লইয়া দুশ্চিন্তায় আছি।’

খবর পেয়ে আজ সকালে শেরপুর বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শাহিন কবির ও মধুটিলা ইকোপার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলীসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।

রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.

দেওয়ান আলী প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জেনেছেন। অনেক পরিবারের ঘর ভেঙে ফেলায় মেরামত করে থাকার কোনো উপায় নেই। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বন বিভাগের কাছে আবেদন করতে বলেছেন। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শাহিন কবির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন দ্রুত ক্ষতিপূরণ পেতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: কর মকর ত বন ব ভ গ হ ত র দল পর ব র র

এছাড়াও পড়ুন:

বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন: ডব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রথমবারের মতো বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা উন্নত করার জন্য গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। ডব্লিউএইচও তাদের প্রতিবেদনটি শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) প্রকাশ করেছে। 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফিপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মালয় টাইমস।

আরো পড়ুন:

পুতুলকে নিয়ে ভাবমূর্তি সংকটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

কোভিড-১৯ এর টিকার নতুন সুপারিশমালা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন তাদের জীবদ্দশায় বন্ধ্যাত্বের সম্মুখীন হয়ে থাকে। এই অবস্থা সব অঞ্চল এবং আয়ের স্তরের ব্যক্তি এবং দম্পতিদের প্রভাবিত করে। কিন্তু তারপরও নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই কম। 

ডব্লিউএইচও’র যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান প্যাসকেল অ্যালোটি সাংবাদিকদের বলেন, বন্ধ্যাত্বের বিষয়টি ‘অনেক দিন ধরে’ অবহেলিত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নতুন গাইডলাইনটি একীভূত ও প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করবে যাতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিরাপদ, কার্যকর ও সকলের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য হয়।

ডব্লিউএইচও-এর মতে, বন্ধ্যাত্ব হলো পুরুষ ও নারী প্রজনন ব্যবস্থার একটি অবস্থা, যা ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরে গর্ভধারণ করতে অক্ষমতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই পরিস্থিতি বড় ধরনের দুর্দশা, কলঙ্ক ও আর্থিক সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ডব্লিউএইচও বলেছে, বেশ কয়েকটি দেশে বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা ও চিকিৎসার বেশিরভাগ খরচ রোগীদের বহন করতে হয়, যা প্রায়শই ‘বিপর্যয়কর আর্থিক ব্যয়’ ডেকে আনে। কিছু পরিস্থিতিতে, এমনকি ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এর একটি রাউন্ডের খরচও গড় বার্ষিক পরিবারের আয়ের দ্বিগুণ হতে পারে।

বন্ধ্যাত্বের ওপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুক্রবার প্রকাশিত প্রথম গাইডলাইনে ৪০টি সুপারিশ রয়েছে। যা বন্ধ্যাত্বের সাধারণ কারণ খুঁজে বের করার জন্য নির্দিষ্ট রোগ বা অবস্থা জানার জন্য একটি যত্ন, নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য প্রমাণ-ভিত্তিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

সম্পর্কে বয়সের ব্যবধান, যৌন সংক্রমণ সম্পর্কিত বিষয়ে অসচেতনতা, দ্বন্দ্ব, দুর্দশা এবং আর্থিক কষ্টের কারণ বন্ধ্যাত্ব বাড়ছে বলে প্রতিবেদেন উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের সেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে আরো বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাদ্য, শারীরিক কার্যকলাপ এবং তামাক ব্যবহার বন্ধের মতো জীবনধারার ব্যবস্থাগুলো সুপারিশ করা হয়েছে।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত নিবন্ধ