রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে একত্রিত করে বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দেওয়া হলেও নাম প্রস্তাব ছাড়া আর কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন ওসব কলেজের শিক্ষার্থীরা।

রবিবারের (১৮ মে) মধ্যে দাবি না মানলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগসহ পাঁচ দফা দাবি না মানলে ১৯ মে থেকে আবারও মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৭ মে) ইডেন মহিলা কলেজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা জানানো হয়।

আরো পড়ুন:

বাকৃবিতে ঢাবির পুনঃভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিতি ৭৩.

০৮ শতাংশ

স্যারের চেম্বারে পড়া বুঝতে গিয়েছিলাম, দাবি সেই ছাত্রীর

শিক্ষার্থীদের পক্ষে যৌথভাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিমের সদস্য তানজিমুল আবিদ ও জাফরিন আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে জাফরিন আক্তার বলেন, “আমরা আমাদের শিক্ষার অধিকারটুকু চাই। আমরা আর রাজপথে নামতে চাই না। আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়েছি। তবে রাষ্ট্র বারবার আমাদের পড়ার টেবিল ছেড়ে রাজপথে ফিরতে বাধ্য করেছে।”

তিনি বলেন, “রবিবারের মধ্যে যদি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তাহলে সোমবার (১৯ মে) থেকে আমরা আবার মাঠের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো। পরবর্তী এ কর্মসূচি কেমন হবে, সেটা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেব। একই সঙ্গে আমরা বাকি দাবিগুলোর বিষয়েও নজর রাখব। আমাদের যদি আবার মাঠে নামতে হয়, তাহলে এবার রাজপথ থেকেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরব।”

জাফরিন আরো বলেন, “সাত কলেজের ঢাবি অধিভুক্তি বাতিলের পর চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি এ কলেজগুলো পরিচালনায় একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রস্তাব করে যে প্রশাসন অধিভুক্তি বাতিল ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে দায়িত্ব পালন করবে। তবে অন্তর্বর্তী প্রশাসন বিষয়ে ইউজিসির প্রস্তাবনার আড়াই মাস পার হলেও এখনো সেটির চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি। এতদিন আমরা শুনে এসেছি, এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।”

শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি
১. রবিবারের (১৮ মে) মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
২. অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের পর সেশনজট নিরসনসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে ও অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার বানাতে হবে।
৩. ভুতুড়ে ফলের সমাধান, বিভিন্ন ইস্যুতে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং যাবতীয় অসঙ্গতিগুলো স্পষ্টভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
৪. অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের পরবর্তী দুই কার্যদিবসের মধ্যে ২৪-২৫ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিতে হবে এবং আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়য়ের রূপরেখা, লোগো মনোগ্রাম প্রকাশ করতে হবে।
৫. সর্বশেষ আগামী ১৬ জুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। একইসঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাজেটে নির্ধারণ করতে হবে।

ঢাকা/রায়হান/সাইফ

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর রব ব র র

এছাড়াও পড়ুন:

বিপিএল নিলাম আজ, যা যা জানা প্রয়োজন

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১২তম আসরের খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়া ‘প্লেয়ার্স অকশন’ বা খেলোয়াড় নিলাম আজ বিকেল ৪টায় রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। ছয় ফ্রাঞ্চাইজিদের নিয়ে হবে বিপিএলের পরবর্তী আসরের খেলোয়াড় নিলাম।

এই প্রক্রিয়া আগে ছিল, প্লেয়ার্স ড্রাফট। প্লেয়ার্স ড্রাফট ছিল অনেকটাই ভাগ‌্যের পরীক্ষা। সফলতা-ব‌্যর্থতা নির্ভর করতো ভাগ‌্যের ওপর। নতুন করে বিপিএল শুরুর অপেক্ষায় থাকা বিপিএলে তাই পুরোনো দল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বাদ। ড্রাফট বাদ দিয়ে নিলামের মাধ‌্যমে দল গোছানোর সুযোগ পাচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজিরা। সেখানে অবশ‌্য নির্দিষ্ট সীমানা ঠিক করে দিয়েছে বিসিবি।

নিলামের আগে যা যা জানা প্রয়োজন এক নজরে তা দেখে নেওয়া যাক,

নিলাম কবে, কখন, কোথায়:

৩০ নভেম্বর, বিকেল ৪টা, হোটেল র‌্যাডিসন
নিলামে অংশগ্রহণ করবে কারা:
ঢাকা ক‌্যাপিটালস, সিলেট টাইটান্স, রংপুর রাইডার্স, নোয়াখালী এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম রয়‌্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

নিলামে কত ক্রিকেটার

বিসিবির পাঠানো চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা থেকে জানা গেছে, নিলামে উঠবেন ১৪৭ স্থানীয় ক্রিকেটার। বিদেশি ক্রিকেটার আছেন ২৬০ জন।

ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য

স্থানীয় ১৪৭ ও বিদেশি ২৬০ ক্রিকেটারের জন‌্য আলাদা আলাদা ক‌্যাটাগরি এবং আলাদা আলাদা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দিয়েছে বিসিবি। স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন‌্য পারিশ্রমিকের ছয়টি ক‌্যাটাগরি করেছে বোর্ড। এ ক‌্যাটাগরির পারিশ্রমিক ৫০ লাখ। এরপর যথাক্রমে ৩৫, ২২, ১৮, ১৪ ও ১১ লাখ। বিদেশি খেলোয়াড়দের জন‌্য পাঁচটি ক‌্যাটাগরি করা হয়েছে। এ ক‌্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ৩৫ হাজার ডলার। এরপর রয়েছে বি, সি, ডি এবং ই। পারিশ্রমিক যথাক্রমে ২৫, ২০, ১৫ ও ১০ হাজার ডলার।

