ফেনী সীমান্ত দিয়ে ‘পুশ ইন’ হওয়া ৩৯ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর নিজ জেলায়
Published: 27th, May 2025 GMT
ফেনীর ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে কাজ করতে গিয়ে ‘পুশ ইন’ হওয়া ৩৯ বাংলাদেশিকে নিজ নিজ জেলায় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে উপজেলা প্রশাসন। তাঁদের অধিকাংশই কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বাসিন্দা।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, সীমান্তবর্তী ভারত থেকে পুশ ইনের পর আটক হওয়া ২৭ জন গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল। ফুলগাজী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের একটি কক্ষে পাঁচ দিন অবস্থান শেষে গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, আটক ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জন কুড়িগ্রাম ও ২ জন গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা। প্রত্যেকের পরিচয় শনাক্ত শেষে নিজ নিজ উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে ছাগলনাইয়া উপজেলা সীমান্তে পুশ ইন হওয়া ১২ বাংলাদেশি নাগরিককে গত রোববার বিকেলে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবল চাকমা বলেন, পুশ ইনের পর থেকে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। কুড়িগ্রামে দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ ওই ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। পরে স্বজনের উপস্থিতিতে আটক ব্যক্তিদের কুড়িগ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে পুশ ইন হওয়া ব্যক্তিরা পুলিশকে জানান, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজের সন্ধানে তাঁরা কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়া স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ভারতে চলে যান। ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের খরগোদায় ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেখানে ইটভাটার মালিকের কাছে বেতন চাইলে বাংলাদেশে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হতো এসব শ্রমিককে।
উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশ সূত্র জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ২২ মে ভোররাতে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা সদর ইউনিয়নের পূর্ব সীমান্তের খাজুরিয়া এলাকা দিয়ে ১২ জন, পশ্চিম সীমান্তের নোয়াপুর এলাকা দিয়ে ৮ জন ও গাবতলা এলাকা দিয়ে ৭ জনকে পুশ ইন করে। এ সময় বিজিবির ৪ ফেনী ব্যাটালিয়ন ও ১০ কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন টহল দলের সদস্যরা ২৭ জনকে আটক করেন। পরবর্তী সময়ে আটক ব্যক্তিদের ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি। একই দিন বিএসএফ বাংলাদেশের ছাগলনাইয়া উপজেলার মটুয়া সীমান্তে ১২ জনকে পুশ ইন করে। পরে বিজিবি তাঁদের আটক করে ছাগলনাইয়া থানায় হস্তান্তর করে। তাঁদের মধ্যে ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী অন্তত ১০টি শিশু ভারতে জন্মগ্রহণ করেছে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: কর মকর ত প শ ইন উপজ ল
এছাড়াও পড়ুন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাশ নিয়ে স্বজনদের থানায় অবস্থান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা সাবেক ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম হোসেনের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা। মামলা নেওয়ার দাবিতে থানা চত্বরে লাশ রেখে অবস্থান করেন তারা।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করে মামলা এফআইআর করার পর থানা ছেড়ে যান অবস্থানকারীরা।
নিহত সাদ্দাম হোসেন (৩৫) সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। তিনি শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির মোস্তফা কামাল ওরফে মস্তুর ছেলে। তার স্ত্রী এবং সাত ও দুই বছরের দুটি মেয়ে আছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্দিপাড়ার বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন ও একই এলাকার বাসিন্দা সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদারের মধ্যে সম্প্রতি ভারতীয় চোরাচালান শাড়িসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা নিয়ে বিরোধ চলছিল।
এর জেরে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে কান্দিপাড়ার মাদ্রাসার রোডে পপুলার প্রেসের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে শাকিল সিকদারকে বন্দুক হাতে গুলি করতে দেখা যায়। এতে কান্দিপাড়ার টুটুল মিয়া (৪৬), শিহাব উদ্দিন ওরফে সোয়েব (২৭) ও মো. সানজু (২২) গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়।
নিহত সাদ্দামের বাবা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সাদ্দাম বাসায় ভাত খাচ্ছিল। তখন দেলোয়ার হোসেন, তার সহযোগী পলাশ ও বাবুল মিয়া বাড়ি থেকে সাদ্দামকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত দুইটার দিকে সাদ্দাম গুলিবিদ্ধ হয়েছে শুনতে পাই। কান্দিপাড়ার শংকর শাহবাড়ির পাশের খালপাড় নতুন সেতুর ওপরে গিয়ে দেখি, দুজন সাদ্দামকে টানাহেঁচড়া করে তোলার চেষ্টা করছে। তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
তিনি আরো বলেন, “সাদ্দামের বুকে গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। ওড়না খুলে বুঝতে পারি, ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। দেলোয়ার হোসেন, বাবুল ও পলাশ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। তারা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এ কাজ করেছে।’’
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনরা নিহতের লাশ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা দেলোয়ার হোসেনসহ জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে তারা লাশ নিয়ে সদর থানায় যান। থানা চত্বরের নিয়ামতের লাশ রেখে তারা মামলার দাবিতে অবস্থান করেন। থানার ফটকের বাইরে স্বজনদের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার লোকজন জড়ো হন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, “তারা মামলার জন্য অপেক্ষা করছিল। এজাহার জমা দেওয়ার পর মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে তারা ফিরে গেছেন।”
ঢাকা/পলাশ/এস