কীভাবে হবে নিলাম

স্থানীয় ক্রিকেটারদের এ ক‌্যাটাগরিতে প্রতিটি ডাকে মূল‌্য বাড়ানো যাবে ৫ লাখ টাকা। বি ক‌্যাটাগরির প্রতিটি ডাক মূল‌্য ৩ লাখ টাকা। এরপর সি ক‌্যাটাগরিতে ১ লাখ, ডি-ই-এফ ক‌্যাটাগরিতে প্রতিটি ডাকের মূল‌্যা ৫০ হাজার টাকা।  বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি অনুসারে যথাক্রমে প্রতি ডাকে বাড়বে ৫ হাজার ডলার, ৩ হাজার ডলার, ২ হাজার ডলার, ১ হাজার ৫০০ ডলার এবং ১ হাজার ডলার।

সরাসরি চুক্তিতে স্থানীয় ক্রিকেটার

মেহেদী হাসান মিরাজ (সিলেট টাইটান্স), নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স), মোস্তাফিজুর রহমান (রংপুর রাইডার্স), নুরুল হাসান সোহান (রংপুর রাইডার্স), তাসকিন আহমেদ (ঢাকা ক‌্যাপিটালস), সাইফ হাসান (ঢাকা ক‌্যাপিটালস), হাসান মাহমুদ (নোয়াখালী এক্সপ্রেস), সৌম‌্য সরকার (নোয়াখালী এক্সপ্রেস), শেখ মেহেদী হাসান (চট্টগ্রাম রয়‌্যালস), তানভীর ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়‌্যালস), নাজমুল হোসেন শান্ত (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) ও তানজিদ হাসান তামিম (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স)।
 

সরাসরি চুক্তিতে বিদেশি ক্রিকেটার

অ‌্যালেক্স হেলস (ঢাকা ক‌্যাপিটালস), উসমান খান (ঢাকা ক‌্যাপিটালস), আহমেদ আবরার (চিটাগং রয়‌্যালস), মোহাম্মদ নওয়াজ (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), শাহিবজাদা ফারহান (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), খাজা নাফি (রংপুর রাইডার্স), শাফিয়ান মুকিম (রংপুর রাইডার্স),  সাইম আইয়ুব (সিলেট টাইটান্স), মোহাম্মদ আমির (সিলেট টাইটান্স), কুশল মেন্ডিস (নোয়াখালী এক্সপ্রেস) ও জনসন চার্লস (নোয়াখালী এক্সপ্রেস)।

স্থানীয় ক্রিকেটারদের ক্রয়সীমা

সর্বনিম্ন ১৪ জন স্থানীয় ক্রিকেটার ফ্রাঞ্চাইজিতে থাকতেই হবে। সর্বোচ্চ ১৬ জন স্থানীয় ক্রিকেটার রাখা হবে। সরাসরি সাইন করা বাদে দলগুলো স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন‌্য খরচ করতে পারবে সাড়ে চার কোটি টাকা। নিলাম থেকে অন্তত ১২ জন খেলোয়াড়কে কিনতেই হবে।

ক‌্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদা নিয়মও আছে। এ এবং বি ক‌্যাটাগরি থেকে ২ জন স্থানীয় ক্রিকেটার থাকতেই হবে। সি এবং ডি ক‌্যাটাগরির খেলোয়াড় থাকতে হবে ৬ জন। ই এবং এফ ক‌্যাটাগরি থেকে খেলোয়াড় থাকতে হবে ৪ জন।

বিদেশি ক্রিকেটারদের জন‌্য পৃথক নিময়

যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো বিদেশি ক্রিকেটার রেজিস্ট্রি করে বিপিএলে অংশ নিতে পারবে। নিলাম থেকে দলগুলোকে অন্তত ২ জন বিদেশি ক্রিকেটার কিনতে হবে। সরাসরি সাইন করা খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক মিলিয়ে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো বিদেশি ক্রিকেটারদের জন‌্য ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব‌্যয় করতে পারবে।

পারিশ্রমিক পরিশোধের নির্দেশনা

খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা দিয়েছে বিসিবি। মাঠে নামার আগেই ২৫ শতাংশ টাকা পাবেন ক্রিকেটাররা। আরো ৫০ শতাংশ টাকা পেয়ে যাবেন ফাইনাল লিগ খেলার আগে এবং বাকি ২৫ শতাংশ টাকা পাবেন টুর্নামেন্ট শেষ হবার ৩০ দিনের মধ‌্যে।

পরবর্তী আসরের জন‌্য..

বিপিএলের পরের আসরে যারা অংশগ্রহণ করবে তারা স্কোয়াড থেকে দুজন খেলোয়াড়কে রিটেইন করতে পারবে। বিদেশিদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। নতুন করে যদি কোনো দল আসে তারা আগেভাগেই সরাসরি সাইনে দল বাছাই করতে পারবে।

নিলাম পরিচালনা করবেন

বিপিএলে নিলাম পরিচালনা করবেন রাফে নিজাম। এর আগেও তিনি বিপিএলে কাজ করেছেন। 

 

ঢাকা/ইয়াসিন

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • বিপিএল নিলাম আজ, যা যা জানা প্রয়োজন
  • সবাই নির্বাচন চায়, তবে কমিশন দৃশ্যমান পদক্ষেপে ঢুকতে পারেনি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
  • ঢাবিতে রবিবার থেকে অনলাইনে চলবে ক্লাস কার্যক্রম
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলবে অনলাইনে, বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা